মোহাম্মদ সোহেল, নোয়াখালী :
নোয়াখালীর প্রধান বাণিজ্য কেন্দ্র চৌমুহনীতে বারবার ভয়াবহ অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটেছে। সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার (২৮ এপ্রিল) সন্ধ্যায় চৌমুহনী বাজারে ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে দুই শতাধিক দোকান পুড়ে যায়। প্রতিবারই আগুনে সর্বশান্ত হচ্ছে ব্যবসায়ীরা। বাড়ছে ক্ষয়-ক্ষতির পরিমাণ।

শনিবার (৩০ এপ্রিল) দুপুরে অগ্নিকান্ডে পুড়ে যাওয়া এলাকা পরিদর্শন করেন জেলা আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ। এসময় ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দারা বারবার অগ্নিকান্ডের জন্য সরু গলী, ফুটপাত দখল ও সরকারি জলাশয় ভরাট করে ভবন নির্মাণসহ অপরিকল্পিত নগরায়নকে দুষেছেন। তাদের দাবি এখনই উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে সংকট আরো প্রকট হওয়ার শংকা রয়েছে।

ঈদকে সামনে রেখে ক্রেতার ভীড়ে সরগরম ছিল চৌমুহনীর ব্যাংক রোড মার্কেট ও রেল ষ্টেশন মার্কেট। টানা দুই বছর করোনার থাবায় সর্বশান্ত ব্যবসায়ীদের মুখেও ছিল উচ্ছ্বাস। কিন্তু বিধি বাম। হঠাৎ বিদ্যুতের শর্টসার্কিটের আগুনে মুহুর্তের মধ্যেই পুড়ে যায় দুই শতাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। প্রায় সাড়ে ৬ ঘন্টা দমকল বাহিনীর ৯টি ইউনিট চেষ্টা চালিয়ে রাত দেড়টায় কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আনে আগুন। সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনতে সময় লাগে শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত। শনিবার দুপুর পর্যন্ত অগ্নিকান্ডের ঘটনায় ক্ষতবিক্ষত ছিল চৌমুহনী বাজার।
ঘটনাস্থল পরির্দশনকালে জেলা আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী ডা. মো. এনামুর রহমানের সাথে মুঠোফোনে কথা বলেন। এসময় মন্ত্রী ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী ও দোকান মালিকদের সহযোগিতার আশ^াস দেন।
এসময় উপস্থিত ছিলেন, জেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক খায়রুল আনম সেলিম, সিনিয়ির যুগ্ম-আহ্বায়ক এডভোকেট শিহাব উদ্দিন শাহীন, নোয়াখালী-৩ (বেগমগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য মামুনুর রশিদ কিরন, সাবেক পৌর মেয়র আক্তার হোসেন ফয়সাল ও বেগমগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শাহনাজ বেগমসহ দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, প্রায় প্রতি বছরই ঈদের আগ মুহুর্তে অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে। বাজারের ভেতরে দমকল বাহিনী থাকলেও সরু পথ, অবৈধ ফুটপাত থাকায় নির্দিষ্ট সময়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছতে পারে না তারা। আবার চৌমুহনী বাজারের আশপাশের সরকারি পুকুর-জলাশয়গুলো দখল করে অবৈধভাবে ভবন নির্মাণ করায় পানি সংকট রয়েছে চরমে। ফলে আগুনে ক্ষতির তালিকা দীর্ঘ হচ্ছে ব্যবসায়ীদের।
জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়ির যুগ্ম-আহ্বায়ক এডভোকেট শিহাব উদ্দিন শাহীন বলেন, চৌমুহনী বাজারের বয়াবহ অগ্নিকান্ডের ঘটনায় তিনশ কোটি টাকার ওপরে ব্যবসায়ীদের ক্ষতি হয়েছে। অগ্নিকান্ড নিয়ন্ত্রণে সময় লাগার বিষয়ে আমাদের কাছে যে অভিযোগ এসেছে, এখানে জলাশয়ের পর্যাপ্ত অভাব রয়েছে। চৌমুহনী এত বড় বাজার, কিছু সুযোগ সন্ধানী ব্যক্তি অপকৌশলে অধিকাংশ জলাশয় দখল করে ফেলেছে। যার কারণে ফায়ার সার্ভিসের অনেক টিম আসার পরও পর্যাপ্ত পানির অভাবে সঠিক সময়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেনি। সামনে আরো বড় বিপদ থেকে রক্ষা পেতে এই এলাকার জলাশয়গুলোকে অবৈধ দখল মুক্ত করে জলাশয়গুলো সংস্কারের দাবি জানান তিনি।
নোয়াখালী-৩ (বেগমগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য মামুনুর রশিদ কিরন বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী ও দোকান মালিকদের তালিকা করা হচ্ছে। সহযোগিতার মাধ্যমে আমরা তাদের পাশে দাঁড়াবো। আগামীতে চৌমুহনী বাজারের ব্যবসায়ীদের বড় ধরনের ক্ষতির হাত থেকে মুক্ত রাখতে এই এলাকার সরকারি জলাশয়গুলো অবৈধ দখলমুক্ত করা হবে এবং বাজারের ভিতরের গলিগুলো আরো প্রসস্থ করা হবে।

  • সংবাদ সংলাপ/এমএস/বি

Sharing is caring!