মোহাম্মদ সোহেল, নোয়াখালী :
করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের এই ক্রান্তিলগ্নে দেশের চিকিৎসকদের জন্য অনেক বেশি সংকটপূর্ণ সময় বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ করোনার এই মহামারির সময়ে তাঁরা সম্মুখযোদ্ধা বা ভ্যানগার্ড হিসেবে কাজ করছেন। করোনায় আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসাসেবা দিচ্ছেন।

চলতি বছরের মার্চ মাস থেকেই নোয়াখালী জেলা শহরের নামীদামী হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা করোনার ভয়ে রোগী দেখা বন্ধ করে দেন। এই দুঃসময়ে নোয়াখালী আবদুল মালেক উকিল মেডিক্যাল কলেজের নেফ্রোলজি বিভাগের প্রধান, স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ (স্বাচিপ) নোয়াখালী জেলা শাখার সভাপতি ডা. ফজলে এলাহী খাঁন রোগীদের নিয়মিত সেবা দিয়েছেন। করোনাকালীন নোয়াখালীতে তিনি স্বাস্থ্য বিভাগের ভ্যানগার্ড হিসেবে অবতীর্ণ হন। করোনার প্রাদুর্ভাবের এই ক্রান্তিলগ্নে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে ও কিডনি ডায়ালাইসিস ইউনিটে ভর্তি রোগীদের নিয়মিত চিকিৎসাসেবা প্রদান করেন তিনি।

এছাড়া তিনি তার প্রাইভেট চেম্বারেও কিডনি ও করোনা রোগীসহ বিভিন্ন রোগীকে চিকিৎসাসেবা দিয়ে যাচ্ছেন। এ কারণে ডা. ফজলে এলাহী খাঁনকে নোয়াখালীর চিকিৎসক, রোগী ও সাধারণ মানুষ নোয়াখালী স্বাস্থ্যের ভ্যানগার্ড হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।

জেলা শহরের কিডনি রোগী আবদুস ছোবহান, নুর নাহার, কবিরহাট উপজেলার মো. সেলিম, চৌমুহনীর বিবি তাহেরা বলেন, করোনার শুরু থেকে তারা প্রতি মাসে দু’বার করে কিডনি ডায়ালাইসিস করতে হাসপাতালে এসেছেন। ডা. ফজলে এলাহী স্যারের তত্ত্বাবধানে নামমাত্র মূল্যে তারা যে সেবা পেয়েছেন তা রাজধানী ঢাকা শহরেও পাওয়া যায় না। জেনারেল হাসপাতালের কিডনি ডায়ালাইসিস ইউনিটে পরীক্ষা-নিরিক্ষাও করিয়েছেন স্বল্প মূল্যে।

এদিকে জেলা শহরের অনেক সুনামধন্য হাসপাতালে করোনাকালীন সময়ে একাধিক রোগী চিকিৎসা না পেয়ে হয়রানীর শিকার হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু শেষ আশ্রয়স্থল হিসেবে ডা. ফজলে এলাহী খাঁনের কাছে গিয়ে চিকিৎসা নিয়ে তারা অনেকেই ভালো আছেন বলে জানা গেছে।

ডা. ফজলে এলাহী খাঁন বলেন, একজন চিকিৎসক হিসেবে চিকিৎসাসেবা দেয়াই আমার পেশা। মানুষের সেবা করার জন্যই এ পেশায় যুক্ত হয়েছি। করোনার প্রাদুর্ভাবে রোগীর স্বার্থ আগে দেখেছি। পরিবারকে সময় না দিয়ে রোগীদের সেবা দিয়েছি। করোনার ভয়ে চিকিৎসকরা যদি আত্মগোপনে থাকেন তাহলে সাধারণ মানুষ যাবে কোথায়? তিনি আরও বলেন, ‘আমি জীবন ও পরিবারের মায়া ত্যাগ করে রোগীদের স্বার্থে কাজ করেছি।’

  • সংবাদ সংলাপ/এমএস/বি

Sharing is caring!