মোহাম্মদ সোহেল, নোয়াখালী :
এখনও নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা না হলেও ইতিমধ্যে নির্বাচন ঘিরে নোয়াখালী সদর উপজেলার ১৯নং পূর্ব চরমটুয়া ইউনিয়নে বইছে আগাম নির্বাচনী হাওয়া। চায়ের দোকানে-দোকানে বইছে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে চুলচেড়া বিশ্লেষণ। নড়েচড়ে উঠেছে চেয়ারম্যান ও সদস্য পদের সম্ভাব্য প্রার্থীরা। অনেকেই আগাম প্রচার প্রচারণা শুরু করে দিয়েছেন। দলীয় নেতাকর্মী ও ভোটারদের সমর্থন আদায়ে ব্যানার, পেষ্টুন ও চা-চক্রে নিজেদের জানান দিচ্ছেন অনেকেই। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও সমানতালে চলছে প্রচার-প্রচারণা। শুধু মাঠেই নয়, দলীয় সমর্থন পেতে একই ইউনিয়নে একাধিক প্রার্থীর পক্ষ থেকে চলছে নানারকম তদবির, রাজনৈতিক কার্যালয় হয়ে উঠেছে সরগরম। দলীয় সমর্থন পাওয়ার জন্য তৎপর হয়ে উঠেছে ওই ইউনিয়নের সম্ভাব্য প্রার্থীরা।

পূর্ব চরমটুয়া ইউনিয়ন পরিষদ সুত্রে জানা গেছে, এই ইউনিয়নের আয়োতন ১৯.৫৪ বর্গ কিলোমিটার। ইউনিয়নটির জনসংখ্যা প্রায় ৩০ হাজার। এরমধ্যে মোট ভোটার সংখ্যা ১৬ হাজারের বেশি। ২০১৬ সালের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে এই ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ থেকে দলীয় মনোয়ন পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. নুরুল আলম। তাঁর সাথে প্রতিদ্ধ›দ্বী প্রার্থী ছিলেন আওয়ামী লীগ বিদ্রোহী দেলদার উদ্দিন চৌধুরী মিল্লাত, বিএনপি থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন জামায়াত নেতা মাওলানা হারুন অর রশিদ, বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী ছিলেন আবদুল কুদ্দুস ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর মাওলনা ফোরকান আহম্মেদ।

সরেজমিনে গেলে স্থানীয়রা বলেন, বর্তমান চেয়ারম্যান মো. নুরুল আলম আসন্ন নির্বাচনেও দলীয় মনোনয়ন চাইবেন। তাঁর পাশাপাশি আসন্ন নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে ইতিমধ্যে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. ফিরোজ আলম ও উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দেলদার উদ্দিন চৌধুরী মিল্লাতও মনোনয়ন লড়াইয়ে অংশ নিয়েছেন। এর বাহিরে আওয়ামী লীগ থেকে আরো অনেকেই মনোনয়ন চেয়ে পোষ্টার-ব্যানার বের করলেও স্থানীয়দের ভাষ্যমতে মনোনয়ন লড়াইয়ে এগিয়ে আছেন নুরুল আলম ও ফিরোজ আলম।

বিএনপি থেকে দলীয় মনোনয়ন লড়াইয়ে অংশ নিয়েছেন দুইজন। এরা হলেন উপজেলা বিএনপির কৃষি বিষয়ক সম্পাদক ফয়সাল বারী চৌধুরী ও উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মাজহারুল ইসলাম। ২০১৫ সালে পূর্ব চরমটুয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান রিপন চৌধুরী মারা গেলে ওই বছর উপ-নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশ নেন ফয়সাল বারী চৌধুরী। ওই নির্বাচনে নির্বাচিত হন বর্তমান চেয়ারম্যান মো. নুরুল আলম।

আওয়ামী লীগের মধ্যে এই ইউনিয়নে গ্রæপিং রয়েছে প্রকাশ্যে। গ্রæপিংয়ের কারণে বর্তমান চেয়ারম্যান নুরুল আলমের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির মতো একাধিক অভিযোগও তুলেছেন দলের একটি অংশের নেতাকর্মীরা।

