মোহাম্মদ সোহেল, নোয়াখালী :
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে কিশোরীকে অপহরণ করে তিন মাস আটকে রেখে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও ভিডিও ছড়িয়ে দেয়ার হুমকির অভিযোগে দায়েরকুত মামলায় ঘটনার মূলহোতাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (১৬ নভেম্বর) দুপুরে টাঙ্গাইলের সখিপুর থেকে তাকে গ্রেফতার করে বেগমগঞ্জ মডেল থানার পুলিশ। এরআগে রোববার রাতে এ ঘটনায় বেগমগঞ্জ থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করে ভুক্তভোগী কিশোরী। পরে পুলিশ স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য ভিকটিমকে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে পাঠায়।

গ্রেফতারকৃত কামাল হোসেন বেগমগঞ্জ উপজেলার নরোত্তমপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মহাজন বাড়ির মৃত জালাল আহমদের ছেলে।

বেগমগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর জাহেদুল হক রনি ধর্ষক কামালকে গ্রেফতারের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, অভিযুক্ত ধর্ষককে টাঙ্গাইলের সখীপুর থেকে গ্রেফতার হয়। তাকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে বুধবার সকালে নোয়াখালী চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হবে।

মামলার এজাহারে বলা হয়, এলাকার কিছু যুবক ১৬ বছরের ওই কিশোরীকে স্কুলে যাওয়া-আসার পথে উত্ত্যক্ত করত। একপর্যায়ে গত ২৬ আগস্ট সকালে স্কুলে যাওয়ার সময় মো. কামাল হোসেন, আবদুল্ল্যাহ আল মামুন, মো. নাছের ও মো. ফরহাদ তাকে অপহরণ করে একটি বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে কামাল হোসেন ও মামুন তাকে ধর্ষণ করেন। এরপর ২৮ সেপ্টেম্বর দুপুরে তারা তাকে টাঙ্গাইলের শহিদপুর গ্রামের একটি বাড়িতে আটকে রাখেন। সেখানেও ওই যুবকরা তাকে ধর্ষণ করেন ও ধর্ষণের ভিডিও করে রাখেন।

গত ৯ নভেম্বর মেয়েটি কৌশলে তার বাড়িতে পালিয়ে আসে। শারীরিকভাবে কিছুটা সুস্থ হলে রোববার রাতে বেগমগঞ্জ মডেল থানায় মামলা করে।

রাষ্ট্রপক্ষের সহকারী আইনজীবী মোশাররফ হোসেন বলেন, বাদী যখন আমাকে দিয়ে এজাহার লেখাচ্ছিলেন তখনও ওই যুবকরা তাকে মোবাইলে একাধিকবার ফোন দিয়ে মামলা না করতে চাপ দেয় ও মামলা করলে হত্যার হুমকি দেয়। রোববার রাত ৯টার দিকে মামলা করেন নবম শ্রেণির ওই ছাত্রী। এ সময়ও তাকে মামলা তুলে নেয়ার জন্য ফোনে হুমকি দেয়া হয় বলে জানান তার আইনজীবী।

  • সংবাদ সংলাপ/এমএস/বি

Sharing is caring!