মোহাম্মদ সোহেল, নোয়াখালী :
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) নিয়োগে শিক্ষামন্ত্রণালয় কর্তৃক আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলন করেছে বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ।

রোববার (১৪ মার্চ) দুপুরে নোয়াখালী প্রেসক্লাবের সামনে এ মানবন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়। মানববন্ধন শেষে নোয়াখালী প্রেসক্লাবে এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলন করেন শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন নোবিপ্রবি শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. নেওয়াজ মোহাম্মদ বাহাদুর। এ সময় নোবিপ্রবি শিক্ষক সমিতির নেতৃবৃন্দ, অফিসার সমিতির নেতৃবৃন্দ, কর্মচারীবৃন্দ ও জেলায় কর্মরত সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

নোবিপ্রবি শিক্ষক সমিতি, অফিসার সমিতি ও কর্মচারীবৃন্দ সম্মিলিতভাবে এ মানববন্ধন ও সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করে।

দীর্ঘ প্রায় ২ বছর যাবত নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে তদন্তের কারণে ও এর দীর্ঘ সূত্রিতায় নিয়োগ প্রক্রিয়ায় শিক্ষামন্ত্রণালয় কর্তৃক আরোপিত নিষেধাজ্ঞা বহাল আছে। এতে শিক্ষা কার্যক্রমসহ প্রশাসনিক কাজেও স্থবিবরতা বিরাজ করছে। পাশাপাশি এ নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়ে শিক্ষাছুটির বিপরীতে অস্থায় ও চুক্তিভিত্তিক পদে নিয়োগ প্রাপ্তশিক্ষক, অস্থায়ী ও চুক্তিভিত্তিক কর্মকর্তা-কর্মচারী ও মাস্টার রোল কর্মচারীদের চাকরি স্থায়ীকরণ প্রক্রিয়াবাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

নোবিপ্রবি শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. মজনুর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন শিক্ষক সমিতির সভাপতি ড. নেওয়াজ মোহাম্মদ বাহাদুর। এ সময় তিনি বলেন, “প্রায় ২২ মাস ধরে শিক্ষামন্ত্রণালয় কর্তৃক নোবিপ্রবির সকল পর্যায়ের নিয়োগ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের প্রতিবাদে এ মানববন্ধন।

২০১৯ সালের এপ্রিলের শেষের দিকে শিক্ষামন্ত্রণালয় কর্তৃক নোবিপ্রবি সকল পর্যায়ের নিয়োগের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। এতে প্রায় ৬০ এর অধিক শিক্ষক এবং প্রায় ৫০-৬০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী, অস্থায়ী, মাস্টার রোল এবং চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ প্রাপ্তদের চাকুরী স্থায়ী করণ করা যায়নি। ফলে তাদের আপগ্রেডেশন বন্ধ আছে। যাদের আপগ্রেডেশন ২ বছরে হওয়ার কথা তাদের আপগ্রেডেশন ৩-৪ বছর সময় লেগে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, সারা বাংলাদেশে যেভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়, নোবিপ্রবিতেও ঠিক একইভাবে নিয়োগ প্রক্রিয় সম্পন্ন হয়েছে। কিন্তু দীর্ঘ প্রায় দুই বছর নোবিপ্রবির নিয়োগ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়নি। আমরা অত্যন্ত দুঃখ-ভারাক্রান্ত হৃদয়ে বলতে চাই, যেখানে আমাদের আজ শ্রেণীকক্ষে থাকার কথা সেখানে আজ আমরা রাস্তায় দাঁড়িয়ে আছি।

বর্তমানে প্রায় সবগুলো বিভাগে শিক্ষক স্বল্পতা দেখা দিয়েছে। এতে শিক্ষার মান অত্যন্ত নিচে নেমে যাচ্ছে। ফলে অতি দ্রুত নিয়োগ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনার দাবি জানান বক্তারা।

  • সংবাদ সংলাপ/এমএস/বি

Sharing is caring!