মোহাম্মদ সোহেল, নোয়াখালী :
নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জের চাপরাশিরহাট বাজারে আওয়ামী লীগের বিবাদমান দুই পক্ষের সংঘর্ষের সময় সাংবাদিক বুরহান উদ্দিন মুজাক্কির গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হওয়ার ঘটনায় থানায় একটি হত্যা মামলা হয়েছে।

মঙ্গলবার বেলা পৌনে ১১টার দিকে নিহত সাংবাদিক মুজাক্কিরের বাবা নুরুল হুদা ওরফে নোয়াব আলী মাস্টার বাদী হয়ে কোম্পানীগঞ্জ থানায় মামলাটি দায়ের করেন। তবে মামলার এজাহারে আসামি হিসেবে কারও নাম উল্লেখ করা হয়নি।

মঙ্গলবার বেলা ১১টায় নোয়াখালী প্রেসক্লাবের সামনে বাংলাদেশ রিপোটার্স ক্লাব নোয়াখালী শাখা ও বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের যৌথ আয়োজনে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত সাংবাদিক মুজাক্কিরের হত্যার ঘটনায় এখনো কোন আসামী চিহিৃত না হওয়ায় চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাংবাদিকরা। খুনিদের চিহিৃত করে অবিলম্বে গ্রেফতার ও শাস্তি দাবি জানান গণমাধ্যম কর্মীরা।

হত্যা মামলা দায়েরের খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেন কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি মীর জাহেদুল হক। তিনি বলেন, সাংবাদিক বুরহানের গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যুর ঘটনায় তার বাবা বাদী হয়ে থানায় মামলা করেছেন। মামলাটি সকাল ১০টা ৫০ মিনিটে রেকর্ড করা হয়েছে।

ওসি মীর জাহেদুল বলেন, ইতিমধ্যে মামলাটির তদন্ত শুরু হয়েছে। তদন্তের অংশ হিসেবে চাপরাশিরহাট বাজারে স্থাপন করা সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। সেগুলো পর্যবেক্ষণ করে কাদের গুলিতে সাংবাদিক বুরহান বিদ্ধ হয়েছেন, সেটি চিহ্নিত করা হবে।

সাংবাদিক বুরহান উদ্দিন মুজাক্কিরের খুনীদের গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশে বাংলাদেশ রিপোর্টার্স ক্লাব নোয়াখালী শাখার সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও ভোরের কাগজ নোয়াখালী প্রতিনিধি মোহাম্মদ সোহেলের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেনম, সিনিয়র সাংবাদিক বখতিয়ার শিকদার, আবুল হাসেম, মনিরুজ্জামান চৌধুরী, শাহ এমরান সুজন, লিয়াকত আলী খান, অহিদ উদ্দিন মুকুল, সাংবাদিক এম.বি আলম, জামাল হোসেন বিষাদ, আবু নাসের মঞ্জু, মাহবুবুর রহমান, আকাশ মো. জসীম, সুমন ভৌমিক, রিপোর্টার্স ক্লাবের আহবায়ক বিধান ভৌমিক, সাবেক সভাপতি মো. ইদ্রিছ মিয়া, মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোজাম্মেল হোসেন কামাল, যুগ্ম সম্পাদক এআর আজাদ সোহেল প্রমূখ।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, সাংবাদিকরা কারো অনুসারী হতে পারে না। লাশ নিয়ে যেনো কেউ রাজনীতি করতে না পারে সেদিকে সজাগ থাকতে হবে। সাংবাদিক হত্যা ও নির্যাতনের ঘটনার সুষ্ঠু বিচার না হওয়ায় এ ধরণের সহিংস ঘটনার পুনরাবৃত্তি হচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন সাংবাদিক নেতারা। সুষ্ঠ নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিও জানানো হয়।

বক্তারা আরো বলেন, যে মামলাটি দায়ের করা হয়েছে তার যেনো সুষ্ঠ তদন্ত হয়। খুনের সঙ্গে জড়িত সব আসামিদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি হত্যায় জড়িত ব্যক্তিদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি করেন।

মানববন্ধন কর্মসূচি থেকে বক্তারা স্বদেশ প্রতিদিন ও বার্তা ২৪’র জেলা প্রতিনিধি গিয়াস উদ্দিন রনির ওপর কাদের মির্জার উপস্থিতিতে তার অনুসারীদের হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।

এসময় বাংলাদেশ তৃণমূল সাংবাদিক কল্যাণ সোসাইটি নোয়াখালী শাখা সংহতি প্রকাশ করে কর্মসূচিতে অংশ নেয়।

এদিকে নোয়াখালী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনেও একই দাবিতে মানববন্ধন ও সমাবেশ করে নিরাপদ নোয়াখালী চাই নামের একটি সংগঠন।

প্রসঙ্গত, সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরসহ আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জার মিথ্যাচারের প্রতিবাদে গত শুক্রবার বিকেলে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চাপরাশিরহাট বাজারে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বাদল। বাদলের মিছিলটি বিকেল পাঁচটায় বাজার-সংলগ্ন তার বাড়ি থেকে বের হয়ে চাপরাশিরহাট মধ্যম বাজারে গেলে কাদের মির্জার অনুসারীরা হামলা চালান। এ সময় সেখানে উপস্থিত পুলিশ দুই পক্ষকে দুই দিকে ধাওয়া করে এবং ফাঁকা গুলি ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

এঘটনার কিছুক্ষণ পর কাদের মির্জার নেতৃত্বে তার শতাধিক অনুসারী মোটরসাইকেল ও গাড়িতে করে চাপরাশিরহাট এলাকায় যান। একপর্যায়ে কাদের মির্জার সমর্থকেরা বাজার-সংলগ্ন মিজানুর রহমানের বাড়িতে হামলা ও গুলি চালান। এ সময় দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় সাংবাদিক বুরহান গুলিবিদ্ধ হন। গুলিতে তার মুখের নিচের অংশ এবং গলা ঝাঁজরা হয়ে যায়। এ ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হন আরও ছয়জন। ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন বুরহানসহ আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখান থেকে সন্ধ্যায় নেওয়া হয় নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে। এরপর রাতেই বুরহানকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার রাত পৌনে ১১টায় তার মত্যু হয়।

  • সংবাদ সংলাপ/এমএস/বি

Sharing is caring!