নিজস্ব প্রতিবেদক :

কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফের ৩৪ ক্যাম্পে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের মধ্যে কিছু রোহিঙ্গা এই মাসেই ভাসানচর যেতে আগ্রহী। তবে তাদের কত জন ও কখন যাবেন তা চূড়ান্ত হয়নি। বিষয়টি চূড়ান্ত করতে কাজ করছেন সংশ্লিষ্টরা।

একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র বলছে, প্রাথমিকভাবে প্রথম দফায় ডিসেম্বরের ৭-১০ তারিখের মধ্যে এক হাজার রোহিঙ্গাকে ভাসানচর নেয়া হবে।

২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নির্যাতনের শিকার হয়ে সাড়ে সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসেন। এর আগে থেকে আছেন আরও প্রায় চার লাখ। বর্তমানে প্রায় ১১ লাখ রোহিঙ্গা রয়েছে ৩৪টি ক্যাম্পে।

রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে চুক্তি হলেও মিয়ানমারের অনাগ্রহের কারণে তা বাস্তবায়িত হয়নি। দুই বার প্রত্যাবাসনের খুব কাছাকাছি গিয়েও এক জন রোহিঙ্গাকেও ফেরত পাঠানো যায়নি মিয়ানমারের কারণে।

ক্যাম্পগুলো থেকে পর্যায়ক্রমে এক লাখ রোহিঙ্গাকে ভাসানচরে পাঠানোর উদ্যোগকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন স্থানীয়রা।

এ বিষয়ে মঙ্গলবার সকালে কথা হয় কক্সবাজারের অতিরিক্ত শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোহাম্মদ সামছু-দ্দৌজার সঙ্গে।

নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘সরকারের নির্দেশনা মতো আমরা কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। তবে কত রোহিঙ্গা ভাসানচর যাচ্ছেন- তা নিশ্চিত হতে পরিনি। কোন ক্যাম্প থেকে কারা যাচ্ছেন, তাও বলা যাচ্ছে না।

‘তবে এটা ঠিক ডিসেম্বরের ৭ থেকে ১০ তারিখের মধ্যে রোহিঙ্গাদের একটি দল ভাসানচরে যাবে। সেই টার্গেটে নিয়ে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।’

মোহাম্মদ সামছু-দ্দৌজা জানান, যারা ভাসানচর যেতে ইচ্ছুক শুধু তাদেরই পাঠানোর প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। কাউকে জোর করে পাঠানো হবে না।

শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার কার্যালয়েরসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রোহিঙ্গাদের নিরাপদ আবাসনের জন্য প্রস্তুত রয়েছে নোয়াখালীর ভাসানচর দ্বীপ।

করোনা মহামারির শুরুর দিকে সাগর থেকে উদ্ধার ৩০৬ রোহিঙ্গাকে ভাসানচরে পাঠানো হয়। তারা সেখানেই আছেন। তাদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে এই নভেম্বরের মধ্যে রোহিঙ্গাদের একটি অংশকে ভাসানচর স্থানান্তরের পরিকল্পনা ছিল সরকারের।

এর অংশ হিসেবে গত সেপ্টেম্বরে ‘গো অ্যান্ড সি’ প্রকল্পের আওতায় ৪০ জন রোহিঙ্গা নেতাকে চার দিনের জন্য ভাসানচর সফরে নিয়ে যায় সরকার।

তারা জানিয়েছিলেন, ভাসানচরের সবকিছু দেখে ভালো লেগেছে। তবে সেখানে না যেতে ‘নানা মহলের’ হুমকি রয়েছে। বিভিন্ন এনজিও তাদের নিরুৎসাহিত করছে। তাই উভয় সংকটে পড়েছেন তারা।

  • সংবাদ সংলাপ/এমএস/স

Sharing is caring!