বিনোদন ডেস্ক :

স্বাভাবিক নিয়মে হলে দর্শক না পেলে প্রযোজকদের লগ্নি উঠবে না। তাই ভালো ছবি চালাতে পারছে না প্রেক্ষাগৃহগুলো। আর তাই হলমালিকদেরচিন্তা দুর করতে এগিয়ে এল ভারতের যশ রাজ ফিল্মস। প্রেক্ষাগৃহের হাতে বিনা মূল্যে তুলে দিল নিজেদের সুপারহিট সব ছবি। মহামারিতে ভারতের মতো বাংলাদেশের প্রযোজকেরা কি দাঁড়াবেন প্রেক্ষাগৃহের পাশে?

যশ রাজ ফিল্মস দিচ্ছে ‘কাভি কাভি’, ‘সিলসিলা’, ‘ডিডিএলজে’, ‘দিল তো পাগল হ্যায়’, ‘বীর জারা’, ‘বান্টি অউর বাবলি’, ‘রব নে বানাদি জোড়ি’, ‘এক থা টাইগার’, ‘জব তক হ্যায় জান’, ‘সুলতান’, ‘মরদানি’র মতো ছবিগুলো। এ সিনেমাগুলোর টিকিট কিনতে লাগবে মাত্র ৫০ রুপি। প্রতিষ্ঠানটি মনে করে, সিনেমা হলই তাদের দিয়েছে খ্যাতি ও মুনাফা। তাই তাদের দুর্দিনে এগিয়ে এসেছে স্বনামখ্যাত এই প্রযোজনা সংস্থা।

মাসখানেক হলো বাংলাদেশেও খুলেছে প্রেক্ষাগৃহ। সেখানে চলছে পুরোনো কিছু ছবি। হলমালিকেরা বলছেন, দর্শকসংকটের এই সময়ে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সপ্তাহ চুক্তি বা কমিশনের ভিত্তিতে টিকিটের অর্থ ভাগাভাগি করতে হচ্ছে। এতে লাভ তো দূরের কথা, উল্টো বাড়তি খরচ করতে হচ্ছে। ঢাকার প্রযোজকেরা কি যশ রাজের মতো বাংলাদেশের প্রেক্ষাগৃহের পাশে দাঁড়াতে পারেন? আনন্দ ও ছন্দ সিনেমা হলের ব্যবস্থাপক মো. শামসুদ্দিন জানান, তাঁদের সে রকম কোনো ভাবনা নেই। অথচ সিনেমা বাঁচাতে চলচ্চিত্রের সবাইকেই এগিয়ে আসতে হবে। হল না থাকলে বড় বড় সিনেমা বানিয়ে লাভ নেই। তিনি বলেন, ‘কিছুদিন আগে জাজের কাছে পাঁচটি পুরোনো জনপ্রিয় ছবি চেয়েছিলাম। টাকা দিতেও চেয়েছি, রাজি হয়নি।’

মধুমিতা সিনেমা হলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইফতেখার উদ্দিন নওশাদ বলেন, ‘প্রযোজকদের কাছে অনেক জনপ্রিয় ছবি পড়ে আছে। বিনা পয়সায় ছবিগুলো হলে দিলে তাঁদের ক্ষতি নেই। এই সময়ে জনপ্রিয় কিছু পুরোনো ছবি চালানো গেলে কিছু বাড়তি দর্শক আসতেন, সিনেমা হলের মালিকেরা কিছুটা স্বস্তি পেতেন।’

বাংলাদেশের বড় প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের যেসব একাধিক ছবি জনপ্রিয়তা পেয়েছে, হল থেকে আয় করেছে লাখ লাখ টাকা, তারা কী ভাবছে? ঢাকার বড় প্রযোজকদের মধ্যে রয়েছে জাজ মাল্টিমিডিয়া, হার্টবিট, শাপলা মিডিয়া, এসকে ফিল্মসের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো। তাদের হাতে আছে অনেক জনপ্রিয় ছবি। ‘অগ্নি’, ‘অগ্নি টু’, ‘পোড়ামন’, ‘পোড়ামন টু’, ‘ভালোবাসা আজকাল’, ‘দহন’, ‘হানিমুন’, ‘তবুও ভালোবাসি’, ‘শিকারী’, ‘নবাব’, ‘বস টু’, ‘বাদশা’সহ গত পাঁচ বছরে ডজনখানেক ছবি রয়েছে জাজের। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী আলীমুল্লাহ খোকন বলেন, ‘প্রেক্ষাগৃহগুলো একযোগে যদি প্রস্তাব দেয়, তাহলে আমরা বিবেচনা করব।’

‘আমি নেতা হবো’, ‘ক্যাপ্টেন খান’, ‘চিটাগাংইয়া পোয়া নোয়াখাইল্লা মাইয়া’, ‘শাহেনশাহ’সহ বেশ কিছু ছবি আছে শাপলা মিডিয়ার। এর কর্ণধার সেলিম খান বলেন, ‘হলগুলোর দুঃসময় যাচ্ছে, এটা ঠিক। কিন্তু প্রযোজকেরাও ভালো নেই। তবে প্রদর্শক সমিতির মাধ্যমে হলমালিকেরা আবেদন করলে অবশ্যই বিবেচনা করব। যেহেতু ছবির কোনো অর্থ নেওয়া হবে না, দর্শকের জন্য অবশ্যই টিকিটের দাম কমাতে হবে।’

বিনা মূল্যে প্রেক্ষাগৃহকে ছবি দেওয়ার প্রস্তাব বিবেচনার আশ্বাসকে সাধুবাদ জানিয়েছেন বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতির সাধারণ সম্পাদক কাজী সোয়েব। তিনি বলেন, ‘প্রযোজকেরা যেহেতু আন্তরিক, আমরা নিজেদের মধ্যে আলাপ-আলোচনা করে প্রযোজকদের কাছে আবেদন করতেই পারি।’

  • সংবাদ সংলাপ/এসইউ/দু

Sharing is caring!