নিজস্ব প্রতিবেদক :

রমজানে করোনাভাইরাস প্রতিরোধী টিকা কার্যক্রমে কোনো পরিবর্তন আসছে না। স্বাভাবিক নিয়মে চলবে টিকাদান।

রোজা পালন করে টিকা গ্রহণে ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে কোনো বাধা নেই জানিয়ে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

রমজানে টিকাগ্রহণের বিষয়ে রোববার আগারগাঁওয়ে দেশের শীর্ষস্থানীয় আলেমদের নিয়ে বৈঠকে বসে ইসলামিক ফাউন্ডেশন। বৈঠক শেষে আলেমদের সিদ্ধান্ত, ‘রোজা রেখে টিকাগ্রহণে কোনো বাধা নেই।’

আলেমদের ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, ডায়াবেটিক রোগীরা রোজা রেখে ইনসুলিন নিয়ে থাকেন। এ নিয়ে ধর্মীয় কোনো বিধিনিষেধ দেয়নি কেউ। ফলে করোনার টিকাতেও কোনো নিষেধ থাকার কথা নয়।

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ইমাম প্রশিক্ষণ একাডেমির পরিচালক মো. আনিসুজ্জামান সিকদার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘স্বাভাবিক সময়ে যেভাবে টিকা কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছিল, রমজান মাসেও সেইভাবে দিনের বেলায় চলবে টিকা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বৈঠকে এমন সিদ্ধান্ত আসছে। তবে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও ধর্ম মন্ত্রণালয় সংবাদ সম্মেলন করে জানাবে।’

আগামী এপ্রিলের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে এক মাসের রোজা শুরু হতে যাচ্ছে। এই মাসে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা দিনের বেলায় খাদ্য ও পানাহার থেকে বিরত থাকেন। তবে করোনার টিকা দেয়া হয় দিনের বেলাতেই।

রমজানে টিকাগ্রহণের হার কমে আসতে পারে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাই জনসচেতনতা বাড়ানোর বিষয়টিকে গুরুত্ব দিচ্ছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। আর এর অংশ হিসেবে আলেমদের ব্যাখ্যা নিয়ে রাখল সরকার।

টিকাদান কর্মসূচি স্বাভাবিক রাখতে বৈঠকে নানা বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলেও জানান আনিসুজ্জামান সিকদার। তিনি বলেন, ‘রোজা রেখে টিকা নেয়ায় ইসলামি শরিয়ায় কোনো বাধা নিষেধ নেই। তাই বিতর্ক এড়াতে ও টিকা কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে বিশেষ নজর দিয়ে দেশের সব মসজিদগুলোতে জুম্মার খুৎবায় রোজা থেকে টিকা নেয়া যাবে এটা প্রচার করতে নির্দেশ দেয়া হবে।’

টিকা নিয়ে সাধারণ মানুষের সংশয় কাটাতে ওয়াজ মাহফিল থেকেও বিষয়টি ব্যাপক হারে প্রচারের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলেও জানান ইমাম প্রশিক্ষণ একাডেমির পরিচালক। তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেক লিফলেট বিতরণ করা হবে।’

গত ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হয়েছে গণটিকা কর্মসূচি। দেশে ইতোমধ্যে এসেছে ৯০ লাখ টিকা। ৪৩ লাখেরও বেশি মানুষ টিকার প্রথম ডোজ নিয়েছেন। টিকা নিতে নিবন্ধন করেছেন ৫৫ লাখেরও বেশি মানুষ। ফলে, নিবন্ধনকারীদের অধিকাংশের টিকা নেয়ার তারিখ পড়বে রোজার মাসেই।

বৈঠকে ছিলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরাও। তিনি বলেন, ‘আগের মতোই চলবে টিকা দান কর্মসূচি। ধর্ম মন্ত্রণালয় থেকে আমাদের কাছে লিখিত নির্দেশনা আসার কথা রয়েছে। এটি এলেই স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সংবাদ সম্মেলন করে বিষয়টি জানাবে।’

টিকাদান কর্মসূচিতে কোনো পরিবর্তন আসছে না বলে নিশ্চিত করেছেন রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের-আইইডিসিআর প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা এ এস এম আলমগীর।

কারণ ব্যাখ্যায় এই কর্মকর্তা বলেন, ‘আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ইসলামি পণ্ডিতরা জানিয়েছেন যে রোজা করেও ভ্যাকসিন নিতে ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে কোন বাধা নেই। রোজা করে ইনসুলিন নিয়ে থাকেন অনেকে। সেক্ষেত্রে করোনা টিকা নেয়ার ক্ষেত্রেও সমস্যা হওয়ার কথা নয়।’

ইসলাম ধর্মানুসারীরা রোজা পালন করেন বিধায় প্রশ্ন উঠেছে, রোজা রেখে টিকা গ্রহণে ধর্মীয় দিক থেকে কোনো বাধা আছে কিনা। ইসলামি পণ্ডিতরা বলছেন, কোনো বাধা নেই। দেশের আলেমরাও একই মতামত দিয়েছেন ওই বৈঠকে। তারা জানিয়েছেন, করোনার টিকা নিতেও ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে কোনো বাধা নেই।

বিদেশি গণমাধ্যম আল আরাবিয়ার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রমজানে টিকা গ্রহণে মানুষের উদ্বেগের কথা বিবেচনা করে ব্রিটিশ ইসলামিক মেডিক্যাল গ্রুপগুলো জানিয়েছে যে, করোনা টিকা গ্রহণে মুসলিমদের রোজা ভাঙবে না। এছাড়া ব্রিটিশ ইসলামিক মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন থেকেও এ বিষয়ে বিবৃতি দেয়া হয়েছে।

সেখানেও বলা হয়েছে ইসলামি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুসারে টিকা গ্রহণের ফলে রোজা ভাঙবে না। রোজার জন্য কারোরই টিকা গ্রহণে বিলম্ব করা উচিত নয় বলেও অভিমত তাদের।

প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক এ বি এম আবদুল্লাহ বলেন, টিকার জন্য প্রচার বাড়াতে হবে। মানুষের কাছে বার্তাটি পৌঁছে দিতে হবে।

তিনি বলেন, ‘রমজানে টিকা নিতে কোনো অসুবিধা নয়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের আলেমরা এবিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে ইতোমধ্যে। শুধু করোনা ভ্যাকসিন নয়, রমজানে রোজ রেখে সকল ধরনের ভ্যাকসিন গ্রহণ করা যাবে।’

  • সংবাদ সংলাপ/এমএস/রা

Sharing is caring!