নিউজ ডেস্ক :

রাজধানীর কলাবাগান থানার গ্রীন রোড এলাকার বাসিন্দা সাইয়েদা ফাতেমা রহমান (ছদ্মনাম)। পড়ালেখার পাশাপাশি দুই বছর আগে নিরাম.বিডি নামে একটি ফেসবুক পেজ খুলে অনলাইন ব্যবসা শুরু করেন তিনি। কাস্টমারদের চাহিদা মোতাবেক চায়না থেকে কসমেটিক্স, ব্যাগ, জুতা ও বেবি আইটেম এনে বিক্রি করতে থাকেন। টুকটাক বিক্রিতে ভালোই লাভ করছিলেন ফাতেমা। সম্প্রতি চায়না থেকে একটি চালান এনে অল্প দিনে বিক্রি করে ফেলেন। প্রোডাক্টগুলোর চাহিদা বেশি দেখে অনলাইনে বিটুবি (বিজনেস টু বিজনেস) প্লাটফর্ম ‘চায়না টু বাংলাদেশ-এক্সপোর্ট ইমপোর্ট বিডি (বে এন্ড সেল গ্রুপ)’ নামে একটি গ্রুপে পোস্ট দিয়ে প্রোডাক্টগুলোর ছবি দিয়ে সহযোগীতা চান।

ওই গ্রুপ থেকে মৌ আক্তার রিয়া নামে একটি আইডি থেকে ফাতেমাকে নক দিয়ে প্রোডাক্টগুলো এনে দিতে পারবে বলে জানায়। বিশ্বস্ততা অর্জনে মোবাইলে কথা হয় ফাতেমা ও রিয়ার। প্রোডাক্টগুলোর জন্য ৬০ হাজার টাকা দাম নির্ধারিত হয়। পরে ফাতেমা নিয়ম অনুযায়ী রিয়াকে ৩০ হাজার টাকা পরিশোধ করেন। বাকি টাকা দেশে আসার পর পরিশোধ করার কথা হয় তাদের। এরপরেই ফাতেমাকে ব্লক করে ডিএক্টিভেট করে দেয়া হয় ওই আইডি। বার বার ফোন করেও আর রিয়ার খোঁজ পায়নি ফাতেমা। উল্টো প্রোডাক্ট হাতে পাবে বলে ক্রেতাদের কাছ থেকে অর্ডার নিয়ে বিপাকে পড়েন তিনি।

ভুক্তভোগী ফাতেমা ভোরের কাগজকে বলেন, প্রতারক চক্রের ফাঁদে পড়ে আর্থিক ক্ষতিসহ ক্রেতাদের পণ্য ডেলিভারী দিতে না পেরে বড় ক্ষতির মুখে পড়েছেন তিনি।

শুধু ফাতেমাই নয় বিটুবি প্লাটফর্মে ভুয়া আইডি খুলে অবস্থান নেয়া প্রতারক চক্রের কাছে পণ্য অর্ডার করে প্রায়ই প্রতারণার শিকার হচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। অনেক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ব্যবসা শুরুর পরেই প্রতারণার ফাঁদে নিঃস্ব হয়ে পথে বসে যাচ্ছেন।

এমনই এক প্রতারক চক্রের ৫ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সাইবার এন্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগ।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- শিপা রেজা, মো. চাঁদ আলী, নাজমুল হাসান খান তপু ওরফে তন্ময়, মামুনুর রশিদ ও মো. রাজু আহম্মেদ। মঙ্গলবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) নওগাঁ জেলার মহাদেবপুর উপজেলায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়।

ডিবির সূত্র জানায়, গ্রেপ্তারকৃতরা বিটুবি প্লাটফর্মে নিশাদ রহমান তানহা, নুসরাত সরকার ইভা, অভিমানি মুন, মো. মাহাফুজুর রহমান, মুন রাজি, অচেনা মেয়ে, অভিমানি মুন (২) সহ বিভিন্ন ভুয়া ফেসবুক আইডি খুলে বিভিন্ন লোভনীয় অফারে পণ্যের বিজ্ঞাপন দিয়ে ব্যবসায়ীদের আকৃষ্ট করতো। এরপর ওই বিজ্ঞাপন দেখে কেউ ইনবক্সে যোগাযোগ করলে চক্রটি মোবাইলে কল দিয়ে মৌখিক চুক্তি সম্পাদন করতো। পরে ক্রেতা কাঙ্খিত পণ্য পাওয়ার আশায় মোট মূল্যের ৫০ শতাংশ মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে তাদের পরিশোধ করতো। টাকা হাতে পাওয়ার পর চক্রটি ফেসবুক আইডি ও মোবাইল নম্বর বন্ধ করে দিতো। এভাবে গত ৬ মাস ধরে তারা কমপক্ষে ৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বলে জানা গেছে।

চক্রের সদস্যদের গ্রেপ্তারে নেতৃত্ব নেওয়া ডিবির সাইবার এন্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগের এসি হাসান মুহাম্মদ মুহতারিম ভোরের কাগজকে বলেন, গত ৪ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর কলাবাগান থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে দায়ের করা একটি মামলার (নম্বর-৩) তদন্তে নেমে ওই চক্রের ৫ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ধরনের আরও কয়েকটি চক্রের সন্ধান পাওয়া গেছে। তাদেরকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

  • সংবাদ সংলাপ/এমএস/বি

Sharing is caring!