মোহাম্মদ সোহেল, নোয়াখালী :
নোয়াখালীতে প্রতিনিয়ত বেড়েই চলছে অবৈধ ইটভাটার সংখ্যা। জনবসতিপূর্ণ এলাকায় গড়ে ওঠা বেশির ভাগ অবৈধ ইট ভাটায় জ্বালানি হিসেবে পোড়ানো হয় গাছ এবং ইট তৈরির কাজে ব্যবহার করা হয় ফসলি জমির মাটি। বেশিরভাগ ইটভাটায় দেখা মিলবে শিশু শ্রমিকের। এসব ইটভাটা পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতি সাধন করলেও যেন দেখার কেউ নেই।

জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে মাঝে মধ্যে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনার মাধ্যমে এসব অবৈধ ইটভাটায় কিছু জরিমানা করা হলেও স্থায়ীভাবে বন্ধ করা হয় না। আবার অনুমোদনহীন অনেক ইটভাটার মালিক পরিবেশ ও প্রতিবেশের ক্ষতি সাধনের জন্য পরিবেশ অধিদপ্তর কর্তৃক ধার্যকৃত ক্ষতিপূরণ দিয়ে বছরের পর বছর এ অবৈধ কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী নোয়াখালীতে মোট ১০২টি ইটভাটা রয়েছে। এর মধ্যে বাংলা ভাটা রয়েছে ২০টি। স্কুল-কলেজ, জনবসতি, বাজার সংলগ্ন এবং লাইসেন্সের মেয়াদ না থাকাসহ মোট অবৈধ ইটভাটার সংখ্যা ৪৫টি। বেশির ভাগ বাংলা ভাটায় জ্বালানি হিসেবে পোড়ানো হয় দেশীয় গাছ। ঝিকঝাক ভাটাগুলোতে কাঠ পোড়ানো না হলেও আশপাশে রয়েছে ফসলি জমি, হাট বাজার, জনবসতি কিংবা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। যার কারণে এসব ইটভাটা জনস্বাস্থ্য, পরিবেশ ও প্রতিবেশের ব্যাপক ক্ষতি করছে। বেশিরভাগ ভাটায় ইট তৈরির কাজে ব্যবহার হচ্ছে ফসলি জমির মাটি। এতে একদিকে ফসলি জমি নষ্ট হচ্ছে, অপরদিকে বর্ষায় দেখা দিচ্ছে জলাবদ্ধতা। ইটভাটার মাটি ও ইট নিয়ে পাওয়ার টিলার চলাচলের কারণে ভেঙে পড়ছে গ্রামীণ সড়কগুলো।

কবিরহাট উপজেলার দয়ারামদি গ্রামে জনবসতিপূর্ণ এরাকায় কবিরহাট-বসুরহাট সড়কের পাশে দেখা যায় মেসার্স একতা ব্রিকস ম্যানুফ্যাকচারিং নামে একটি ইটভাটা চলছে বছরের পর বছর। ইটভাটাটির বৈধ কোন কাগজপত্র না থাকলেও পরিবেশ অধিদপ্তর কর্তৃক ধার্যকৃত ক্ষতিপূরণ দিয়ে চলছে ওই ইটভাটা।

স্থানীয় বাসিন্দা আনোয়ার হোসেন জানান, সরকার যখন ইটভাটা বন্ধ করে বিকল্প ভাবছে, ঠিক তখন নোয়াখালীতে সফলি জমি, জনবহুল এলাকা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ঘেঁষেই গড়ে উঠছে ইটভাটা। এর মধ্যে নিষিদ্ধ চিমনিও ব্যবহার হচ্ছে। এসব ভাটার কালো ধোঁয়ায় গাছপালা ও জমির ফসল বিনষ্ট হচ্ছে । বালি ও ধোঁয়ার সঙ্গে ছাঁই উড়ে শারীরিক সমস্যায় পড়ছে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী ও ভাটা সংলগ্ন বাসিন্দারা।

অভিযোগ রয়েছে, সুবর্ণচর উপজেলার চরবাটা ইউনিয়নের নোয়াপাড়া গ্রামে বাবলু বাবুর মালিকানাধীন ইটভাটা, চরবাটা গ্রামের আলমগীর হোসেনের ইটভাটা ও চরজুবলী ইউনিয়নের চর বাগ্যা গ্রামের আলো মাঝির ইটভাটা অবৈধভাবে চলছে।

হাতিয়া উপজেলার মেসার্স আলহাজ্ব রহিম ব্রীকস, এ.টি.এম ব্রীকস ফিল্ড, এম.এইচ ব্রীকস, আবু তাহের ব্রীকস, ওহাব ব্রীকস, সাখাওয়াত ব্রীকস, আলা উদ্দিন ব্রীকস, নোমান ছিদ্দিক রাশেদ ব্রীকস, নিজাম উদ্দিন ব্রীকস, হাজী মমতাজুল করিম ব্রীকস, আর.আর ব্রীকস ফিল্ডসহ বৈধ-অবৈধ ১৮টি ইটভাটায় পড়ানো হচ্ছে কাঠ। ইট তৈরির কাজে ব্যবহার করা হয় ফসলি জমির মাটি। বেশিরভাগ ইটভাটায় কাজ করছে শিশু শ্রমিকরা। একই চিত্র দেখা যাবে জেলার সেনবাগ উপজেলায়ও।

জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. সিরাজুল ইসলাম জানান, ইটভাটার বিষয়ে জেলা প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করেন তারা। প্রশাসনের চাহিদা অনুযায়ী তারা সহযোগীতা দিয়ে থাকেন।

এ ব্যাপারে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট তারিকুল আলম জানান, অবৈধ এবং ছাড়পত্র নবায়নহীন ইটভাটায় নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এ সময় জরিমানার পাশাপাশি কিছু কিছু ইটভাটা বন্ধ করে দেওয়া হয়। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রাখা হবে।

  • সংবাদ সংলাপ/এমএস/বি

Sharing is caring!