নিউজ ডেস্ক :

করোনার মধ্যে অর্থনৈতিক ও সামাজিক নানা সূচকে অনেক দেশের তুলনায় এগিয়ে আছে বাংলাদেশ। বিশেষ করে এ মুহূর্তে প্রতিবেশী দেশ ভারতের চেয়ে বাংলাদেশ ভালো অবস্থানে।

কোভিডের প্রভাব সামলে উঠছে বাংলাদেশ। রফতানি আয়ে তেজিভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে। রেমিট্যান্সে জোয়ার এসেছে। শক্তিশালী অবস্থানে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ। বাড়ছে অভ্যন্তরীণ চাহিদা। এসব কারণে ঘুরে দাঁড়িয়েছে দেশের অর্থনীতি।

অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনে বাংলাদেশ যে ভালো করছে – আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ওয়ার্ল্ড আউটলুক প্রতিবেদনে এর প্রতিফলন দেখা গেছে। করোনার সময় প্রতিবেশী ভারত, পাকিস্তানসহ বিশ্বের অনেক দেশের তুলনায় এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ- প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

এতে বলা হয়, এ বছর ইতিবাচক জিডিপি অর্জন করা বিশ্বের শীর্ষ তিন দেশের একটি হবে বাংলাদেশ। মাথাপিছু মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) ভারতকে ছাড়িয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। সংস্থাটি বলেছে, চলতি বছর বাংলাদেশের মাথাপিছু জিডিপি হবে ১ হাজার ৮৮৮ ডলার। আর ভারতে এটা হবে ১ হাজার ৮৭৭ ডলার।

শুধু মাথাপিছু জিডিপি নয়, জিডিপি প্রবৃদ্ধিতেও ভারতের তুলনায় এগিয়ে আছে বাংলাদেশ। আউটলুক প্রতিবেদনে আইএমএফ বলেছে, এ বছর বাংলাদেশের জিডিপির প্রবৃদ্ধি হবে ৩ দশমিক ৮ শতাংশ। আর ভারতে প্রবৃদ্ধি কমবে ১০ দশমিক ৩ শতাংশ। অর্থাৎ ভারতে জিডিপি প্রবৃদ্ধি হবে ঋণাত্মক। এ বছর নেপাল ও পাকিস্তানে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ঋণাত্মক হবে বলে আইএমএফের প্রতিবদেনে উল্লেখ করা হয়।

বাংলাদেশের এই সাফল্য নিয়ে ভারতে এরই মধ্যে আলোচনার ঝড় উঠেছে। গণমাধ্যমে মোদি সরকারের সমালোচনা করা হচ্ছে।

আইএমএফের প্রতিবেদন প্রকাশের পর এক টুইটবার্তায় কংগ্রেসের সাবেক সভাপতি রাহুল গান্ধী প্রধানমন্ত্রী মোদিকে কটাক্ষ করে বলেছেন, ‘ছয় বছর ধরে যে ঘৃণামিশ্রিত জাতীয়তাবাদের রাজনীতি চালাচ্ছে বিজেপি, তারই স্বীকৃতি এই ফলাফল। ভারতকে ছাপিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ।’

কিন্তু বাংলাদেশের এ অগ্রগতির কারণ কী? এর জবাবে সরকারি নীতিনির্ধারকেরা বলেছেন, সরকারের উন্নয়ন নীতি সঠিকভাবে কাজ করছে। ভালো অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে অর্থনীতিতে।

অর্থনীতিবিদেরা মনে করেন, এ দেশের মানুষের দুর্যোগ মোকাবিলার ক্ষমতা আছে। উদ্যোগী মানুষ সংকটে পড়লে ঘুরে দাঁড়াতে পারে। এসব কারণে এগিয়ে যাচ্ছে অর্থনীতি।

যোগাযোগ করা হলে পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য ড. শামসুল আলম নিউজবাংলাকে বলেন, করোনার মধ্যে ভালো করছে বাংলাদেশ। এই সাফল্য অর্থনীতির স্বাভাবিক ধারাবাহিকতার ফল। এতে প্রমাণ হয় সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনা সঠিকভাবে কাজ করছে।

অর্থনীতিবিদেরা মনে করেন, আগে থেকেই অর্থনীতিতে সংকট চলছিল ভারতে। করোনায় এ সংকট আরও ঘনীভূত হয়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ও গবেষণা সংস্থা সানেমের নির্বাহী পরিচালক ড. সেলিম রায়হান বলেন, দুই বছর ধরে ভারতে বেকারত্বের হার ৪০ বছরেরর মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে নেমে এসেছে। করোনায় অবস্থা আরও খারাপ হয়েছে। সে তুলনায় বাংলাদেশ ভালো আছে।

তিনি আরও বলেন, ‘জিডিপির প্রবৃদ্ধি নিয়ে বিতর্ক থাকতে পারে। তারপরও বলব, করোনার মধ্যে যে প্রবৃদ্ধি হয়েছে, তা ইতিবাচক। যদিও বছর এখনও শেষ হয়নি। যেভাবে অর্থনীতি চলছে, বাকি সময়ে তা ধরে রাখতে পারলে বাংলাদেশ আরও এগিয়ে যাবে।’

এ বছর ভারতে অর্থনীতি সংকুচিত কেন জানতে চাইলে সরকারি উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান বিআইডিএসের সাবেক ঊর্ধ্বতন পরিচালক ও অগ্রণী ব্যাংকের চেয়ারম্যান ড. জায়েদ বখত বলেন, ভারতে অভ্যন্তরীণ শ্রমিক অভিবাসন সংকট বেশি। এক রাজ্য থেকে আরেক রাজ্যে কাজের সন্ধানে প্রচুর শ্রমিক চলাচল করে। করোনায় এদের চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ফলে উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে অর্থনীতিতে ।

ভারতের তুলনায় বাংলাদেশ এগিয়ে যাওয়ার কারণ সম্পের্ক তিনি বলেন, বাংলাদেশে জিডিপি টানা বাড়ছে। ভারতে জিডিপি প্রবৃদ্ধি চলছে ওঠানামার মধ্য দিয়ে। এ ছাড়া বাংলাদেশের আর্থনীতিতে বড় ধরনের কোনো সমস্যা দেখা দেয়নি। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা রয়েছে। জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার নিয়ন্ত্রণে।

প্রবৃদ্ধি ইতিবাচক হওয়ার পেছনে কৃষি খাতও অবদান রেখেছে বলে মনে করেন ড. জায়েদ বখত। তিনি জানান, কৃষি দেশের প্রাণশক্তি। করোনায় এ খাতে ক্ষতি হয়নি। বন্যার ক্ষতি মোকাবিলা করতে সক্ষম হয়েছে কৃষকেরা। সরকারের নীতি-সহায়তা কাজে লেগেছে। ফলে কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হয়নি।

  • সংবাদ সংলাপ/এমএস/স

Sharing is caring!