আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

ওয়াশিংটন ডিসিতে ট্রাম্প সমর্থকদের নজিরবিহীন তাণ্ডবে চার জন নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে সেখানকার পুলিশ।

জো বাইডেনকে জয়ের স্বীকৃতি দিতে ক্যাপিটল ভবনে বুধবার কংগ্রেসের যৌথ অধিবেশন শুরু হওয়ার আগে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ফল ঘুরিয়ে দেয়ার চেষ্টায় এ তাণ্ডব চালায় ট্রাম্প সমর্থকরা।

শুরুতে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছিল, ক্যাপিটল হিলে তাণ্ডবে প্রাণ হারিয়েছেন এক নারী। অ্যাশলি ব্যাবিট নামে ওই বৃদ্ধ নারী যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর সাবেক সদস্য, ছিলেন ট্রাম্পের ঘোর সমর্থক।

পরে ওয়াশিংটন ডিসি পুলিশের বরাতে জানা যায়, সহিংসতায় মোট চার জন নিহত হয়েছেন। বাকি তিন জনের মধ্যে এক জন নারী ও দুজন পুরুষ। তারা তাণ্ডবে আহত হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

ট্রাম্পের অস্ত্রধারী সমর্থকদের এমন কাণ্ডে নিন্দার ঝড় উঠেছে। নিন্দা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে জাতিসংঘ। নিন্দা জানিয়েছেন বিল ক্লিনটন, বারাক ওবামা, হিলারি ক্লিনটনের মতো ব্যক্তিত্বরা।

ঘটনার পর পরই ওয়াশিংটন ডিসিতে বুধবার সন্ধ্যা ছয়টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ছয়টা পর্যন্ত কারফিউ আরোপ করেন মেয়র মুরিয়েল বোসার। পরে আরেক বিবৃতিতে ওয়াশিংটন ডিসিতে ১৫ দিনের জরুরি অবস্থা জারি করে বিবৃতি দিয়েছেন তিনি।

ওয়াশিংটন ডিসিতে অবস্থিত কংগ্রেস ভবন ক্যাপিটল হিলকে যুক্তরাষ্ট্রের গণতন্ত্রের প্রতীক হিসেবে ভাবা হয়ে থাকে। এই হামলাকে একটি কালিমা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

১৮১৪ সালে ব্রিটিশ সেনারা পুড়িয়ে দেয়ার পর আইকনিক এই ভবনে এটাই সবচেয়ে ভয়াবহ আক্রমণ বলে জানিয়েছে ইউএস ক্যাপিটাল হিস্টোরিকাল সোসাইটি।

কংগ্রেসে অধিবেশনে শুরু হওয়ার আগে ট্রাম্প তার সমর্থকদের আহ্বান জানান, ভোটে জালিয়াতির বিষয়টির ব্যাপারে ক্যাপিটলে গিয়ে তাদের ক্ষোভ দেখানো উচিত। নির্বাচনের ফল প্রত্যাখান বিষয়ে চাপ তৈরি করা উচিত। এ জন্য সমর্থকদের লড়াইয়ে নামার আহ্বান জানিয়েছিলেন তিনি।

৩ নভেম্বরের নির্বাচনে হারার পর থেকেই ট্রাম্প ঢালাওভাবে অভিযোগ করে আসছেন, ব্যাপক জালিয়াতির মাধ্যমে তার কাছ থেকে জয় কেড়ে নিয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জো বাইডেন।

একাধিক অঙ্গরাজ্যের ভোটের ফল স্থগিত চেয়ে আদালতেও যায় ট্রাম্প শিবির। কিন্তু জালিয়াতির কোনো প্রমাণ হাজির করতে না পারায় বিচারকেরা এসব অভিযোগ আমলে নেয়নি।

গত ১৪ ডিসেম্বর ইলেকটোরাল কলেজেও বাইডেনকে জয়ী ঘোষণা করা হয়। নিয়মানুযায়ী পরের ধাপে, ভাইস প্রেসিডেন্টের সভাপতিত্বে কংগ্রেসের যৌথ অধিবেশনে ইলেকটোরালগুলো আবার গণনা করে বিজয়ীকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে ঘোষণা করা হয়।

সেই লক্ষ্যেই বুধবার অধিবেশন বসে। কিন্তু শুরু হতেই ট্রাম্প সমর্থকদের হাঙ্গামায় সাময়িক স্থগিত হয়ে যায় অধিবেশন।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এসেছে বলে দাবি করেছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স। তিনি বলেন, ‘ক্যাপিটলে আজ যারা ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে তারা জিততে পারেনি। আসুন কাজে ফিরে আসি।’

উচ্চকক্ষ সিনেটের রিপাবলিকান নেতা মিচ ম্যাককনেল বলেছেন, ‘আমরা ২০২০ সালের নির্বাচনে বিজয়ীকে স্বীকৃতি দিয়ে দেব।’

অধিবেশনে অনুমোদন পেয়ে গেলে ২০ জানুয়ারি দুপুরে যুক্তরাষ্ট্রের ৪৬ তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেবেন বাইডেন।

প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ৫৩৮টি ইলেকটোরাল কলেজের মধ্যে ৩০৬টিতে জয় পান বাইডেন। বিপরীতে ট্রাম্প জয় পান ২৩২টিতে।

  • সংবাদ সংলাপ/এমএস/বি

Sharing is caring!