নীলফামারী প্রতিনিধি :

ছাত্রীকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে প্রেমের শুরু করেন ইংরেজির প্রভাষক সৈয়দ পাপলু মিয়া। করোনাকালে ব্যাচে শিক্ষার্থীদের ইংরেজি পড়াতেন তিনি। আর বিয়ের প্রস্তাব দেয়া ছাত্রীকে ব্যাচে ইংরেজি পড়ানোর ফাঁদে ফেলেন এ প্রভাষক। ইংরেজি পড়ানোর সুযোগে আচমকা জোরপূর্বক ছাত্রীর সম্ভ্রম কেড়ে নেন প্রভাষক। এ ঘটনায় ওই অভিযুক্ত প্রভাষককে আটক করা হয়েছে।

আটক সৈয়দ পাপলু মিয়া নীলফামারীর কিশোরগঞ্জের নয়ানখাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের ইংরেজি বিষয়ের প্রভাষক। তিনি রংপুরের পীরগঞ্জের চতরা ইউপির কাঁটাদুয়ার গ্রামের সৈয়দ আব্দুর রশিদের ছেলে।

আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তারাগঞ্জ থানার ওসি ইসমাইল হোসেন। তিনি জানান, ওই ছাত্রীর বাবা বৃহস্পতিবার রংপুরের তারাগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেছেন। এ মামলায় অভিযুক্তকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। এরপর আদালতের মাধ্যমে তাকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

মামলার তথ্যানুযায়ী ও ছাত্রীর পরিবারের অভিযোগ, ইংরেজি প্রভাষক সৈয়দ শিপলু মিয়া রংপুরের তারাগঞ্জের থানাপাড়ার নয়ানখাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের পাশে ভাড়া বাসায় থাকতেন। মহামারি করোনার প্রাদুর্ভাবের আগে কলেজের এইচএসসি দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রীকে ডেকে বিয়ের প্রস্তাব দেন পাপলু মিয়া। এতে প্রভাষককে তার অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলতে বলেন ছাত্রী। এরপর থেকে প্রভাষকের সঙ্গে মোবাইলে নিয়মিত কথা বলেনএ ছাত্রী। এক পর্যায়ে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে।

করোনাকালীন সময় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হলে মেয়েটির বাবার কাছে বিয়ে প্রস্তাব দেন প্রভাষক। মেয়ের বাবা প্রভাষককে তার অভিভাবকদের নিয়ে আসতে বলেন। এ সময় ছাত্রীকে প্রাইভেট পড়ানোর জন্য তার ভাড়া বাসায় নিয়মিত আসতে বলেন প্রভাষক। কলেজ বন্ধ থাকায় ছাত্রী অন্যান্য শিক্ষার্থীদের সঙ্গে গিয়ে প্রাইভেট পড়তেন। গত ৫ মে সকাল ১১টায় অন্যান্য দিনের মতো প্রাইভেট পড়তে যান ছাত্রী। কিন্তু বাসায় প্রভাষক ছাড়া আর কাউকে দেখতে পাননি তিনি। ওই সময় বিয়ের আশ্বাস দিয়ে ছাত্রীর সঙ্গে জোরপূর্বক শারীরিক সম্পর্ক করেন প্রভাষক।

বাড়িতে গিয়ে ঘটনাটি বললে প্রভাষককে বিয়ের জন্য তাড়া দেয় ছাত্রীর পরিবার। কিন্তু করোনা সংকট স্বাভাবিক হলেই বিয়ে করবেন বলে সময়ক্ষেপণ করেন প্রভাষক। হঠাৎ ভাড়া বাসা ছেড়ে দিয়ে নিজ বাড়ি পীরগঞ্জে চলে যান প্রভাষক। একইসঙ্গে ছাত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন।

বিষয়টি ছাত্রীর পরিবার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ ও ম্যানেজিং কমিটিকে অবগত করেন। কিন্তু উল্টো ঘটনা মিথ্যে বলে ছাত্রীর পরিবারকে সহযোগিতা করেনি তারা। এমনকি বিভিন্ন প্রভাবশালীদের হুমকি-ধমকিতে মামলা করার সাহস পায়নি তারা।

কিশোরগঞ্জের বাহাগিলি ইউপির উত্তরপাড়ার বাসিন্দা মেয়ের বাবার অভিযোগ করে বলেন, বুধবার সন্ধ্যায় হুমকি ভয়ভীতি উপেক্ষা করে মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে মামলা করতে কিশোরগঞ্জ থানায় যাই। পুলিশ সব ঘটনা শুনে জিডি দায়ের করেন। ধর্ষণের ঘটনাটি তারাগঞ্জ হওয়ায় তারাগঞ্জ থানায় যোগাযোগ করে আমাদের সেখানে পৌঁছে দেয়া হয়। এরপর তারাগঞ্জ থানায় মামলা করি।

মেয়ের বাবা জানান, ওই রাতেই পুলিশ ধর্ষককে ধরতে তার গ্রামে অভিযান চালায়। বৃহস্পতিবার ভোরে ধর্ষক প্রভাষককে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে আসা হয়।

নির্যাতনের শিকার ওই ছাত্রীর বাবা আরো জানান, বিয়ের আশ্বাস দিয়ে প্রভাষক আমার মেয়ের সম্ভ্রম কেড়ে নিয়েছে। আমি এর উপযুক্ত বিচার চাই।

তারাগঞ্জ থানার ওসি ইসমাইল হোসেন বলেন, ধর্ষণের অভিযোগে প্রভাষক সৈয়দ পাপলু মিয়ার বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা রুজু করা হয়েছে। ভুক্তভোগীর ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য আদালতের মাধ্যমে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

  • সংবাদ সংলাপ/এসইউ//রা

Sharing is caring!