ক্রীড়া সংলাপ :

জিম্বাবুয়ে সফরে ওয়ানডে সিরিজে দুর্দান্ত নৈপুণ্য দেখিয়ে সিরিজ সেরা হয়েছেন সাকিব আল হাসান। আজ (মঙ্গলবার) ঘরের মাঠে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৫ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে মাঠে নামবে টাইগাররা। সব ফরম্যাটে বাংলাদেশের সেরা পারফরমার সাকিব আল হাসানই বাংলাদেশের এক নম্বর ক্রিকেটার। স্বাভাবিক ফর্মের সাকিব মানেই ব্যাট ও বলে দলের সেরা পারফরমার। টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে বাংলাদেশ এখনো জিততে পারেনি অজিদের বিপক্ষে। চারবার খেলে প্রতিবারই মিলেছে পরাজয়। এই ৪ ম্যাচে বাংলাদেশের সেরা পারফরমারই সাকিব। ব্যাট হাতে ৩৫.৭৫ গড়ে ৪ ইনিংসে ১৪৩ রান আর বল হাতে ৪ খেলায় উইকেট ৫টি।

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এই ফরম্যাটে সাকিবের সেরা বোলিং ফিগার ২৭ রানে ৩ উইকেট। সেটাও অজিদের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে টাইগার বোলারদের যে কারও সেরা ম্যাচ ফিগার। অ্যারন ফিঞ্চ, স্টিভেন স্মিথ, ডেভিড ওয়ার্নার, গ্লেন ম্যাক্সওয়েলদের বিপক্ষে সাকিবের ওভারপিছু রান দেয়ার মাত্রাও কিন্তু বেশ নিয়ন্ত্রিত ৭.৮৪।

ব্যাটিংয়ের অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে এখন পর্যন্ত পর্যন্ত টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে বাংলাদেশের একজন মাত্র ব্যাটসম্যান হাফসেঞ্চুরি করেছেন, তিনি সাকিব। অজিদের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটের সেই একমাত্র হাফসেঞ্চুরিটি শেরে বাংলায়। দিনটি ছিল ২০১৪ সালের ১ এপ্রিল। হোম অব ক্রিকেটে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ম্যাচে অস্ট্রেলিয়া ৭ উইকেটে জিতলেও ব্যাট হাতে ৫২ বলে ৫ বাউন্ডারি আর ৩ ছক্কায় ৬৬ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেছিলেন সাকিব। এছাড়া মুশফিকুর রহিমও ৩৬ বলে ৪৭ রানের ইনিংস খেললে বাংলাদেশ ৫ উইকেটে ১৫৩ রানের স্কোর দাঁড় করায়।

কিন্তু তাতে শেষ রক্ষা হয়নি। অ্যারন ফিঞ্চ ৪৫ বলে ৭১ আর ডেভিড ওয়ার্নার ৩৫ বলে ৪৮ রানের দুটি কার্যকর ইনিংস খেললে অস্ট্রেলিয়া ৭ উইকেট হাতে রেখেই পৌঁছে যায় জয়ের বন্দরে। আজ থেকে শুরু হওয়া পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৫ উইকেট পেলে সাকিব প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে এ ফরম্যাটে এক হাজার রান ও ১০০ উইকেটের ডাবল পূর্ণ করবেন। ৭৯ টি-টোয়েন্টি ম্যাচে সাকিবের রান এক হাজার ৬০৪। বল হাতে উইকেট পেয়েছেন ৯৫টি। উইকেট শিকারির তালিকায় সাকিব আছেন শীর্ষ পাঁচে।

১০৭ উইকেট নিয়ে মালিঙ্গা সবার উপরে। এরপর ৯৯ উইকেট নিয়ে টিম সাউদি দুইয়ে। আফ্রিদির উইকেট ৯৮টি। ৯৫ উইকেট নিয়ে রশিদ খান ও সাকিব পাশাপাশি রয়েছে। তবে সাকিবের থেকে ২৮ ম্যাচ কম খেলে রশিদ রয়েছেন চারে। মিরপুরের চিনচেনা উইকেটে অসাধারণ কীর্তি গড়তে সাকিবের প্রয়োজন মাত্র ৫টি উইকেট। কাজটা খুব কঠিন হবার কথা নয় তার জন্য।

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সাকিবের জ্বলে ওঠা নতুন কিছু নয়। ২০১৬ সালের ২ মার্চ ব্যাঙ্গালুরুতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সাকিবের দুর্দান্ত অলরাউন্ডিং পারফরম্যান্সে অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে প্রায় সমান তালে লড়ে ৩ উইকেটে হেরেছিল টাইগাররা।

সাকিব সে ম্যাচে ব্যাট ও বল হাতে ছিলেন সমান উজ্জ্বল। প্রথমে ব্যাট হাতে ২৫ বলে খেলেন ৩৩ রানের ইনিংস। তারপর বল হাতে ৪ ওভারে ২৭ রান দিয়ে ৩ উইকেট শিকার। মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের ২৯ বলে ৪৯ আর সাকিবের ৩৩ রানে ভর করে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশ ১৫৬ রানের স্কোর দাড় করায়। কিন্তু তাতেও শেষ রক্ষা হয়নি। টাইগার সমর্থকদের প্রত্যাশা ২০১৯ সালের বিশ্বকাপে সাকিব ব্যাট-বলে যে নৈপুণ্য প্রদর্শন করেছেন এবার ঘরের মাঠে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সেই পারফরমেন্স প্রদর্শন করে সিরিজ জয়ে অগ্রণী ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবেন।

  • সংবাদ সংলাপ/এমএস/বি

Sharing is caring!