নিজস্ব প্রতিবেদক :

রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন কর্মকর্তার দায়িত্ব গ্রহণের দিন দুই অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেলের পদত্যাগ। প্রকাশ্য কারণ ব্যক্তিগত হলেও আলোচনা আছে নতুন নিয়োগ নিয়ে অসন্তোষের। শুরুতেই চ্যালেঞ্জ এ এম আমিন উদ্দিনের সামনে।

তবে নতুন অ্যাটর্নি জেনারেল বলেছেন, দুই ডেপুটির সরে যাওয়া তার দপ্তরে কোনো প্রভাব পড়বে না।

২০০৯ সাল থেকে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করে আসা মাহবুবে আলম মারা গেছেন গত ২৭ সেপ্টেম্বর। শূন্য পদে ৮ অক্টোবর আমিন উদ্দিনকে নিয়োগ দেয় সরকার।

দুই দিন সাপ্তাহিক ছুটি শেষে রোববার দায়িত্ব গ্রহণ করেন আমিন। প্রথমে করেন শুনানি। এরপর হয় আইনজীবী ও বিভিন্ন সংগঠনের শুভেচ্ছা বিনিময়। পরে মুখোমুখি গণমাধ্যমকর্মীদের।

আমিনের কার্যালয়ে আসার সকালে বড় সংবাদ দুই অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেলের পদত্যাগ। দায়িত্ব ছেড়ে দেন মোমতাজ উদ্দিন ফরিদ ও মুরাদ রেজা।

গণমাধ্যম কর্মীদের প্রথম প্রশ্ন এই বিষয়েই। এই পদত্যাগ দায়িত্ব পালনে কোনো অসুবিধা তৈরি করবে কি না।

আমিন উদ্দিন বলেন, ‘অ্যাটর্নি জেনারেল অফিসে সবসময় আসা-যাওয়া থাকেই। উনারা হয়ত অনেক দিন কাজ করেছেন, ব্যক্তিগত কোনো সমস্যার কারণে উনারা হয়ত আর থাকছেন না। আমার সঙ্গে উনাদের কথা হয়নি।’

‘এখন সরকার যদি তাদের পদত্যাপত্র গ্রহণ করেন তাহলে সরকার অবশ্যই আরও দুজন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল নিয়োগ দেবেন।’

রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ দিয়ে আমিন উদ্দিন বলেন, ‘রাষ্ট্রের পক্ষে কাজ করার জন্য রাষ্ট্র আমাকে নিয়োগ দিয়েছে। অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে আমি রাষ্ট্রীয় সকল দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করব। আমি আমার সর্বোচ্চটুকু দিয়ে দায়িত্ব পালন করার চেষ্টা করব।’

অগ্রাধিকার কী পাবে- এমন প্রশ্নে আমিন তোলেন প্রয়াত অ্যাটর্নি জেনারেলের কথা। বলেন, ‘দক্ষতা ও সততায় মাহবুবে আলম এই অফিসটাকে, এই পদটাকে যে উচ্চতায় নিয়ে গেছেন, আমি চেষ্টা করব সেটা বজায় রাখার জন্য। আমি চেষ্টা করব তিনি যে উচ্চতা সৃষ্টি করে গেছেন, সেটা নিম্নগামী হতে না দেওয়া।’

আদালতে অনিয়ম ‍দুর্নীতি দূর, মামলা জট কমানো নিয়েও নিজের প্রত্যাশার কথা বলেন আমিন উদ্দিন। চান সাংবাদিকদের সহযোগিতা।

নতুন আইন কর্মকর্তা বলেন, ‘আপনারা যদি আমাদের সহযোগিতা করেন, তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করেন তাহলে দুর্নীতি বন্ধ করা অনেক সহজ হবে। আমি অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে এবং সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি হিসেবে যেকোনো ধরনের দুর্নীতিকে প্রতিরোধ করার চেষ্টা করব।’

মামলা জটের সমাধান কীভাবে হবে- এমন প্রশ্নে আমিন বলেন, ‘আমি উনাদের (ডেপুটি ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলদের সাথে) সাথে বসব। দেখব কোন কোন মামলা পেন্ডিং আছে। সেখান থেকে কিছু মামলা রিভিশনের কারণে বন্ধ হয়ে আছে। সেগুলো খুঁজে বের করে সচল করার চেষ্টা করব। আর যেগুলো আপিল আছে সেগুলো শুনানি করে নিষ্পত্তির চেষ্টা করব।’

পুরনো মামলা নিষ্পত্তির জন্য বেঞ্চগুলোকে বিশেষ নির্দেশনা দিতে প্রধান বিচারপতিকে অনুরোধও করেন আমিন উদ্দিন।

‘তাছাড়া আমি চেষ্টা করব, বিভিন্ন জেলায় যারা পাবলিক প্রসিকিউটর আছেন তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিচারাধীন যেসব মামলা স্থগিত হয়ে আছে, সেগুলোর দ্রুত শুনানির উদ্যোগ নিতে।’

ধর্ষণ মামলার সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড করার বিষয়টি সমর্থন করেন কি না, এমন প্রশ্নে আমিন বলেন, ‘আমার মনে হয় যারা এ ধরনের অপরাধ করে তারা সাবধান হবে। এ অপরাধ করতে অনেকবার ভাববে। আমার মনে হয় সরকারের এই উদ্যোগটা যখন আইনে পরিণত হবে তখন কিন্তু এটা অনেকখানি কমে যাবে।’

  • সংবাদ সংলাপ/এসইউ/রা

Sharing is caring!