নিজস্ব প্রতিবেদক :

ভারত থেকে নিয়ে আসা টিকা নেয়া ৯৮ থেকে ৯৯ শতাংশ ব্যক্তির দেহে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে। ৬০ বছরের বেশি বয়সীদের তুলনায় ৫০ বছরের কম বয়সীদের দেহে অ্যান্টিবডি মিলেছে বেশি।

শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের সহকারী অধ্যাপক আশরাফুল হকের গবেষণায় এমন তথ্য উঠে এসেছে।

কতটা সুরক্ষা দিচ্ছে ভারত থেকে নিয়ে আসা টিকা, তা নিয়ে ব্যক্তিগত উদ্যোগে করা এ গবেষণায় উঠে এসেছে, টিকা নেয়া ৫০০ জনের মধ্যে করোনা আক্রান্ত হয়েছেন মাত্র ৭ জন। তবে তাদের কোনো শ্বাসকষ্ট হয়নি। এমনকি হাসপাতালে ভর্তি করা লাগেনি। করোনার তীব্র কোনো মাত্রা তাদের মধ্যে দেখা যায়নি।

দেশে করোনাভাইরাসের টিকাদান কর্মসূচি শুরুর পর থেকে বুধবার পর্যন্ত প্রথম ডোজ নিয়েছেন ৫৮ লাখ ১৯ হাজার ৬৪৬ জন। আর দ্বিতীয় ডোজ নিয়েছেন ২৬ লাখ ৯৮ হাজার ১৫৫ জন। দুই ডোজ মিলিয়ে ৮৫ লাখ ১৭ হাজার ৮০১ ডোজ টিকা দেয়া হয়েছে।

প্রথম ডোজ টিকা নিয়েছেন এমন ৫০০ মানুষের অ্যান্টিবডি পরীক্ষা করেছেন গবেষক। ৩৬০ পুরুষ ও ১৪০ নারীর ওপর এ গবেষণা করা হয়। তাদের মধ্যে ৬০ শতাংশের বয়স ১৮ থেকে ৪০ বছর। ৪১ থেকে ৬০ বছরের উপরে ৪০ শতাংশ।

গবেষণা দেখা যায়, টিকা নেয়ার ২৮ দিন পর বয়স্কদের তুলনায় তরুণদের বেশি অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে। তবে সবার দেহে অ্যান্টিবডি তৈরি হচ্ছে।

গবেষণায় দেখা যায়, এক ডোজ টিকা নেয়ার তুলনায় দ্বিতীয় ডোজ টিকা নেয়া ব্যক্তির মধ্যে অ্যান্টিবডি বেশি তৈরি হয়েছে।

গবেষণায় আরও পাওয়া যায়, টিকা নেয়া ৬০ বছরের বেশি বয়সী মানুষের অ্যান্টিবডি মিলেছে ৬ এর কাছকাছি। এই পরিমাণ অ্যান্টিবডি থাকলে তিনি করোনা আক্রান্ত হলেও অক্সিজেনের দরকার হবে না। আর ৫০ বছর ও ৩০ বছর বয়সী ব্যক্তিদের শরীরে অ্যান্টিবডি মিলেছে দ্বিগুণের কাছাকাছি।

এ বিষয়ে আশরাফুল হক বলেন, ‘আমরা যে টিকা গ্রহণ করেছি এতে মানুষের উপকার পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি। করোনা আক্রান্ত ব্যক্তি সুস্থ হওয়ার পর যে পরিমাণ অ্যান্টিবডি তৈরি হয়, টিকা দেয়ার পর ব্যক্তির শরীরে আমরা এই পরিমাণ অ্যান্টিবডি লক্ষ করছি।

‘তার মানে টিকা নিয়ে মানুষের শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে। এটা আমাদের জন্য একটা বড় প্লাস পয়েন্ট।’

তিনি বলেন, ‘গবেষণা এখনও শেষ হয়নি। যারা প্রথম ডোজ টিকা নিয়েছে তাদের দ্বিতীয় ডোজ নেয়া সম্পন্ন হলে গবেষণার বিষয়টি আরও ভালোভাবে বলা যাবে। তবে এটা বলতে পারি টিকা নেয়ার পর অ্যান্টিবডি তৈরি হচ্ছে।’

গবেষণায় আরও দেখা যায়, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়া ব্যক্তির শরীরে প্রাকৃতিকভাবে তৈরি হওয়া অ্যান্টিবডি প্রায় ৯ মাস অবস্থান করে। টিকার দ্বিতীয় ডোজ দেয়ার পর এ পরিমাণ অ্যান্টিবডি মিলছে।

তাই কোন ধরনের ব্যক্তিকে আগে টিকা দেয়া উচিত, এ বিষয়ে বড় আকারে গবেষণা করা প্রয়োজন বলেও জানিয়েছেন এই গবেষক। এ ছাড়া যারা টিকা নিচ্ছে তাদের যদি ৯ মাস ফলোআপের মধ্যে রাখা যায়, তাহলে অ্যান্টিবডির আরও পরিষ্কার ধারণা পাওয়া পাবে।

এ নিয়ে আরও বড় গবেষণা করা দাবি গবেষক আশরাফুলের।

  • সংবাদ সংলাপ/এমএস/দু

Sharing is caring!