সংলাপ প্রতিবেদক :

কানাডার ওন্টারিওতে একটি মুসলিম পরিবারের ওপর গাড়ি চালিয়ে দিয়েছে এক যুবক। এতে প্রাণ হারিয়েছেন ওই পরিবারের চারজন। অন্টারিও প্রদেশের লন্ডন শহরের এ হত্যাযজ্ঞ তীব্র মুসলিম বিদ্বেষ থেকেই ঘটেছে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

কানাডার জনপ্রিয় অনলাইন টরেন্টো স্টার ও আলজাজিরার প্রতিবেদনে এভাবেই বর্ণনা করা হয়েছে এই হত্যাযজ্ঞকে।

শহরটির মেয়র এড হোল্ডার বলেন, এটি মুসলমানদের বিরুদ্ধে এক নির্বিচার হত্যাযজ্ঞ। এর পেছনে রয়েছে গভীর বিদ্বেষ। ওন্টারিও গোয়েন্দা পুলিশ বিভাগও তা-ই বলছে। প্রাথমিকভাবে পুলিশ আরও জানিয়েছে এ হত্যাযজ্ঞ পূর্বপরিকল্পিত এবং আগে থেকেই মুসলিম বিদ্বেষ দিয়ে গাড়ির চালকের মানসিকতাকে বিষিয়ে তোলা হয়েছে। তার মধ্যে জাগিয়ে তোলা হয়েছে ইসলাম ভীতি। আর তারই করুণ পরিণতি চারচারটি তাজা প্রাণ অকালে পৃথিবী থেকে ঝরে গেল।

নিহত পরিবারের সদস্যরা। ছবি: টিআরটি ওয়ার্ল্ড

২০১৭ সালে কানাডার ক্যুইব্যাক প্রদেশে এক মসজিদে এক ব্যক্তি গুলি করে ছয় জনকে হত্যা করেছিল। সেই আতঙ্ক এখনও দগদগে কানাডার মুসলিমদের স্মৃতিতে। প্রতিবছরই তারা সেই দুঃসহ ঘটনার কথা স্মরণ করে। এর চার বছরের মাথায় অন্টারিওতে ঘটলো এই হৃদয় বিদারক ঘটনা। এ ঘটনায় এখন নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে দেশটির মুসলিম জনগোষ্ঠীর মধ্যে। অন্টারিওর লন্ডন শহরের এই ঘটনা নিয়ে শহরটির মেয়র এড হোল্ডার বলেন, এ ঘটনা তার শহরে এ পর্যন্ত দেখা সবচেয়ে ভয়ংকর হত্যাকাণ্ড। তিনি বলেন, লন্ডন শহরটিতে প্রায় ৪ লাখ বাসিন্দা রয়েছে। এখানে একটি বিশাল মুসলিম সম্প্রদায় রয়েছে। শহরে ইংরেজির পরে আরবি হলো দ্বিতীয় বৃহত্তম ভাষা।

কানাডার বিভিন্ন প্রদেশে ইসলামভীতি বাড়ছে, ফলে এর অনাকাঙ্ক্ষিত শিকার হতে পারেন মুসলিমরা। দেশটির সরকার আগেই এমন উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল। বলা হচ্ছিল, দেশটিতে বর্ণবাদ, জাতিবিদ্বেষ, বিদ্বেষপ্রসূত সহিংসতা এবং কট্টর ডানপন্থিদের তৎপরতা বাড়ছে। এই উদ্বেগ উৎকণ্ঠার মধ্যেই ঘটলো অন্টারিও প্রদেশের লন্ডন শহেরর এই হামলা। হামলকাকারী নাথানিয়েল ভেলটম্যান একজন ২০ বছর বয়সী কিশোর।

নিহতের স্মরণে পুষ্পস্তবক দিয়ে শোক ও সমবেদনা জানান শিশু-কিশোরসহ সব বয়সের মানুষ। ছবি: টরেন্টো স্টার

লন্ডনের পুলিশ বিভাগের গোয়েন্দা পুলিশ সুপার পল ওয়েট সাংবাদিকদের বলেন, ‘প্রমাণ রয়েছে, এটি ঘৃণা-বিদ্বেষ থেকে একটি পূর্ব-পরিকল্পিত কাজ। আমরা বিশ্বাস করি হতাহতরা তাদের ইসলামিক বিশ্বাসের কারণে এ হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছেন।’

হামলার শিকার পারিবারটির এক সদস্যের বন্ধু জাহিদ খান জানান, নিহতদের মধ্যে তিন প্রজন্মের মধ্যে একজন দাদি, বাবা, মা ও কিশোরী কন্যা রয়েছে। তিনি বলেছেন, ১৪ বছর আগে পরিবারটি পাকিস্তান থেকে চলে এসেছিল এবং লন্ডন মুসলিম মসজিদের নিবেদিত, ভদ্র ও উদার সদস্য ছিল।

পরিবরাটির সদস্যরা একটি বিবৃতি দিয়ে বলেছেন, আমরা চাই এ দুঃখজনক ঘটনা যেনো দেশটির সাধারণ নাগরিকদের সবধরণের ঘৃণা ও ইসলামভীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে প্রেরণা দেয়। এতে আরও বলা হয়েছে, ‘এই সন্ত্রাসী হামলা চালানো যুবকের পেছনে এই একটি গোষ্ঠীর প্ররোচনা রয়েছে। আমরা চাই এই ন্যাক্কারজনক হামলার পেছনে থাকা ওই গোষ্ঠী এবং এ ধরনের কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে সবাই সোচ্চার হবেন।

কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো টুইট করে সমবেদনা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, এটি একটি ঘৃণিত কাজ। এ ঘটনায় তিনি আতঙ্কিত। তিনি বেঁচে যাওয়া শিশু ও নিহতদের প্রিয়জনদের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, লন্ডনের মুসলিম সম্প্রদায় এবং সারা দেশের মুসলমানদের সঙ্গে আমরা আছি। আমাদের কোন সম্প্রদায়ে ইসলাম-ভীতির কোন স্থান নেই। ট্রুডো টুইটে আরও বলেন, এই ঘৃণা প্রতারণামূলক এবং ঘৃণ্য কাজগুলো অবশ্যই বন্ধ করতে হবে।

  • সংবাদ সংলাপ/এমএস/বি

Sharing is caring!