সংলাপ প্রতিবেদক :

করোনাভাইরাস পরিস্থিতি দেখে চলতি বছরের এসএসসি, এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষাগুলো সীমিত পরিসরে নেয়া হবে। পাবলিক পরীক্ষা দুটি নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী যে রূপরেখা দিয়েছেন তাকে ‘মন্দের ভালো’ বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষাবিদেরা।

বৃহস্পতিবার ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে এসে এ তথ্য জানান শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি। এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের কীভাবে মূল্যায়ন করা হবে, সে পদ্ধতিও জানালেন তিনি।

যেভাবে হবে মূল্যায়ন

এসএসসিতে ২৪টি ও এইচএসসিতে নৈর্বাচনিক বিষয়ে মোট ৩০টি অ্যাসাইনমেন্ট করতে হবে শিক্ষার্থীদের। তবে বাংলা, ইংরেজি, গণিত এমন আবশ্যিক বিষয় ও চতুর্থ বিষয়গুলোর ওপর পরীক্ষার্থীদের কোনো অ্যাসাইনমেন্ট করতে হবে না। কেবল গ্রুপভিত্তিক নৈর্বাচনিক তিন বিষয়ে পরীক্ষা নেয়া হবে।

এসএসসি ও সমমানের অ্যাসাইনমেন্ট ১৮ জুলাই থেকে দেয়া শুরু হবে। এসএসসি পরীক্ষার্থীদের ১২ সপ্তাহে ২৪টি অ্যাসাইনমেন্ট দেয়া হবে। তারা প্রতি সপ্তাহে দুটি করে অ্যাসাইনমেন্ট জমা দেবে। এসএসসির ক্ষেত্রে প্রতিটি নৈর্বাচনিক বিষয়ে মোট আটটি করে অ্যাসাইনমেন্ট করতে হবে। এর মাধ্যমে সংক্ষিপ্ত পাঠ্যসূচি সম্পন্ন করো হবে।

এইচএসসি ও সমমানের অ্যাসাইনমেন্ট ২৬ জুলাই শুরু হবে। ওই স্তরের শিক্ষার্থীদের ১৫ সপ্তাহে মোট ৩০টি অ্যাসাইনমেন্ট দেয়া হবে। তাদেরও গ্রুপভিত্তিক তিনটি নৈর্বাচনিক বিষয়ে মোট ছয়টি পত্রে (প্রথম পত্র ও দ্বিতীয় পত্র) এই অ্যাসাইনমেন্ট জমা দিতে হবে। প্রতি পত্রে পাঁচটি অ্যাসাইনমেন্ট জমা দিতে হবে। তাদেরও সপ্তাহে দুটি করে অ্যাসাইনমেন্ট জমা দিতে হবে। এভাবে তাদেরও সংক্ষিপ্ত সিলেবাস সম্পন্ন করা হবে।

সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী জানান, এবারও গত বছরের মতো সাবজেক্ট ম্যাপিং করা হবে। যেসব শিক্ষার্থীর পদার্থ, রসায়ন, জীববিজ্ঞান ও উচ্চতর গণিত আছে তাদের এসব বিষয়ে পরীক্ষা দিতে হবে। যারা এসএসসি দেবে তাদের সাবজেক্ট ম্যাপিংয়ের ক্ষেত্রে জেএসসি বিজ্ঞান বিষয়গুলোর সঙ্গে এসএসসির অন্যান্য বিষয়ভিত্তিক বিজ্ঞান বিষয়গুলো বিবেচনায় রাখা হবে। মানবিক বা কমার্সের বিষয়গুলোও কীভাবে মূল্যায়ন হবে সেটার বিস্তারিত স্কুলগুলোতে নির্দেশনা পাঠানো হবে।

কমবে পরীক্ষার সময়

সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী জানান, এসএসসি-এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে ২৪-৩০টি অ্যাসাইনমেন্টের ভিত্তিতে তিন ঘণ্টার পরীক্ষা দেড় ঘণ্টায় হবে। আর ১০০ নম্বরের পরীক্ষা হবে ৫০ নম্বরে।

