মোহাম্মদ সোহেল, নোয়াখালী :
নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় আটটি জেনারেটরের মাধ্যমে উৎপাদিত বিদ্যুৎ গ্রাহকদের মাঝে সরবরাহ করা হয়। বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিউবো) স্থানীয় উৎপাদন কেন্দ্রের ওই আটটি জেনারেটরের মধ্যে ছয়টি অচল হয়ে যাওয়ায় চাহিদার এক-তৃতীয়াংশ বিদ্যুৎও পাচ্ছেন না দ্বীপের বিদ্যুৎ গ্রাহকরা। প্রায় ২২ দিন হাতিয়া দ্বীপে বিদ্যুৎ সংকটের কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন প্রায় তিন হাজার গ্রাহক।

জানা গেছে, হাতিয়ায় জেনারেটর থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ গ্রাহকদের মধ্যে সরবরাহ করা হয়। গত ৩১ অক্টোবর বিকালে এক মেগাওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন একটি জেনারেটর অচল হয়ে যাওয়ায় বিদ্যুতের তীব্র সংকট দেখা দেয়।

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিউবো) হাতিয়া আবাসিক প্রকৌশলীর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হাতিয়া উপজেলায় বিদ্যুতের গ্রাহক প্রায় ২ হাজার ৯৩১জন। এসব গ্রাহকের বিদ্যুতের চাহিদা রয়েছে প্রায় দুই মেগাওয়াট। গ্রাহদের বিদ্যুৎ সরবরাহ দেওয়ার জন্য হাতিয়া বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রে আটটি জেনারেটরে রয়েছে। এর মধ্যে পাঁচটি জেনারেটর অনেক আগ থেকেই অচল হয়ে রয়েছে। সর্বশেষ বাকি তিনটি জেনারেটরের মধ্যে এক মেগাওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন একটি জেনারেটর অচল হয়ে গেছে। যার কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন ৬ থেকে ৭’শ কিলোওয়াটে নেমে এসেছে। এতে বিদ্যুতের সংকট বেড়ে যায়।

উপজেলার ওছখালী বাজারের ব্যবসায়ী আবদুস ছোবাহান বলেন, আগে প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা এবং বিকাল ৩টা থেকে রাত ১টা পর্যন্ত দুই ধাপে প্রায় ১৩ ঘন্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ থাকতো। বড় জেনারেটরটা নষ্ট হয়ে যাওয়ায় এখন গড়ে ৩ ঘন্টা বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে না। পর্যাপ্ত বিদ্যুতের অভাবে নানা সমস্যা দেখা দিয়েছে তাদের।

হাতিয়া পৌরসভার শোভা খান, নুর উদ্দিন, মনির উদ্দিন ও মেফতাহুল জান্নাত তিন্নিসহ একাধিক বাসিন্দা বলেন, হাতিয়ায় বিদ্যুৎ সংকট সেই অনেক আগ থেকেই। পৌরসভার মধ্যেই বিদ্যুৎ সরবরাহ সীমাবদ্ধ থাকলেও কখনোই সীমাবদ্ধ এলাকার গ্রাহকদের মাঝে চাহিদামতো বিদ্যুৎ সরবরাহ হয়নি। এখন সেই সংকট আরো বেড়ে গেছে। হাতিয়ায় বিদ্যুতের গ্রাহক সংখ্যা তিন হাজারের কম হলেও দ্বীপের গ্রাহকদের অভিযোগ, হাতিয়া আবাসিক প্রকৌশলীর কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নানা অনিয়মের মাধ্যমে মোটা অংকের ঘুষ নিয়ে সহ¯্রাধিক অবৈধ সংযোগ দিয়ে রেখেছেন। যার কারণে প্রকৃত গ্রাহকদের বিদ্যুৎ সংকট পোহাতে হয় প্রতিনিয়তই। প্রতি মাসে জেনারেটেরর তৈল চুরির অভিযোগও রয়েছে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে।

উপজেলার প্রান্তিক জনগোষ্ঠির অনেকেই বলেন, সারা দেশের বিভিন্ন উপজেলা শতভাগ বিদ্যুতের আওতায় এলেও হাতিয়ার মানুষ এখনোও অন্ধকারেই রয়ে গেছে। বিদ্যুতের অভাবে এখানকার ব্যবসা-বাণিজ্যসহ সকল পর্যায়ে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে।

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিউবো) হাতিয়া আবাসিক প্রকৌশলী মশিউর রহমান জানান, বর্তমানে যেটুকু বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়, তা দিয়ে উপজেলা পরিষদ ও হাসপাতালে ১০ ঘন্টা ও সাধারণ গ্রাহক এলাকায় ৩-৪ ঘন্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। তবে অচল এক মেগাওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন একটি জেনারেটরসহ তিনটি জেনারেটর মেরামত কাজ চলছে। অচিরেই বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরে আসবে।

  • সংবাদ সংলাপ/এমএস/বি

Sharing is caring!