ক্রীড়া সংলাপ :

প্রথমে ব্যাটিংয়ে নেমে অস্ট্রেলিয়াকে খুব বড় টার্গেট দিতে পারেনি বাংলাদেশ। তাতে আত্মবিশ্বাস হারায়নি টাইগাররা। দাপটের সঙ্গেই ক্যাঙ্গারুদের হারিয়ে দিয়েছে তারা। অজিদের বিপক্ষে প্রথমবার টি-টোয়েন্টিতে জয়ের উচ্ছ্বাসে মাতল লাল-সবুজ।

মিরপুরের শের-ই-বাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার দারুণ লড়াই শেষে অস্ট্রেলিয়াকে ২৩ রানে হারানোয় পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল টাইগাররা।

অসাধারণ এই জয়ে বাংলাদেশ দলকে অভিনন্দন জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী।

টসে হেরে প্রথমে ব্যাটিংয়ে নামে মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের বাহিনী। অভিজ্ঞ ও পরীক্ষিত তামিম, মুশফিক ও লিটনকে ছাড়াই ২২ গজে ব্যাটিংয়ের চ্যালেঞ্জে নেমে ১৩১ রান তোলে বাংলাদেশ।

জবাবে নাসুম আহমেদের স্পিন জাদু এবং মুস্তাফিজুর রহমান ও শরিফুল ইসলামের দারুণ পেইসে ১০৮ রানেই থামতে হয় অস্ট্রেলিয়াকে।

টি-টোয়েন্টিতে সবচেয়ে কম রান ডিফেন্ড করে এটিই জয়ের রেকর্ড বাংলাদেশের। এর আগে ২০১৬ সালে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে ১৩৩ রান করে জিতেছিল বাংলাদেশ।

শুরুতেই সৌম্যকে হারিয়ে বিপর্যয়ে পড়া বাংলাদেশকে পথে রাখেন ওপেনার মোহাম্মদ নাইম ও সাকিব আল হাসান। ২৯ বলে ৩০ রানের ইনিংস উপহার দিয়ে ফেরেন নাইম। আর ৩৩ বলে সাকিবের ৩৬ এ রানের ধারা অব্যাহত রাখে টাইগাররা। নাইমের বিদায়ের পর ২০ বলে ২০ রান করে সাজঘরে ফেরেন মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ।

বাঘের থাবায় ক্যাঙ্গারু বধ্‌
২৩ রানের ইনিংস খেলার পথে আফিফ হোসেনের একটি শট। ছবি: এএফপি

মাঝে উইকেটকিপার নুরুল হাসান সোহান ৩ রানে বিদায় নেয়ার পর ১৭ বলে ২৩ রানের কার্যকরী ইনিংস খেলেন আফিফ হোসেন। থিতু হওয়ার আগেই ফিরতে হয় জিম্বাবুয়ে সিরিজে বাংলাদেশের বিস্ময় শামীম পাটওয়ারিকে। শেষ দিকে মেহেদী হাসান ৬ বলে ৭ রান করলে ৭ উইকেট ১৩১ রানের পুঁজি পায় বাংলাদেশ।

অস্ট্রেলিয়ার হয়ে তিনটি উইকেট নেন পেইসার জশ হেইজেলউড। দুই উইকেট নেন মিচেল স্টার্ক।

লক্ষ্য খুব বড় ছিল না অ্যারন ফিঞ্চ, স্টিভেন স্মিথ, প্যাট কামিন্স, ডেভিড ওয়ার্নার, গ্লেন ম্যাক্সওয়েল, মার্কাস স্টয়নিস, জাই রিচার্ডসন ও কেইন রিচার্ডসনের মতো নিয়মিত তারকাদের ছাড়াই বাংলাদেশে আসা অস্ট্রেলিয়ার জন্য। তবে তা পাহাড়সম করে তোলেন নাসুম, মুস্তাফিজ ও শরিফুলরা।

প্রথম বলেই ওপেনার অ্যালেক্স ক্যারিকে সাজঘরে ফিরিয়ে দলকে শুভ সূচনা এনে দেন মাহেদী হাসান। তার স্পিনে কিছু বুঝে ওঠার আগেই বোল্ড হয়ে মাঠ ছাড়েন ক্যারি।

দ্বিতীয় ওভারেই আরেক ওপেনার জশ ফিলিপেকে ফেরান নাসুম।

বাঘের থাবায় ক্যাঙ্গারু বধ্‌
বাংলাদেশের বোলিংয়ের সামনে দাঁড়ানোর সুযোগই পায়নি অস্ট্রেলিয়া। ছবি: এএফপি

১১ রান তুলতে ৩ উইকেট হারিয়ে বসে সফরকারীরা। তৃতীয় ওভারে আঘাত হানেন সাকিব আল হাসান। মোয়েজেস এনরিকেসকে ১ রানেই মাঠছাড়া করেন দেশসেরা অলরাউন্ডার।

ক্রিজে থিতু হতে থাকা অধিনায়ক ম্যাথু ওয়েডকে সাজঘরে পাঠিয়ে অস্ট্রেলিয়াকে আরও বিপর্যয়ে ফেলেন নাসুম। এখানেই থেমে থাকেননি এই স্পিনার। অ্যাস্টন এইগারকেও সাজঘরের পথ দেখান বাঁহাতি এই স্পিনার।

ক্রিজে যা লড়াই করার করে যাচ্ছিলেন মিচেল মার্শ। ৮৪ রানের মাথায় তাকে চতুর্থ শিকারে পরিণত করেন নাসুম। বলতে গেলে তার স্পিন জাদুতেই ম্যাচ থেকে ছিটকে যায় অজিরা।

অস্ট্রেলিয়া শিবিরে অষ্টম আঘাত হানেন শরীফুল ইসলাম। তিন বলের ব্যবধানে অ্যান্ড্রু টাই ও অ্যাডাম জ্যাম্পাকে উইকেট ছাড়া করেন তিনি। তার আগে মুস্তাফিজুর রহমানের বলে আউট হন অ্যাস্টন টার্নার।

শেষ ওভারে জিততে অজিদের দরকার ছিল ২৮ রান। আর বাংলাদেশের দরকার ছিল এক উইকেট। ফিজের কাটারে নাজেহাল অস্ট্রেলিয়া তুলতে পারে ৫ রান। আর শেষ বলে মিচেল স্টার্ককে বোল্ড করে অজিদের অলআউটের তেতো স্বাদ দেয় বাংলাদেশ।

আর তাতেই লেখা হলো ইতিহাস। টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে প্রথমবার অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে জয় দেখল টাইগাররা।

শের-ই-বাংলায় সিরিজের বাকি ম্যাচগুলো হবে ৪, ৬, ৭ ও ৯ আগস্ট।

  • সংবাদ সংলাপ/এমএস/বি

Sharing is caring!