নিজস্ব প্রতিনিধি :

করোনা মহামারি মধ্যে সীমিত পরিসরে স্বাস্থ্যবিধি মেনে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপনের জন্য বলা হলেও কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে মানা হচ্ছে না।

মহামারি প্রতিরোধে এবার একুশে উদযাপন সমন্বয় কমিটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল সমাজিক দূরত্ব নিশ্চিত ও মাস্ক পরা ছাড়া শহীদ মিনারে কাউকে ঢুকতে দেয়া হবে না।

সেই সঙ্গে প্রতি সংগঠন বা প্রতিষ্ঠানের থেকে সর্বোচ্চ পাঁচ জন ও ব্যক্তিপর্যায়ে এক সঙ্গে সর্বোচ্চ দুই জন শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করতে পারবে বলে নির্দেশনা ছিল কমিটির পক্ষ থেকে।

তবে শহীদ মিনারে সকাল থেকেই দেখা গেছে এই দুই নির্দেশনার একটিও সঠিকভাবে মানেনি কোনো সংগঠন বা ব্যক্তি। এমনকি কমিটিকেও স্বাস্থ্যবিধি না মানা কিংবা এক সঙ্গে বেশি মানুষের প্রবেশ নিয়ে কোনো কড়াকড়ি বা ব্যবস্থা নিতে দেখা যায়নি।

কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার ঘুরে দেখা গেছে, সবচেয়ে বেশি নেতা-কর্মীদের নিয়ে রোববার সকাল ৮টায় মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানাতে আসে বিএনপি। নেতা-কর্মীদের অধিকাংশের মুখে ছিল না কোনো মাস্ক। মানা হয়নি কোনো স্বাস্থ্য বিধি।

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগও প্রায় ১০০ নেতা-কর্মী নিয়ে শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানিয়েছে।

অন্য সংগঠনগুলোও ১০ থেকে ২০ জন নিয়ে বা তারও বেশি নিয়ে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেছে।

স্বাস্থ্যবিধি না মানা বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতি সদস্য আসাদুজ্জামান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘পাঁচ জন বলা হলেও এটা মানা কঠিন। সংগঠনের সবাই শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করতে চায়। কাকে বাদ দিয়ে কে যাবে, তাই আমরা সবাই যাচ্ছি। তা ছাড়া কাউকে দেখিনি পাঁচ জন নিয়ে যেতে।’

মাস্ক ছাড়া ছাত্রলীগের সঙ্গে শ্রদ্ধা জানাতে যাচ্ছিলেন ঢাকা মহানগর ছাত্রলীগের কর্মী হাকিম। কেন মাস্ক ছাড়া প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, ‘মাস্ক আনতে মনে নাই, অনেক সকালে আসছি, যে কারণে আনতে পারিনি।’

ফুল দিতে আসে শাহবাগ থানা ছাত্রদল। তবে তাদের কাউকেই মাস্ক পরতে দেখা যায়নি। সেখানে কথা হয় এক জনের সঙ্গে। নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘মাত্রই মাস্ক খুললাম, একটু নাস্তা করব।

সামাজিক দূরত্ব কেনো মানছেন না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এতো মানুষ মধ্যে কীভাবে মাসজিক দূরত্ব নিশ্চিত করব বলেন। ভিড়ের মধ্যে নিজের জান বাঁচানো ফরজ। ভিড়ের কারণে ঠিকভাবে ফুল দিতে পারিনি, আর আপনি বলছেন সামাজিক দূরত্বের কথা।’

শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। এ সময় তার সঙ্গে থাকা নেতা-কর্মী এমনকি তার নিজেরও মুখে ছিল না কোনো মাস্ক।

করোনা মোকাবিলায় গঠিত সরকারের কারিগরি কমিটির সদস্য বিশিষ্ট ভাইরোলজিস্ট অধ্যাপক নজরুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘দেশে করোনা বলা চলে নিয়ন্ত্রণে। গরম আসলে করোনা বাড়ার আশঙ্কা আমরা করছি না। তার পরেও আমাদের সতর্ক থাকতে হবে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘উদাসীনভাবে চলা-ফেরায় যেকোনো মুহূর্তে সংক্রমণ হার বাড়তে পারে। যেহেতু সব স্থানে এখনও নিয়ন্ত্রণ আসেনি। সারাদেশে কোথাও না কোথাও করোনা রয়েছেই। তাই যতদিন নিয়ন্ত্রণে আসে ততদিন স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে।’

  • সংবাদ সংলাপ/এমএস/বি

Sharing is caring!