নিউজ ডেস্ক :

দেশে গত বছর জুন-জুলাই মাসে করোনার সংক্রমণের প্রথম ঢেউ ছিল বেশ তীব্র। চলতি বছরের মার্চে শুরু হয়েছে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ। প্রথম ঢেউয়ের চেয়ে এবার সংক্রমণ বেশি তীব্র। প্রথম ঢেউয়ের চূড়ার (পিক) চেয়ে দ্বিতীয় ঢেউয়ের শুরুতেই দৈনিক রোগী শনাক্ত বেশি হচ্ছে।

করোনার বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দেশে লকডাউন দিয়েছে সরকার। এক সপ্তাহের লকডাউন শেষে আবারো বেড়েছে লকডাউনের সময়সীমা। এসময় সংক্রমণ রোধে আমাদের অনেক বেশি সচেতন থাকা জরুরি।

তবে করোনা নিয়ে আমাদের মধ্যে অনেক ভুল ধারণা জন্মেছে, যা জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করছে। করোনা সংক্রমণ থেকে বাঁচতে মানুষ এমন কিছু তথ্যের উপর বিশ্বাস করছে যা মোটেও সঠিক নয়।

আমেরিকার মেরিল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সংক্রামক রোগ ক্লিনিকের প্রধান ডা. ফাহিম ইউনুস গত ২০ বছর ধরে ভাইরাস নিয়ে কাজ করছেন। তার মতো ভাইরাস চেনা ডাক্তারের সংখ্যা খুবই কম। কোভিড-১৯ নিয়ে তিনি গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য টুইট করেছেন।

তিনি লিখেছেন, আমরা কত মাস বা বছর কোভিড-১৯ এর সঙ্গে থাকবো তা কেউ জানিনা। এই অজানা সময়কে অস্বীকার করার যেমন দরকার নেই, তেমনি আতঙ্কিত হবারও প্রয়োজন নেই। ক‌রোনাভাইরাস পর্যবেক্ষণ করে আমরা বিজ্ঞানীরা এ পর্যন্ত যা বুঝেছি তাতে বলতে পারি, আমাদের জীবনকে অহেতুক কঠিন করার কোনো প্রয়োজন নেই। আমাদের সুখে থাকা দরকার তার জন্যে দরকার করোনা নিয়ে সত্য কথাগুলো জানা।

করোনা নিয়ে ডা. ফাহিম ইউনুসের ‘সত্য’ কথাগুলো-

>> কোভিড থেকে বাঁচার শুধুমাত্র তিনটি উপায় আছে- মাস্ক পড়া, হাত ধোয়া এবং ১.৮ মিটার দূরত্ব বজায় রাখা। এই তিনটি কাজ ক‌রোনাভাইরাস থেকে রক্ষা পাবার সেরা পদ্ধতি।

>> গ্রীষ্মে ভাইরাসটি তার প্রভাব হ্রাস করে না। ভারত, ব্রাজিল এবং আর্জেন্টিনায় গ্রীষ্মকালেই ভাইরাসটি খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে।

>> বার বার গরম পানি পান করে কোনো লাভ নেই। কারণ সেলওয়ালে ঢুকে যাওয়া ভাইরাসকে পান করা গরম পানির উষ্ণতা কোনো ক্ষতি করতে পারেনা।

>> যদি আপনার বাড়িতে ক‌রোনায় আক্রান্ত রোগী না থাকে; তবে বাড়ির মেঝে, দেয়াল, উপরিভাগের সবকিছুকে জীবাণুমুক্ত করার কোনো দরকার নেই, এতে কোনো লাভ নেই।

>> কার্গো প্যাকেজ, শপিং ব্যাগ, পেট্রোল পাম্প, শপিং কার্ট বা ব্যাংকের এটিএম মেশিন সংক্রমণ সৃষ্টি করে না। বারবার নিজের হাত ধুয়ে নিন এবং যথারীতি জীবনযাপন করুন।

