মোহাম্মদ সোহেল, নোয়াখালী :
নোয়াখালী জেলা শহর মাইজদীর টাউন হল মোড়ের নোয়াখালী সমবায় ব্যাংক মার্কেট অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে নাম মাত্র মূল্যে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

এবিষয়ে ওই মার্কেটের ভুক্তভোগী দোকান মালিকরা দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), জেলা প্রশাসক, সমবায় অধিদপ্তরের নিবন্ধক এবং স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও সচিবের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

ভুক্তভোগী দোকান মালিক লিয়াকত আলী খান, দলিলুর রহমান দুলাল, রাশেদুল ইয়াছিন চৌধুরী মিঠু বলেন, গণপূর্ত বিভাগের নামে সৃজিত এম.আর.আর ৩নং খতিয়ানের ১৪১৫ দাগে ১ একর ৩০ শতাংশ সম্পত্তি গণপূর্ত বিভাগ জনস্বাস্থ্য বিভাগকে প্রদান করে। পরে জনস্বাস্থ্য বিভাগ ১৯৮২ সালের ০৭ অক্টোবর ১৬১৪৮ নম্বর একটি রেজিস্ট্রি চুক্তিপত্রের মাধ্যমে শর্তসাপেক্ষে ১৪ শতাংশ সম্পত্তি নোয়াখালী সমবায় ব্যাংক লিমিটেডকে হস্তান্তর করে। হস্তান্তর দলিলের ২ নম্বর শর্তে স্পষ্ট উল্লেখ করা হয়েছে জনস্বাস্থ্য বিভাগ কর্তৃক প্রদত্ত ওই জমি জনস্বাস্থ্য বিভাগের পূর্ব অনুমতি ছাড়া কাহারো নিকট বিক্রি বা হস্তান্তর করতে পারবেনা।

ওই জমি বুঝিয়ে নেওয়ার পর সমবায় ব্যাংক লিমিটেড সেখানে একটি ভবন নির্মাণের উদেশ্যে ১৯৮৯ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারী পত্রিকায় বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে ভবনের দোকান ঘর নির্ধারিত সেলামির বিনিময়ে বরাদ্ধের জন্য আবেদন আহবান করেন। বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর দোকান ঘর বরাদ্ধ পাওয়ার জন্য সমবায় ব্যাংক লিমিটেড কর্তৃপক্ষের কাছে ৩০জন ব্যক্তি আবেদন করেন। এদের মধ্যে কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে প্রতিটি দোকান ঘর ৫০ হাজার টাকা সেলামির বিনিময়ে ১৯জনকে ১৯টি রুম বরাদ্ধ দেয় সমবায় ব্যাংক লিমিটেড। এরপর থেকে বরাদ্ধ পাওয়া রুমগুলোতে ব্যবসা-বাণিজ্য করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছে সেলামিতে বরাদ্ধ পাওয়া দোকান ঘরের মালিকরা।

চলতি বছরের ৪ অক্টোবর নোয়াখালী সমবায় ব্যাংক লিমিটেডের চেয়ারম্যান মাহবুবুল হক আজাদ ও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বেলাল হোসেন জনস্বাস্থ্য বিভাগ ও সমবায় অধিদপ্তরের নিবন্ধকের পূর্ব অনুমতি ছাড়াই চুক্তি ভঙ্গ করে নোয়াখালী সমবায় ব্যাংক লিমিটেডের ওই মার্কেটটি অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে নাম মাত্র মূল্যে একটি ডেভেলপার কোম্পানীর কাছে বিক্রি করে দেয়।

ভুক্তভোগী মালিকরা জানান, ১৪ শতাংশ জমির উপর শহরের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত সমবায় মার্কেটের জমিটি বর্তমান বাজার মূল্য প্রতি শতাংশ ১ কোটি টাকা করে ১৪ কোটি টাকা হলেও মাত্র ১ কোট ৬০ লক্ষ টাকা মূল্যে ওই মাকের্টটি অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে বিক্রি করে দেয়। মাকের্টটি বিক্রি করে দেওয়ায় সমবায় সমিতির শেষ সম্বলটি আর থাকলো না। এতে আমাদেরকে পথে বসতে হবে।

জানা গেছে, স্থানীয় সরকার ও সমবায় মন্ত্রনালয়ের ২০১৯ সালের ২৮ জানুয়ারী এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে সমবায় সমূহের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি কেউ যদি বিক্রি করতে চায় সে ক্ষেত্রে মন্ত্রনালয়ের পূর্ব অনুমতি প্রয়োজন হয়। কিন্তু নোয়াখালী সমবায় সমিতির ক্ষেত্রে তা মানা হয়নি। আবদুল্লা আল মাহমুদকে পাওয়ার ও চুক্তিপত্র দলিল দেওয়ার পূর্বে সকল নিয়মই ভঙ্গ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে নোয়াখালী সমবায় ব্যাংক লিমিটেডের চেয়ারম্যান মাহবুবুল হক আজাদের বক্তব্য নিতে তার মুঠোফোনে মঙ্গলবার এবং বুধবার একাধিকবার কল করলে তিনি ফোন রিচিভ না করায় তার বক্তব্য নেওয়া যায়নি।

জনস্বাস্থ্য বিভাগ নোয়াখালীর নির্বাহী প্রকৌশলী পলাশ চন্দ্র দাস জানান, নোয়াখালী সমবায় ব্যাংক লিমিটেড মার্কেটটি বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে মর্মে মার্কেটের দোকান মালিকদের কাছ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। মাকের্টটি বিক্রিকালে আমাদের কাছ থেকে কোন অনুমতি নেওয়া হয়নি। শর্ত মোতাবেক সমবায় সমিতির ওই জায়গা বিক্রির সুযোগ নাই। এ বিষয়ে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সমবায় অধিদপ্তর চট্রগ্রাম বিভাগের যুগ্ম নিবন্ধক আশীষ কুমার বড়ুয়া মুঠোফোনে জানান, এবিষয়ে তিনি নোয়াখালী সমবায় দোকান মালিক কল্যাণ সমিতির একটি অভিযোগ পেয়েছেন। অভিযোগটি তদন্তাধীন রয়েছে। এ বিষয়ে ৩০ নভেম্বরের পর বিস্তারিত বলা যাবে।

  • সংবাদ সংলাপ/এমএস/রা

Sharing is caring!