কুমিল্লা প্রতিনিধি :

কুমিল্লার লালমাই উপজেলার কিশোর শাহপরান হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। প্রায় এক মাস পর এ হত্যার রহস্য উদঘাটন করা হয়। একইসঙ্গে গ্রেফতার করা হয়েছে হত্যাকাণ্ডে জড়িত প্রধান আসামি নুর উদ্দিনসহ চারজনকে।

ব্যাটারিচালিত একটি অটোরিকশার জন্যই শাহপরানকে হত্যা করা হয়। নিহত শাহপরান উপজেলার বেতাগাঁও গ্রামের আব্দুল মালেকের ছেলে। সে লালমাই থানার বড় চলুন্ডা ব্র্যাক স্কুলের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র ছিল।

জেলার লাকসাম থেকে বাগমারা সড়কের ১৩টি সিসি ক্যামেরার প্রায় ৪০০ ঘণ্টার ফুটেজ বিশ্লেষণ করে এ হত্যার রহস্য বের করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার নিজ কার্যালয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানিয়েছেন কুমিল্লার অ্যাডিশনাল এসপি আজিম উল আহসান।

তিনি বলেন, ১১ সেপ্টেম্বর সকালে বড় ভাইয়ের ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা মেরামত করতে বাগমারা বাজারে যায় শাহপরান। পরে আর সে বাড়ি ফেরেনি। তাকে খুঁজতে এলাকায় মাইকিং করে স্বজনরা। ওই দিন সন্ধ্যায় ডাকাতিয়া নদীর পাশের একটি ঝোপ থেকে হাত-পা ও গলায় রশি বাঁধা অবস্থায় শাহপরানের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় অজ্ঞাতদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন শাহপরানের বাবা আব্দুল মালেক।

আজিম উল আহসান বলেন, মামলার পর ওই সড়কের ১৩টি সিসি ক্যামেরার ৪০০ ঘণ্টার ফুটেজ বিশ্লেষণ করা হয়। ফুটেজের একটি অংশে পাঁচ সেকেন্ডের ভিডিওতে অটোরিকশাসহ শাহপরান এবং নুর উদ্দিনকে দেখা যায়। এরপর নুর উদ্দিনকে গ্রেফতার করতে অভিযান শুরু করে পুলিশ।

বুধবার জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে নুর উদ্দিনসহ অন্যদের গ্রেফতার করা হয়। এরপরই ঘটনার রহস্য বেরিয়ে আসে। ভাড়ায় অটোরিকশায় উঠে শাহপরানকে হত্যা করে ঝোপের ভেতর লাশ রেখে অটোরিকশা নিয়ে পালিয়ে যান নুর উদ্দিন। অটোরিকশাটি লাকসাম নিয়ে গোলাপ হোসেনের কাছে ১৫ হাজার টাকায় বিক্রি করেন তিনি।

গ্রেফতার নুর উদ্দিন লালমাই উপজেলার জয়নগর গ্রামের দুধু মিয়ার ছেলে। গ্রেফতার অন্যরা হলেন- একই উপজেলার নাগরীপাড়া গ্রামের ছিদ্দিকুর রহমানের ছেলে শহীদ উল্লাহ, ভুলুইন গ্রামের আবুল হাসমের ছেলে গোলাপ হোসেন ও লাকসাম উপজেলার শামসুল হকের ছেলে নাছির উদ্দিন।

লালমাই থানার ওসি মোহাম্মদ আইয়ুব বলেন, আমাদের হাতে এ হত্যাকাণ্ডের কোনো ক্লু ছিল না। সিসিটিভির ফুটেজে খুনি নুর উদ্দিনকে শনাক্ত করা হয়। এরপর বুধবার তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তাকেসহ তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী ছিনতাই হওয়া অটোরিকশাসহ অন্যান্য আলামত উদ্ধার করা হয়।

Sharing is caring!