ক্রীড়া প্রতিবেদক :

প্রথম টেস্ট ম্যাচে টাইগার ব্যটসম্যানদের বিপক্ষে পাত্তাই পেল না ক্যারিবীয় বোলাররা। আজ (বৃহস্পতিবার) চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দ্বিতীয় দিন সাকিব আল হাসান ও মেহেদী হাসান মিরাজের ব্যাটে ভর করে রানের পাহাড় গড়েছে টাইগাররা।

এদিন ক্যারিয়ারে প্রথম টেস্ট শতক তুলে নিয়েছেন মিরাজ। ক্যারিয়ারের ২৩তম টেস্টে এসে মিরাজ দেখা পেল প্রথম শতকের। তিনি ১৬৮বলে ১৩টি চার হাঁকিয়ে ১০৩রান করে আউট হন। ফলে বাংলাদেশ ৪৩০রানের পাহাড় গড়ে অলআউট হয়।

আজ সাকিব ৩৯ ও লিটন ৩৪ রান নিয়ে দ্বিতীয় দিন শুরু করেছিলেন। আর দলীয় রান ছিল ২৪২। যেহেতু ক্রিজে দুজন অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান আছে তাই সকালে বড় আশা নিয়ে টিভির সামনে খেলা দেখতে বসেছিলেন টাইগার ভক্তরা। কিন্তু ৪রান তুলেই আউট হন লিটন। তিনি ৬৭বলে ৬চারে ৩৮রান করেন। এর ফলে কিছুটা হতাশ হন ক্রিকেটপ্রেমীরা। কিন্তু এমন সময় তাদের মুখে হাসি ফিরিয়ে দেন সাকিব। শুরুর চাপ সামলে মেহেদী হাসান মিরাজকে সঙ্গে নিয়ে লড়াই শুরু করেন সাকিব।

ষষ্ঠ উইকেট জুটিতে দুজন মিলে যোগ করেন ইনিংসের সর্বোচ্চ ৬৭ রান। বাংলাদেশ পেরিয়ে যায় তিনশ রানের কোটা। এমনকি সাকিব তুলে নেন ক্যারিয়ারের ২৫তম টেস্ট ফিফটি। কিন্তু সেশনটা শেষ করতে পারেননি তিনি। আউট হয়েছেন সম্ভাবনাময় সেঞ্চুরির অপমৃত্যু ঘটিয়ে। সাকিব ১০৫বলে ৫টি চার হাঁকিয়ে ৬৮রান করেন। তবে সঙ্গি সাকিবকে হারিয়ে ব্যাট হাতে গর্জে উঠেন মিরাজ।
লড়াইয়ের জন্য নিজেকে প্রস্তত ঘোষণা করেন তিনি।

যা ধরে রেখে মিরাজ তুলে নিয়েছেন ক্যারিয়ারের তৃতীয় ফিফটি। তাইজুল ইসলামকে সঙ্গে নিয়ে ভালই খেলছিলেন মিরাজ। কিন্তু গ্যাব্রিয়েলের বলে ব্যক্তিগত ১৮ রানে তাইজুল আউট হন। এরপর নাইম হাসানও ক্রিজে মিরাজকে সঙ্গ দিতে ব্যর্থ হন। তবে মিরাজ ব্যাট হাতে একাই লাড়াই চালিয়ে যান। এমনকি ঠান্ডা মাথায় খেলে ১০০রান পূর্ণ করেন।

এর আগে গতকাল (বুধবার) টস জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন টাইগার টেস্ট অধিনায়ক অধিনায়ক মুমিনুল হক। ব্যাট হাতে শুরুটা ভালোই করেছিল দুই ওপেনার সাদমান ইসলাম ও তামিম ইকবাল। দুজনেই বেশ ফুরফুরে মেজাজে খেলছিলেন। কিন্তু ৫ম ওভারে কেমার রোচের তৃতীয় বলে বোল্ড হয়ে সাজঘরে ফেরেন অভিজ্ঞ ওপেনার তামিম ইকবাল। তিনি আউট হওয়ার আগে ১৫ বলে ৯ রান করেন। এরপর নাজমুল হোসেন শান্তকে সঙ্গে নিয়ে দৃঢ়তার সঙ্গে উইকেট আগলে রাখেন সাদমান ইসলাম। কিন্তু ইনিংসের ২৪তম ওভারের ২য় বলে ভুল বোঝাবুঝিতে রান আউট হয়ে সাজঘরে ফিরতে হয় শান্তকে। তিনি ৫৮ বল মোকাবেলা করে ২৫ রান করেন। এরপর সাদমান ও মুমিনুলকে নিয়ে লড়াই চালিয়ে যান। এমনকি চমৎকার খেলে সাদমান হাফ সেঞ্চুরিও তুলে নেন। তিনি ১২৮ বল মোকাবিলা করে ৫০ রান পূর্ণ করেন। তবে সাদমান হাফ সেঞ্চুরি তুলে নিলেও তাড়াহুড়া করে খেলতে গিয়ে আউট হয়ে যান অধিনায়ক মুমিনুল। তিনি সাজঘরে ফেরার আগে ৯৭ বলে ২৬ রান করেন। এরপর মুশফিকুর রহিমের সঙ্গে জুটি গড়ার চেষ্টা করেন সাদমান। খেলছিলেনও দারুণ। তবে ৫৭তম ওভারের দ্বিতীয় বলে ওয়ারিনের বলে এলবির ফাঁদে পড়ে দলীয় ১৩৪ রানে সাজঘরে ফিরেন সাদমান। তিনি ১৫৪ বলে ৬টি চার হাকিয়ে ৫৯ রান করেন। এরপর পঞ্চম উইকেটে দারুণভাবে ক্রিজে দাঁড়িয়ে যান দুই অভিজ্ঞ ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান ও মুশফিকুর রহিম।

জোমেল ওয়ারিকান অফ স্ট্যাম্পের খানিক বাইরের বলে ডিফেন্স করতে গিয়ে ব্যর্থ হয়েছেন তিনি। বল মুশফিকের ব্যাটের কোনায় ছোয়া দিয়ে স্লিপে দাঁড়ানো রাকিম কর্নওয়ালের হাতে চলে যায়। মুশফিক ৬৯ বলে ৬টি চার হাকিয়ে ৩৮ রান করেন। এরপর বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব ও লিটন দাস উইকেট কামড়ে প্রথম দিনের খেলা শেষ করেন।

  • সংবাদ সংলাপ/এমএস/বি

Sharing is caring!