সংলাপ প্রতিবেদক :

ডায়ারিয়ার প্রকোপ ও ডেঙ্গু পরিস্থিতি বিদ্যমান থাকার পরও বৈশ্বিক মহামারি করোনার ধাক্কা পেরিয়ে দুই বছর পর স্বাভাবিক সময়ের মতো সারাদেশে ঈদুল ফিতর উদযাপনের প্রস্তুতি চলছে। করোনা সংক্রমণের কারণে বিগত ৪টি ঈদ লকডাউনের মধ্যে কাটিয়েছেন দেশবাসী। সে কারণে ঈদ উদযাপন ও আনন্দ ভাগাভাগিতে হৃদয়ের ছোঁয়া ছিল অনুপস্থিত। ঈদগাহে হয়নি কোনো জামাত। মসজিদে ঈদের নামাজ আদায় করলেও চিরাচরিত কোলাকুলি ছিল অনুপস্থিত। কিন্তু এ বছর সে পরিস্থিতি আর নেই। দুই বছরের ‘ভীতি’ কাটিয়ে এ বছর স্বাভাবিক ও সুন্দর পরিবেশে ফিরে আসছে পবিত্র ঈদুল ফিতর।

এক মাস রোজার পর আগামীকাল সোমবার না পরদিন মঙ্গলবার ঈদুল ফিতর উদযাপন হবে, তা জানা যাবে আজ রবিবার সন্ধ্যায়। সে পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে সবাইকে। সন্ধ্যা ৭টায় জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির বৈঠক থেকে এ সিদ্ধান্ত জানানো হবে। হিজরি সালের পুরো রমজান মাস সিয়াম সাধনার পর শাওয়াল মাসের প্রথম দিনে ঈদুল ফিতর উদযাপন করেন মুসলমানরা। রমজান শুরু হয়েছে গত ৩ এপ্রিল। রমজান মাস যদি ২৯ দিন হয় তবে ২ মে সোমবার আর ৩০ দিন হলে ৩ মে মঙ্গলবার হবে ঈদুল ফিতর। তবে পুরো বিষয়টি নির্ভর করবে চাঁদ দেখার ওপর। এ উপলক্ষে ২, ৩ ও ৪ মে ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। আর মে দিবসের ছুটি ১ মে।

মুসলমানদের সবচেয়ে বড় এই উৎসবের সময় রাজধানীবাসীর একটা বড় অংশই গ্রামের বাড়িতে যান। ঢাকায় যারা ঈদ কাটান তাদের অনেকেই বিনোদন কেন্দ্রসহ রেস্তোরাঁয় যান পরিবার-পরিজন কিংবা বন্ধুদের সঙ্গে। উদযাপনে বাড়তি মাত্রা দিতে ফাঁকা ঢাকায় ঘুরে বেড়ান অনেকে। করোনা ভাইরাসের কারণে এর আগের ৪টি ঈদ লকডাউনের মধ্যে কাটিয়েছেন নগরবাসী। বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে ছিল তালা, হোটেল রেস্তোরাঁগুলোতেও ছিল বিধিনিষেধের কড়াকড়ি। এবার কোনো বিধিনিষেধ না থাকায় ইচ্ছেমতো ঘুরেফিরে ঈদ আনন্দ উপভোগ করতে পারবেন সবাই।

জাতীয় ঈদগাহে প্রধান জামাত : সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণের জাতীয় ঈদগাহে প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে সকাল সাড়ে ৮টায়। করোনা মহামারির কারণে গত দুবছর বন্ধ ছিল এ ঈদ জামাত। এবার পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকায় এখানেই অনুষ্ঠিত হবে প্রধান জামাত। এজন্য প্রস্তুত করা হয়েছে মাঠ। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস গতকাল শনিবার জাতীয় ঈদগাহ পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়েছেন।

বায়তুল মোকাররমে ৫ জামাত : বায়তুল মুকাররম জাতীয় মসজিদে পর্যায়ক্রমে ৫টি ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে। প্রথম জামাত হবে সকাল ৭টায়। এতে ইমামতি করবেন বায়তুল মুকাররম মসজিদের সিনিয়র পেশ ইমাম হাফেজ মুফতি মাওলানা মিজানুর রহমান। মুকাব্বিরের দায়িত্ব পালন করবেন মুয়াজ্জিন হাফেজ মো. ইসহাক। দ্বিতীয় জামাত হবে সকাল ৮টায়। এতে ইমামতি করবেন পেশ ইমাম হাফেজ মুফতি মুহিবুল্লাহিল বাকী নদভী, মুকাব্বিরের দায়িত্ব পালন করবেন হাফেজ সাবেক মুয়াজ্জিন মো. আতাউর রহমান। তৃতীয় জামাত হবে সকাল ৯টায়। এতে ইমামের দায়িত্ব পালন করবেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মুফাসসির ড. মাওলানা আবু সালেহ পাটোয়ারী। মুকাব্বির থাকবেন বায়তুল মুকাররম মসজিদের খাদেম হাফেজ মো. নাছির উল্লাহ। চতুর্থ জামাত হবে সকাল ১০টায়। এতে ইমামতি করবেন পেশ ইমাম হাফেজ মাওলানা এহসানুল হক। মুকাব্বির থাকবেন খাদেম মো. শহিদ উল্লাহ। পঞ্চম ও সর্বশেষ জামাত হবে বেলা পৌনে ১১টায়। এতে ইমামতি করবেন পেশ ইমাম মাওলানা মুহিউদ্দিন কাসেম। মুকাব্বির থাকবেন মসজিদের খাদেম মো. রুহুল আমিন। বিকল্প ইমাম হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মুফতি মাওলানা মো. আব্দুল্লাহ।

  • সংবাদ সংলাপ/এমএস/স

Sharing is caring!