মোহাম্মদ সোহেল, নোয়াখালী :
নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে আওয়ামী লীগের বিবদমান দু’গ্রুপের বিরোধের জেরে এবার আদালতে কাদের মির্জা ও মিজানুর রহমান বাদলকে প্রধান আসামি করে পাল্টাপাল্টি মামলার অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

দু’টি মামলার অভিযোগের মধ্যে কাদের মির্জার বিরুদ্ধে করা অভিযোগটি দ্রুত বিচার আদালতে দাখিলের লক্ষ্যে ফেরত দিয়েছে আদালত।

সোমবার (১৫ মার্চ) দুপুর ১২টার দিকে নোয়াখালীর চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এসএম মোছলে উদ্দিন নিজামের আদালতে এই দু’টি মামলার অভিযোগ দায়ের করা হয়।

মামলা দু’টির বাদি পক্ষের আইনজীবী মো.হারুনুর রশীদ হাওলাদার ও শংকর কুমার ভৌমিক এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তারা জানান, দুপুরে দুটি মামলার অভিযোগের পর বিকাল তিনটা থেকে চারটা পর্যন্ত শুনানী হয়।

একটি মামলার বাদি উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আরজুমান পারভীন রুনু। তিনি তাঁর স্বামী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা খিজির হায়াত খাঁনকে মারধরের ঘটনায় বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জাকে প্রধান আসামিসহ ৯৭জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত ৪০ থেকে ৫০জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলার অভিযোগ দায়ের করেছেন।

বিকাল ৩টার দিকে নোয়াখালী আদালতের চিপ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এসএম মোছলে উদ্দিন নিজাম বাদি আরজুমান পারভীন রুনুর মামলাটি দ্রুত বিচার আদালতে দাখিলের লক্ষ্যে ফেরত দেন।

মামলার বাদি পক্ষের আইনজীবি হারুনুর রশিদ হাওলাদার জানান, গত ০৮ মার্চ বিকালে বসুরহাট পৌরসভার মেয়র কাদের মির্জার উপস্থিতিতে তার অনুসারীরা কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা খিজির হায়াত খাঁনকে মারধরের ঘটনায় কোম্পানীগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করতে গেলে থানার পুলিশ মামলা নেয়নি। তাই সোমবার কাদের মির্জাকে প্রধান আসামিসহ ৯৭জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত ৪০ থেকে ৫০জনের বিরুদ্ধে আইন শৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধ ( দ্রুত বিচার আইন) ২০০২ এর ৪/৫ তৎসহ ১৯০৮ সনের বিস্ফোরক উপাদানবলী আইনের ৩/৬ ধারায় আদালতে মামলার অভিযোগ দায়ের করেন খিজির হায়াত খাঁনের স্ত্রী আরজুমান পারভীন রুনু। মামলাটি দ্রুত বিচার আদালতে দাখিলের লক্ষ্যে ফেরত দেন আদালত। মামলাটি ফেরত দেওয়ায় আগামীকাল মঙ্গলবার (১৬ মার্চ) মামলাটি দ্রুত বিচার আদালতে দায়ের করা হবে।

অপর মামলাটির বাদি কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা যুবলীগের সহ-সভাপতি সালাউদ্দিন পিটন। তিনি বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জার অনুসারী। উপজেলার চাপরাশিরহাট বাজারে আওয়ামী লীগের দু’গ্রুপের সংঘর্ষের ঘটনায় কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মিজানুর রহমান বাদলকে প্রধান আসামিসহ ১০৫ জনের নাম উল্লেখ করে আদালতে মামলার অভিযোগ দায়ের করেন তিনি।

বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে নোয়াখালী আদালতের চিপ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এসএম মোছলে উদ্দিন নিজাম বাদি সালাউদ্দিন পিটনের মামলাটি শুনানী শেষে নোয়াখালী পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ দেন।

মামলার বাদি পক্ষের আইনজীবি শংকর কুমার ভৌমিক জানান, কোম্পানীগঞ্জের চাপরাশিরহাট বাজারে আওয়ামী লীগ অফিসের সামনে জমায়েত হওয়া আওয়ামী লীগ নেতা কর্মীদের উপর সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বাদলের নেতৃত্বে সন্ত্রাসীরা বেআইনী জনতায় মিলিত হয়ে এলোপাতাড়ি গুলি, ককটেল হামলা, লাঠি সোটা ও ইটপাটকেল নিয়ে হামলা চালায়। এ সময় আওয়ামী লীগের ৮ থেকে ১০ জন নেতাকর্মী গুলিবিদ্ধসহ দেড়শতাধিক নেতাকর্মী আহত হয়।

এ ঘটনায় বার বার থানায় গেলেও পুলিশ মামলা না নেয়ায় সোমবার কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা যুবলীগের সহসভাপতি সালাহ উদ্দিন পিটন বাদি হয়ে মিজানুর রহমান বাদলকে প্রধান আসামী করে ১০৫ জনের নামসহ আরো ১০০ থেকে ১৫০ জনকে অজ্ঞাত আসামী করে চিপ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করেন। আদালত মামলাটির শুনানী শেষে নোয়াখালী পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ দেন।

  • সংবাদ সংলাপ/এমএস/স

 

Sharing is caring!