মোহাম্মদ সোহেল, নোয়াখালী :
নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার কাদরা ইউনিয়নের তেলিপুকুরপাড় এলাকায় মায়ের ওপর প্রতিশোধ নিতে মো.মিজানুর রহমান আশ্রাফুল (৬) নামে এক শিশুকে হত্যা করে মাঠিতেপুতে রাখে ঘাতক আলাউদ্দিন।

বুধবার (৭ এপ্রিল) বিকালে বিষয়টি নিশ্চিত করে সেনবাগ থানার ওসি আবদুল বাতেন মৃধা জানান, গত সোমবার (৫ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৬টার দিকে শিশু আশ্ররাফুলের মরদেহ নজরপুর গ্রামের তেলিপুকুর এলাকার একটি বাগান থেকে গলিত মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

নিহত আশ্রাফুল উপজেলার ডমুরুয়া ইউনিয়নের বাবুপুর শ্রীপুর গ্রামের মীর বাড়ির আবুল কাশেম মীরের ছেলে। সে স্থানীয় গাজীরহাট সানরাইজ একাডেমির প্রথম শ্রেণির ছাত্র ছিল। এরআগে, গত শুক্রবার (২ এপ্রিল) সকাল থেকে নিখোঁজ ছিল আশ্রাফুল। পরে ওইদিন রাতে তার বাবা থানায় একটি নিখোঁজ সাধারণডায়রি করেছিলেন। এরপর ঘটনার তিন দিন পর সোমবার সন্ধ্যায় তেলিপুকুর এলাকার বাগানে নিখোঁজ শিশুর মরদেহের সন্ধ্যান পাওয়া যায়। পরে পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে।

মরদেহ উদ্ধারের পর মঙ্গলবার সকালে উপজেলার কাদরা ইউনিয়নের নজরপুর গ্রামের জিতু সওদাগর বাড়ি থেকে সন্দেহজনক ভাবে নিহত আশ্রাফুলের মা হাজরা খাতুনের সাবেক স্বামী আলাউদ্দিনকে আটক করে পুলিশ। সে ওই বাড়ির মৃত মমতাজ মিয়ার ছেলে।

পুলিশ মো.আলোউদ্দিনকে আটকের পর জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে। জিজ্ঞাসাবাদে আলাউদ্দিনকে ঘটনার সঙ্গে জড়িত বলে স্বীকার করলে বুধবার দুপুরে তাকে নোয়াখালীর আমলী আদালত-৪ এর বিচারক নবনিতা গুহের আদালতে হাজির করলে সে শিশু আশ্রাফুলকে শ্বাসরোধ করে হত্যার পর মরদেহ তেলিপুকুরপাড় এলাকার খাল পাড়ে মাটি চাপা দিয়ে রাখে বলে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী দেয়।

ওসি আবদুল বাতেন মৃধা বলেন, আশ্রাফুলের মা হাজরা খাতুনের সাবেক স্বামী মো.আলোউদ্দিন তাঁর মায়ের ওপর প্রতিশোধ নিতে শিশুটিকে একা পেয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে মরদেহ মাঠিতে পুঁতে রাখে। আসামি আলাউদ্দিন নিহত আশ্ররাফুলের মায়ের প্রথম স্বামী ছিল। পরে তাদের মধ্যে ছাড়াছাড়ি হয়ে গেলে আলাউদ্দিন হাজরা খাতুনের ওপর ক্ষুদ্ধ ছিল। এর জের ধরে এ হত্যাকান্ড ঘটে। মরদেহ উদ্ধারের একদিনের মাথায় পুলিশ হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটন করে।

  • সংবাদ সংলাপ/এমএস/বি

Sharing is caring!