তিনি আরও বলেন, তিন ঘণ্টার পরীক্ষা দেড় ঘণ্টায় নেয়া হবে। তাই কোনো শিক্ষার্থী যদি অ্যাসাইনমেন্টগুলো ভালোভাবে করে তবে পরীক্ষায় কোনো সমস্যা হবে না। আগে পরীক্ষায় যেমন ১০টি প্রশ্নের মধ্যে ৮টি প্রশ্নের উত্তর দিতে হতো। এখন সেই ১০টি প্রশ্নই থাকবে কিন্তু উত্তর দিতে হবে ৩টি প্রশ্নের। সেক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের অপশন বেড়ে যাবে। তাই পরীক্ষা দিতে সুবিধা হবে। মানবণ্টনও ১০০ নম্বরের জায়গায় ৫০ নম্বর করে দেয়া হবে। মূল্যায়নের সময় সেটাকে ১০০ নম্বরে কনভার্ট করে নেয়া হবে।

অ্যাসাইমেন্ট ও সাবজেক্ট ম্যাপিং এর মাধ্যমে মূল্যায়নের বিষয়ে শিক্ষাবিদ, অভিবাবক ও শিক্ষার্থীদের রয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। তবে সবাই সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে হলেও পরীক্ষা নেয়ার পক্ষেই মত দিয়েছেন।

এসএসসি ও এইচএসসি নিয়ে শিক্ষামন্ত্রীর ঘোষিত রূপরেখাকে বাস্তবসম্মত বলে উল্লেখ করেছেন শিক্ষাবিদ সৈয়দ মঞ্জুরুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘করোনা পরিস্থিতি বিবেচনায় শিক্ষামন্ত্রী আজ যে রূপরেখা দিয়েছেন এটাই বাস্তবসম্মত। তবে যে রূপরেখা ঘোষণা করা হয়েছে সেখানকার মূল্যায়নে ঘাটতি থাকতে পারে যদি যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ না করা হয়।’

মঞ্জুরুল ইসলাম বলেন, ‘পরিস্থিতি অনুকূলে আসা মাত্র পরীক্ষা নেয়ার বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে হবে। এক্ষত্রে আমাদের সেপ্টেম্বর মাসকে টার্গেট করতে হবে।’

শিক্ষামন্ত্রীর রূপরেখাকে ‘মন্দের ভালো’ বলে উল্লেখ করেছেন জাতীয় শিক্ষানীতি প্রণয়ন কমিটির সদস্য অধ্যাপক শেখ একরামুল কবির। তিনি বলেন, ‘সঠিক মূল্যায়ন তো হবে না। না হলে কিছুই হতো না, এখন কিছুটা হবে। এটা যে ফ্রুটফুল কিছু হবে তা কিন্তু না। যদি একেবারে পরীক্ষা না হয় একেবারে অটোপাস হয়ে যায় তাহলে তো কিছুই হতো না। বলা যায় এটা মন্দের ভালো।’

তিনি আরও বলেন, ‘সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে হতে পারলেও ভাল হতো। সম্পূর্ণ সিলেবাসে নিতে পারলে সবচেয়ে ভাল হতো। নৈর্বত্তিক বিষয়গুলোতে পরীক্ষা নিলে তাকে মন্দের ভালো বলা যায়।’

রহমানিয়া ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসার দাখিল পরীক্ষার্থী মো. আরিফুল হক বলেন, ‘যদি সাবজেক্ট ম্যাপিং করে ফল দেয়া হয় তাহলে শিক্ষার্থীদের সঠিক মূল্যায়ন নাও হতে পারে। আমি চাই যেন সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে হলেও পরীক্ষা নেয়া হোক।’

আব্দুল কুদ্দুস রানার ছেলে শাফায়েন রানা এবার রাজধানীর প্রভাতী স্কুল থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেবে। এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা নিয়ে শিক্ষামন্ত্রীর রূপরেখার বিষয়ে দৃষ্টি আর্কষণ করা হলে কুদ্দুস বলেন, ‘এখনকার যে পরিস্থিতি তাতে মনে হয় না পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

‘পরীক্ষা না হলে শুধু মাত্র সাবজেক্ট ম্যাপিং করলে শিক্ষার্থীদের যথাযথ মূল্যায়ন হবে না। কারণ, কোনো শিক্ষার্থী পঞ্চম ও অষ্টম শ্রেণির পরীক্ষায় খারাপ করতেই পারে। আমার মনে হয় অপেক্ষা করে হলেও পরীক্ষা নেয়া উচিত।’

  • সংবাদ সংলাপ/এমএস/বি

Sharing is caring!