মোহাম্মদ সোহেল, নোয়াখালী :

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার এখলাশপুরে নারীকে বিবস্ত্র করে নির্যাতনের মূলহোতা দেলোয়ার হোসেনকে পৃথক তিনটি মামলায় ৭দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত।

রোবববার সকালে জেলার ৩ নম্বর আমলী আদালতে উপস্থাপন করে ধর্ষণ, অস্ত্র এবং বিস্ফোরক আইনে দায়ের করা তিনটি মামলায় তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করেছে পুলিশ। দুপুরে শুনানী শেষে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বিচারক মাসফিকুল হক তাকে ৭ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) গুলজার আহমেদ জুয়েল জানান, তিন মামলায় দেলোয়ারকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করা করা হয়। বিচারক দেলোয়ারকে ধর্ষণ মামলায় পাঁচদিন, অস্ত্র ও বিস্ফোরক আইনে দুইদিনের রিমান্ড দেন।

এ তিন মামলার তদন্তের দায়িত্বে থাকা বেগমগঞ্জ মডেল থানার পুলিশ জানায় নির্যাতনের শিকার ওই নারীর দায়ের করা ধর্ষণ মামলায় দোলোয়ার হোসেনকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। এছাড়া নারী ও শিশু নির্যাতন দমন এবং পর্নোগ্রাফি আইনে ওই নারীর দায়ের করা অপর দুটি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

গত ৪ অক্টোবর এখলাশপুরে নারীকে বিবস্ত্র করে নির্যাতনের ঘটনা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশব্যাপী ব্যাপক আলোড়ন শুরু হয়। এ নিয়ে বেগমগঞ্জ মডেল থানায় মামলা হলে ঘটনার ‘মূল হোতা’ দোলোয়ার এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যান। ৫ অক্টোবর নারায়নগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থেকে আগ্নেয়াস্ত্রসহ তাকে আটক করে র‌্যাব। পরদিন দেলোয়ারের মাছের ঘের থেকে হতবোমা উদ্ধার করে র‌্যাব। এরপর বিরুদ্ধে বেগমগঞ্জ মডেল থানায় অস্ত্র ও বিস্ফোরক আইনে দুইটি মামলা করে র‌্যাব।

১৩ অক্টোবর দেলোয়াকে জেলার মুখ্য বিচারিক হাকিম আদালতে তাকে হাজির করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন এবং পর্নোগ্রাফি আইনে ওই নারীর করা অন্য দুই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করে পুলিশ। ওই দিন শুনানি শেষে বিচারক তাকে ওই দুই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো আদেশ দেয়।

এ তিন মামলার তদন্ত কর্মকর্তারা জানান, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দেলোয়ারকে ধর্ষণের মামলায় সাত দিন এবং অস্ত্র ও বিস্ফোরক আইনে করা মামলায় আরো পাঁচ দিন করে মোট ১৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করলে আদালত তাকে ৭দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এদিকে, দেলোয়ারের পক্ষে আদালতে কোন আইনজীবি দাড়ায়নি। তাই দেলোয়ার নিজেই তার পক্ষে শুনানী করেন। দেলোয়ার আদালতকে জানায়, সে আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে মেম্বার প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দেয়ায় ষড়যন্ত্র করে তাকে ফাঁসানো হয়েছে। মুল সন্ত্রাসী জামালকে ডিবি ধরে এক লাখ টাকার বিনিময়ে মাইজদী বাজার এনে ছেড়ে দিয়েছে। দেলোয়ার আদালতকে বলেন, জামালকে গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে নিলে সব সত্য বেরিয়ে আসবে। সে আদালতে কথা বলার সময় দূততার সাথে বলেন মিডিয়া তার বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রচার করে যাচ্ছে। এরপরই রিমান্ডের আদেশ হলে ঝরঝর করে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন দেলোয়ার।

অন্যদিকে দেলোয়ারকে আদালতে নেওয়ার পথে তার ফাঁসির দাবিতে বিক্ষোভ করেন কমিউনিস্ট পার্টি, ছাত্র ইউনিয়ন ও ছাত্রফ্রন্টের নেতাকর্মীরা।

  • সংবাদ সংলাপ/এমএস/দু

Sharing is caring!