নিজউ ডেস্ক :

বাঙালি জাতির মাতৃভাষা কেড়ে নিতে হত্যা ও নিপীড়ন চালানো সেই পাকিস্তানেও যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হচ্ছে অমর একুশে তথা আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস।

পাকিস্তান মাদার ল্যাংগুয়েজেজ লিটারেচার ফেস্টিভ্যাল’ নামে দিবসটি উদযাপিত হচ্ছে দেশটিতে। শিক্ষার প্রাথমিক পর্যায় থেকে শিশুদের বহুভাষী হিসেবে গড়ে তোলায় আগ্রহী করতে এবং নিজেদের শিল্প-সাহিত্য তুলে ধরতে এ আয়োজনের উদ্দেশ্য।

রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানি বাহিনীর গুলিতে বাঙালির রক্তে রঞ্জিত হয়েছিল ঢাকার রাজপথ। রক্তের দামে এসেছিল মায়ের ভাষা বাংলার স্বীকৃতি।

এর মধ্য দিয়ে রচিত হয়েছিল বাঙালি জাতির মুক্তির সিঁড়ি। সেই সিঁড়ি বেয়ে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তান হানাদারদের পরাস্ত করে জন্ম লাভ করে বাংলাদেশ।

সময়ের পরিক্রমায় বাঙালির ভাষার সংগ্রামের একুশ এখন পরিণত হয়েছে বিশ্বের সব ভাষাভাষীর অধিকার রক্ষার উপলক্ষে। ২০১০ সালে দিনটি স্বীকৃতি পায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে। বিশ্বজুড়ে দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য ‘শিক্ষা ও সমাজে অন্তর্ভুক্তির জন্য বহুভাষাবাদকে উত্সাহিত করা’।

একুশ ফেব্রুয়ারি উপলক্ষে পাকিস্তানে যৌথভাবে নানা অনুষ্ঠান আয়োজন করেছে ইন্দোস কালচারাল ফোরাম (আইসিএফ) ও পাকিস্তান ন্যাশনাল কাউন্সিল অব দ্য আর্টস (পিএনসিএ)।

তাদের আয়োজন নিয়ে ফলাও করে সংবাদ প্রকাশ করেছে পাকিস্তানের গণমাধ্যম। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচার করা হচ্ছে একুশে ফেব্রুয়ারির অনুষ্ঠানমালা।

আগের দিনই এক বিবৃতিতে পিএনসিএ’র মহাপরিচালক ড. ফাউজিয়া সাঈদ জানান, এসব অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তারা পাকিস্তানে ভাষাগত ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য তুলে ধরতে চান।

সূচি অনুযায়ী ইসলামাবাদের পিএনসিএর প্রধান কার্যালয়ের অডিটরিয়ামে স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ১০টা থেকে শুরু হয় অনুষ্ঠান। চলবে সন্ধ্যা পর্যন্ত। এসব অনুষ্ঠান আইসিএফ ও পিএনসিএর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্ল্যাটফর্মগুলোতে সরাসরি সম্প্রচার করা হচ্ছে।

আয়োজনে সাহিত্য অধিবেশন ছাড়াও লোক ও সুফি গান, নাচ, বিজ্ঞান, কৌতুক এবং চিত্রাঙ্কন প্রদর্শনী।

জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি সংস্থা ইউনেসকোর হিসাব অনুযায়ী, পাকিস্তানে বৃহৎ পর্যায়ে ছয়টি ছাড়া প্রান্তিক পর্যায়ে আরও ৫৭টি ভাষা রয়েছে। বিশ্বে যেসব ভাষা বিলুপ্তির হুমকিতে আছে এর মধ্যে আছে পাকিস্তানের ২৭টি ভাষা।

  • সংবাদ সংলাপ/এমএস/বি

Sharing is caring!