চরমটুয়ার আওয়ামী পরিবার থেকে বেড়ে উঠা ছাত্র রাজনীতির এক উজ্জল নক্ষত্র ছিলেন বর্তমান চেয়ারম্যান মো. নুরুল আলম। ছাত্রজীবন থেকে দলীয় শৃঙ্খলা থাকায় পেয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদকের পদ।

মো. নুরুল আলম আসন্ন ইউপি নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশার কথা জানান দিয়ে বলেন, আমি গত দুই বার এই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছি। চেয়ারম্যান পদে দায়িত্বে থাকাকালীন ইউনিয়নের সিংহভাগ উন্নয়ন শেষ করেছি। অচিরেই অসমাপ্ত উন্নয়ন কাজ শেষ করবো। তিনি বলেন, সাংগঠনিকভাবে পূর্ব চরমটুয়া এখন আওয়ামী লীগের ঘাটি। এক সময় এখানে চোর-ডাকাতের ঘাটি ছিলো। ওইসব চোর-ডাকাতদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে তাদেরকে আইনের নজরে আনা হয়েছে। এতে চোর-ডাকাতদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দাতাদের অনেকেই আমার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। তারপরও আমি চাই এই ইউনিয়নের মানুষ শান্তিতে থাকুক।

চেয়ারম্যান নুরুল আলম বলেন, স্থানীয় আওয়ামী লীগ, সহযোগী ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষ আমার সাথে আছেন। আবারো দলীয় মনোনয়ন পেলে এ ইউনিয়নে বিপুল ভোটে নৌকার জয় নিশি^চত হবে।

বৃহত্তর চরমটুয়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগ ও যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন মো. ফিরোজ আলম। তিনি এখন পূব চরমটুয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। বর্তমান ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য মো. ফিরোজ আলম, ছিলেন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানও।

মো. ফিরোজ আলম বলেন, ছাত্র ও যুব রাজনীতির নেতৃত্ব দিয়ে সক্রিয়ভাবে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের দায়িত্ব পালন করছি। দলকে চাঙ্গা রেখেছি। কাজ করছি সাধারণ মানুষের জন্য। তিনি বলেন, পূর্ব চরমটুয়া ইউনিয়নের বেশিরভাগ মানুষ শ্রমজীবি। এইসব শ্রমজীবি মানুষের চাহিদা পুরনে বর্তমান চেয়ারম্যান ব্যর্থ। তার বিরুদ্ধে বিদ্যুৎতের সংযোগ প্রদানে অনিয়ম, বালু উত্তোল, বাহিনী সৃষ্টি, খাজ জমি দখল ও নলকূপ বিতরণে বাণিজ্যসহ অনেক অনিয়ম ও দূর্নীতির অভিযোগ থাকায় দলীয় নেতাকর্মী এবং সাধারণ মানুষ আসন্ন ইউপি নির্বাচনে প্রার্থী হতে আমাকে চাপ প্রয়োগ করছে। মানুষের দোয়া ও ভালোবাসায় দলের কাছে মনোনয়ন চাইবো।

উপজেলা বিএনপির কৃষি বিষয়ক সম্পাদক ফয়সাল বারী চৌধুরী বলেন, আমার প্রতি বিএনপির তৃণমূল থেকে জেলা পর্যায়ের নেতাদের সমর্থন রয়েছে। সাধারণ মানুষও আমার পক্ষে রয়েছে। অপরদিকে বর্তমান চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ উঠেছে। তাদের দলের মধ্যেও রয়েছে গ্রæপিং। তাই বিএনপির দলীয় মনোনয়ন পেলে বিপুল ভোটে ধানের শীষ প্রতীকের বিজয় হবে।

তবে ওই ইউনিয়নের জনগনের ভাষ্য হলো- সবার আগে সুষ্ঠ নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে হবে, ভোটের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। তবেই যোগ্য প্রার্থীকে ভোট দিয়ে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে পারবো।

  • সংবাদ সংলাপ/এমএস/বি

Sharing is caring!