সংলাপ প্রতিবেদক :

রাজধানীর চন্দ্রিমা উদ্যানে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের সমাধিতে তার মরদেহ নেই প্রধানমন্ত্রীর এমন বক্তব্যকে ‘মিথ্যাচার’ বলছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। জানান, চন্দ্রিমায় যে জিয়ার মরদেহ রয়েছে সেই সাক্ষী প্রয়াত হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। নিজের কাঁধে জিয়ার মরদেহ বহন করেছেন সে সময়ের সেনা অধিনায়ক।

গুলশানের বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন মির্জা ফখরুল।

তিনি বলেন, ‘দুদিন আগে এক দলীয় সভায় আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। জিয়া কোথায় যুদ্ধ করেছেন সেই প্রমাণ নেই বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। সেই সঙ্গে চন্দ্রিমা উদ্যানে জিয়াউর রহমানের কবর নেই বলেও মন্তব্য করেন।

ঢাকার চন্দ্রিমা উদ্যানে জিয়াউর রহমানের লাশ রয়েছে জোর দাবি করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘চন্দ্রিমা উদ্যানে জিয়াউর রহমানের লাশ দাফন করা হয়েছিল। এটা তো চাঁদের আলোর মতো পরিষ্কার। এর চেয়ে বড় সত্য আর কিছু হতে পারে না। কারণ তৎকালীন সেনা অধিনায়ক জেনারেল এরশাদ নিজেই জিয়াউর রহমানের লাশ বহন করেছেন।’

১৯৮১ সালে চট্টগ্রামে এক ব্যর্থ অভ্যুত্থানে জিয়াউর রহমান নিহত হওয়ার পর তাকে সমাহিত করা হয় সেখানেই। পরে সেখান থেকে সরিয়ে জিয়ার দেহাবশেষ চন্দ্রিমা উদ্যানে সমাহিত করার কথা জানানো হয় বিএনপি থেকে। দেহাবশেষ কফিনে করে আনা হয়েছিল, কিন্তু কফিনের মুখ তখন খোলা হয়নি।

বিষয়টি নিয়ে গত বৃহস্পতিবার আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে শোক দিবসের আলোচনায় সভায় কথা বলেন প্রধানমন্ত্রীও। জানান, চন্দ্রিমায় জিয়াউর রহমানের কোনো মরদেহ নেই। এটা বিএনপিও জানে।

সম্প্রতি চন্দ্রিমা উদ্যানে পুলিশের সঙ্গে বিএনপি নেতাদের সংঘর্ষের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘আজকে চন্দ্রিমা উদ্যানে জিয়ার কবরে গিয়ে যে মারামারি করল বিএনপি, তারা জানে না যে সেখানে জিয়ার কবর নাই, জিয়া নাই ওখানে, জিয়ার লাশ নাই? তারা তো ভালোই জানে। তাহলে এত নাটক করে কেন? খালেদা জিয়াও ভালোভাবে জানে।’

খোদ এরশাদের কাছ থেকেই এ তথ্য শোনা জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘খালেদা জিয়া বা তারেক জিয়া কি বলতে পারবে তারা তাদের (স্বামী ও) বাবার লাশ দেখেছে? গুলি খাওয়া লাশ তো দেখাই যায়। তারা কি দেখেছে কখনও বা কেউ কি কোনো ছবি দেখেছে কখনও? দেখেনি। কারণ ওখানে কোনো লাশ ছিল না। ওখানে একটা বাক্স আনা হয়েছিল। সেখানে ওই বাক্সের ফাঁক দিয়ে যারা দেখেছে, সেই এরশাদের মুখ থেকেই শোনা, কমব্যাট ড্রেস পড়া ছিল। জিয়াউর রহমান তখন প্রেসিডেন্ট। সে তখন কমব্যাট ড্রেস পড়ে না। এটা কি বিএনপির লোকরা জানে না?’

জিয়াউর রহমানের মতো নেতাকে নিয়ে এমন বক্তব্য দেয়াকে রাজনৈতিক দেউলিয়াত্বের প্রমাণ হিসেবে উল্লেখ করেন বিএনপির মহাসচিব। তিনি বলেন, ‘জনগণের দৃষ্টি ভিন্ন খাতে নেয়ার জন্যই জিয়াউর রহমানের মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ ও সমাধি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী মিথ্যাচার করেছেন।

‘তাদের এসব কথা বলার মানে হচ্ছে তারা কিছু ইস্যু তৈরি করছে। আর তারা যে রাজনীতিতে দেউলিয়া হয়ে গেছে এটাই বড় প্রমাণ। মানুষের দৃষ্টিকে অন্যদিকে নিয়ে যাওয়ার প্রচেষ্টা মাত্র।’

চন্দ্রিমা উদ্যানে জিয়াউর রহমানের মরদেহ নেই প্রধানমন্ত্রীর এমন মন্তব্যের সমালোচনা করেছেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্ট্রি ডা. জাফরুল্লাহ।

শুক্রবার রাজধানীর এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠ জাদুকর শেখ হাসিনা। কী অপূর্ব পরিকল্পনায় তিনি ২০১৮ সালের নির্বাচনের রাতে সবকিছু উল্টে দিলেন। ঠিক একইভাবে এখন উনি বলতে শুরু করেছেন চন্দ্রিমা উদ্যানে জিয়াউর রহমানের শবদেহ নেই।

‘শেখ হাসিনা ইতিহাস ভুলে গেছেন। জিয়াউর রহমানের বডি যারা গ্রহণ করেছে তাদের অনেক এখনও বেঁচে আছেন। সর্বকালে বৃহৎ জনসমাগম হয়েছিল জিয়াউর রহমানের মরদেহ যখন মানিক মিয়া এভিনিউতে আনা হয়েছিল।’

  • সংবাদ সংলাপ/এমএস/বি

Sharing is caring!