>> কোভিড-১৯ কোনো খাদ্য সংক্রমণ এর মাধ্যমে ছড়ানো রোগ নয়। এটি ফ্লুর সংক্রমণের মতো হাঁচি কাশির ফোটাগুলোর সঙ্গে সম্পর্কিত। অর্ডার করা খাবার থেকে কোভিড ১৯ সংক্রমণ হওয়ার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। আপনার অর্ডারকৃত খাবারগুলোকে আপনি চাইলে মাইক্রোওয়েভে কিছুটা গরম করে নিতে পারেন।

>> অনেকে মনে করেন ভাপ নিলে গরম বাষ্প শরীরে প্রবেশ করে ক‌রোনাভাইরাসকে নিঃ‌শেষ করে দেবে। কখনোই না। যা কোষে প্রবেশ করেছে তাকে কোনো প্রকার উষ্ণতা ধ্বংস করতে পারবে না, তা পানি বা বাষ্প যাই হোক।

>> অনেক অ্যালার্জি এবং অন্য ভাইরাসজনিত সংক্রমণ হলেও আপনি গন্ধ অনুভূতি হারাতে পারেন। গন্ধ না পাওয়া কোভিড-১৯ এর একটি অনির্দিষ্ট লক্ষণ, সুনির্দিষ্ট নয়।

>> বাইরে থেকে বাড়ি ফিরে আসার পর তাৎক্ষণিক জামাকাপড় পরিবর্তন করার এবং গোসল করার কোনো দরকার নেই। করোনা ঠেকাতে এটির প্রয়োজন নেই।

>> কোভিড-১৯ ভাইরাসটি বাতাসে ভেসে থাকে না। এটি একটি ড্রপ সংক্রমণ যার জন্যে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ প্রয়োজন। তাই আপনি খোলা পার্কের নির্মল বাতাসে অন্য মানুষের সঙ্গে দূরত্ব বজায় রেখে ঘুরে আসতে পারেন।

>> করোনা মানুষের জাতি বা ধর্ম বুঝে আক্রমণ করেনা, যেকোনো ধরণের যেকোনো জাতির মানুষ এতে আক্রান্ত হতে পারে।

>> অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল বিশেষ সাবান ব্যবহার না করে করোনার বিপরীতে যেকোনো সাধারণ সাবান ব্যবহার করাই যথেষ্ট। ক‌রোনাভাইরাস কোনোভাবেই ব্যাকটেরিয়া নয়।

>> আপনার জুতার মাধ্যমে কোভিড ১৯ বাড়িতে এনে অসুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা দিনে মাথায় দু’বার বজ্রপাত হবার মতো। আমি ২০ বছর ধরে ভাইরাসের বিরুদ্ধে কাজ করে যাচ্ছি, বুঝেছি ড্রপ সংক্রমণ কখনো জুতার মাধ্যমে ছড়ায় না।

>> ভিনেগার, সোডা, আদার রস, বিভিন্ন হারবের রস জাতীয় জিনিস পান ভাইরাস থেকে রক্ষা করে না। এর বৈজ্ঞানিক কোনো প্রমাণ নেই।

>> সারাক্ষণ গ্লাভস পরে থাকা একটি ভুল ধারণা, ভাইরাসটি গ্লাভসে জমে থাকতে পারে। তারপর নিজের অজান্তে আপনার মুখটি স্পর্শ করলে সহজেই সংক্রমণ হতে পারে।

>> রেস্টুরেন্ট কর্মীরা একটি গ্লাভস পরেই সব খাদ্য স্পর্শ করতে থাকে, এটি মাঝে মধ্যেই বদলানো দরকার। সাধারণ মানুষদের জন্য গ্লাভসের বদলে বার বার হাত ধোয়াই ভালো।

  • সংবাদ সংলাপ/এমএস/দু

Sharing is caring!