মোহাম্মদ সোহেল, নোয়াখালী :
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার চৌমুহনী সরকারি এসএ কলেজের ৩ ছাত্রলীগ কর্মীর সাথে গানের সুর মেলাতে গিয়ে ধরা খেলেন কুমিল্লার নানুয়ার দিঘীরপাড় দুর্গা পূজামন্ডপে পবিত্র কোরআন শরীফ রেখে আসার ঘটনায় অভিযুক্ত ইকবাল হোসেন।

চৌমুহনী সরকারি এসএ কলেজের ব্যবস্থাপনা বিষয়ের মাস্টার্সের ছাত্র এবং ছাত্রলীগ কর্মী মেহেদী হাসান মিশু জানান, সোমবার (১৮ অক্টোবর) রাতে তার বন্ধু সাজ্জাদুর রহমান অনিক ও তাদের ঢাকার ৩ ব্যবসায়ী বন্ধু রায়হান, মামুন ও হৃদয়সহ ৫ বন্ধু কক্সবাজার বেড়াতে যায়। মঙ্গলবার (১৯ অক্টোবর) সকালে সেখানে থাকা আরেক বন্ধু সাইফুল ইসলাম সাইফ তাদের সাথে যোগ দেয়। এরপর বুধবার (২০ অক্টোবর) বিকাল ৪টায় দরিয়ানগরে ঘুরতে বের হয়। সেখানে তারা ৬ বন্ধু মিলে সময় কাটাতে গান গাওয়ার সময় একজন অপরিচিত লোক (ইকবাল) তাদের সাথে সুর মেলাতে থাকে। এরপর ওই রাতে তারা রুমে যাওয়ার পর টেলিভিশন এবং ফেসবুকে ইকবালের ছবি দেখে তাদের সন্দেহ হয়।

ছাত্রলীগ কর্মী মেহেদী হাসান মিশু বলেন, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তারা সুগন্ধা পয়েন্টে গেলে ইকবালের সাথে তাদের আবার দেখা হয়। তখন ইকবালের সাথে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হওয়া ছবি মিলিয়ে দেখলে দেখা যায় ছবির সাথে ইকবালের চেহারার মিল রয়েছে। এরপর তারা ইকবালের সাথে সখ্যতা গড়ে তোলেন। এক পর্যায়ে ইকবাল পালিয়ে যেতে চাইলে, তাকে নাস্তা ও সিগারেট খাইয়ে কৌশলে আটকে রাখেন ছাত্রলীগ কর্মীরা। এ সময় তার নাম জানতে চাইলে, সে ইকবাল বলে জানায়। তখন তারা পূজা মন্ডপে কুরআন শরীফ রাখার বিষয়ে জানতে চাইলে ইকবাল বলেন আল্লাহ আমাকে দিয়ে এটা করয়েছেন, সবই আল্লাহর ইচ্ছা। তখন তারা কৌশলে ইকবলের ছবি তুলে মোবাইলে নোয়াখালীর এএসপি শাহ ইমরানের সাথে কথা বলে তার ছবি পাঠাই। তিনি ছাত্রলীগ কর্মীদের কুমিল্লার পুলিশ সুপারের মোবাইল নম্বর দেন। এরপর, কুমিল্লার পুলিশ সুপারের সাথে যোগাযোগ করে ছবি পাঠালে, তিনি কক্সবাজারের পুলিশ সুপারকে অবহিত করেন। পরবর্তিতে রাত সাড়ে ১০ টায় পুলিশ এসে তাকে আটক করে নিয়ে যায়।

ছাত্রলীগ কর্মীরা হলেন, বেগমগঞ্জ উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের দেলোয়ার হোসেনের ছেলে মেহেদী হাসান মিশু, চৌমুহনী পৌরসভার গনিপুর গ্রামের আবুল কালাম আজাদের ছেলে সাজ্জাদুর রহমান অনিক ও দুর্গপুর ইউনিয়নের রাজাপুর গ্রামের কবির আহমেদের ছেলে সাইফুল ইসলাম সাইফ। এদের মধ্যে সাইফুল ইসলাম সাইফ কক্সবাজারে চাকুরি করেন। দীর্ঘ ১০ বছর যাবত চৌমুহনী সরকারি এসএ কলেজ ছাত্রলীগের কমিটি না থাকায় তারা নিজেদের ছাত্রলীগের সিনিয়র কর্মী হিসেবে দাবি করেন। শুক্রবার বিকাল সাড়ে ৫টায় মিশু এবং অনিক চৌমুহনীতে এসে পৌঁছান।

জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আবুল হাসনাত আদনান জানান, মেহেদী হাসান মিশু, সাজ্জাদুর রহমান অনিক ও সাইফুল ইসলাম সাইফ তিনজনই ছাত্রলীগের সক্রিয় কর্মী। তিনজনের মধ্যে সাইফুলের চাকুরি হয়েছে মৎস্য অধিদপ্তরে। মিশু এবং অনিক সংগঠনের প্রত্যেকটি কর্মসূচিতে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহন করেন।

বেগমগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শাহ ইমরান বলেন, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মেহেদী হাসান মিশু ও সাজ্জাত রহমান অনিক যোগাযোগ করলে, তাদেরকে কুমিল্লা পুলিশ সুপার ও কক্সবাজার পুলিশ সুপারের সাথে যোগাযোগ করিয়ে দিই।

এরআগে, কুমিল্লার পূজামন্ডপে পবিত্র কুরআন শরীফ রাখার ঘটনায় ১৬ মিনিট ৫২ সেকেন্ডের একটি সিসিটিভির ভিডিও ফুটেজ গণমাধ্যমের কাছে সরবরাহ করা হয়। সেখানে দেখা যায়, অভিযুক্ত ইকবাল হোসেন মসজিদ থেকে কীভাবে পবিত্র কুরআন শরিফ নিয়ে বের হয়ে পূজামন্ডপের দিকে যান এবং মন্ডপ থেকে হনুমানের গদা হাতে নিয়ে ফেরেন।

  • সংবাদ সংলাপ/এমএস/রা

Sharing is caring!