সংলাপ ডেস্ক :

করোনার মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত ৩৬ লাখেরও বেশি পরিবারকে আড়াই হাজার টাকা করে সহায়তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

গণভবন থেকে রোববার সকালে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন তিনি।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সারা দেশে বিনা পয়সায় খাদ্য সহায়তা দুর্যোগ মন্ত্রণালয়ের অধীনে সেটা চলু হয়ে গেছে। এক দফা দেয়া হয়েছে, আবার আমরা দেব।’

‘এখন আমরা বিভিন্ন শ্রেণির যেমন ভাসমান মানুষ, নির্মাণশ্রমিক, গণপরিবহন শ্রমিক, রেস্টুরেন্ট শ্রমিক, ফেরিওয়ালা, নরসুন্দর, দিনমজুর, রিকশা-ভ্যান চালক এবং যারা দৈনিক আয়ের ভিত্তিতে জীবিকা নির্বাহ করেন, তাদের আমরা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে প্রত্যেককে সাধ্যমতো যা কুলায় অর্থাৎ আড়াই হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেয়ার কার্যক্রম গ্রহণ করেছি। এখানে প্রায় ৩৬ লাখ ৫০ হাজার পরিবারকে নগদ সহায়তা আমরা দিচ্ছি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আর বিশেষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত শ্রেণি-পেশার মানুষকে সহযোগিতা সব সময় অব্যাহত থাকবে।

‘করোনার দ্বিতীয় ঢেউ এটা খুবই মারাত্মক। এটা মোকাবিলায় ইতিমধ্যে ত্রাণ ও দুর্যোগ মন্ত্রণালয় একদিকে যেমন খাদ্য সহায়তা দিচ্ছে, আবার আর্থিক সহায়তাও দিয়ে যাচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর কল্যাণ তহবিল থেকে ৬৪ জেলায় ইউনিয়ন হিসাব করে ডিসিদের কাছে কিন্তু টাকা আমরা রেখে দিয়েছি।

‘যেকোনো জায়গায় যখন প্রয়োজন হবে তারা যেন তাৎক্ষণিকভাবে খরচ করতে পারে, এ জন্য এটা দিচ্ছি। সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্ট, এটা জাতির পিতাই করে দিয়েছিলেন, সেখানেও আমরা ১০ কোটি টাকা দিয়ে দিচ্ছি।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘এ ছাড়া শিল্পী বা যন্ত্রসংগীতশিল্পী তাদেরও আমরা দিচ্ছি। মসজিদ-মাদ্রাসা কোনো জায়গাই আমরা বাদ দিইনি। আমি একটা কথা বলব, অন্তত দুস্থ মানুষ যারা, আপনারা তাদের পাশে একটু দাঁড়াবার চেষ্টা করবেন।’

এ সময় সমালোচকদেরও সমালোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘যারা, এটা করেনি, ওটা করেনি সরকার সমালোচনা করছেন তাদের কাছে আমার প্রশ্ন, নিজে কয়টা লোককে সাহায্য করেছেন? তার একটা হিসাব পত্রিকায় দিয়ে দেন। তাহলে মানুষ আস্থা পাবে।’

কার্যক্রম উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে ৩৫ লাখ নিম্ন আয়ের পরিবারের মোবাইল ব্যাংক অ্যাকাউন্টে সরাসরি প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত আড়াই হাজার টাকার আর্থিক সহায়তা দেয়া হচ্ছে।

করোনা পরিস্থিতির কারণে সাময়িক অসুবিধা লাঘবের জন্য গত বছরের মতো এ বছরও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে ৩৫ লাখ দিনমজুর, কৃষক, শ্রমিক, গৃহকর্মী, পরিবহনশ্রমিক ইত্যাদি পেশার নিম্ন আয়ের পরিবারকে আড়াই হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেয়া হচ্ছে। এতে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৮৮০ কোটি টাকা।

অতিদরিদ্র, কর্মহীন নিম্ন আয়ের জনগোষ্ঠী যেন এই কার্যক্রমের আওতায় আসে সে লক্ষ্যে বরাদ্দ প্রদানের ক্ষেত্রে দুর্যোগপ্রবণ, অতিদরিদ্র এলাকা এবং জনসংখ্যার অনুপাত বিবেচনায় নেয়া হয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে প্রকৃত দরিদ্র ব্যক্তি চিহ্নিত করা হয়েছে, যেন কেবল প্রকৃত অতিদরিদ্র জনগোষ্ঠীর কাছেই অর্থ পৌঁছায়।

  • সংবাদ সংলাপ/এসইউ/দু

Sharing is caring!