সংলাপ ডেস্ক :

সোনারগাঁয়ে রিসোর্ট-কাণ্ডের পর নারায়ণগঞ্জের তিন মামলায় হেফাজত নেতা মামুনুল হককে ২৪ দিনের রিমান্ডে পেতে আদালতে আবেদন করেছে পুলিশ।

এর মধ্যে রিসোর্টে মামুনুলের সঙ্গীনি জান্নাত আরা ঝর্ণার করা ধর্ষণ মামলায় তাকে ১০ দিনের রিমান্ডে চেয়েছে পুলিশ। এ ছাড়া রয়েল রিসোর্টে হামলা এবং যুবলীগ ও ছাত্রলীগ নেতাদের বাড়িঘর ভাঙচুরের মামলায় সাতদিন করে রিমান্ডে নেয়ার আবেদন করা হয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলা পুলিশ সুপার জায়েদুল আলম।

নিজ কার্যালয়ে রোববার দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, তিনটি মামলাতেই মামুনুলকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে রিমান্ডে পেতে রোববার আবেদন করা হয়েছে।

এর আগে হেফাজতে ইসলামের সদ্য বিলুপ্ত কমিটির যুগ্মমহাসচিব মামুনুল হকের বিরুদ্ধে ঝর্ণার করা ধর্ষণের মামলা তদন্ত করে ৩০ মের মধ্যে প্রতিবেদন চেয়েছে আদালত।

বাদীর মেডিক্যাল রিপোর্ট ও অন্যান্য আলামতও দাখিল করতে বলা হয়েছে।

মামলা করার পরদিন শনিবার বিকেলে নারায়ণগঞ্জের জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম সাকিল আহম্মদ এই আদেশ দেন।

আদালতে পুলিশ ধর্ষণের মামলার নথি নিয়ে হাজির হয়। এরপর হয় সংক্ষিপ্ত শুনানি।

নারায়ণগঞ্জ আদালত পুলিশের পরিদর্শক আসাদুজ্জামান এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ থানায় নিজে এসে শুক্রবার (৩০ এপ্রিল) সকালে মামলাটি করেন ঝর্ণা।

সোনারগাঁর রয়েল রিসোর্টে গত ৩ এপ্রিল স্থানীয়দের দ্বারা অবরুদ্ধ হওয়ার পর মামুনুল হক তার সঙ্গিনীকে স্ত্রী দাবি করেন। বলেন, তারা দুই বছর আগেই বিয়ে করেছেন।

তবে মামুনুল সঙ্গিনীর যে নাম, বাবার নাম ও ঠিকানা বলেন-তার সবই ভুয়া। তিনি প্রকৃতপক্ষে তার চার সন্তানের জননী স্ত্রী আমিনা তাইয়্যেবার নাম, তার বাবা জাহিদুল ইসলামের কথা বলেছিলেন।

পরে রাতে মামুনুল ফোন করে আমিনা তাইয়্যেবাকে বলেন, তার সঙ্গিনী জনৈক শহীদুল ইসলামের স্ত্রী, তিনি ঘটনার চাপে পড়ে তাকে স্ত্রী বলতে বাধ্য হয়েছেন।

এসব ঘটনায় মামুনুল যখন বেকায়দায় তখন হেফাজতের নেতা-কর্মীরা মসজিদে মাইকিং করে জড়ো হয়ে একযোগে হামলা করেন রিসোর্টে। সেখানে ব্যাপক ভাঙচুর করে মামুনুলকে ছিনিয়ে নেয়ার পাশাপাশি ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে বেশ কিছু গাড়ি ভাঙচুরও করেন।

ক্ষমতাসীন দল ও তার সহযোগী সংগঠনের স্থানীয় কার্যালয়েও হামলা হয়। ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয়া হয় সেগুলো। হামলা হয় স্থানীয় যুবলীগ ও ছাত্রলীগ নেতাদের বাড়িঘরে।

ওই ঘটনায় হেফাজত, বিএনপি, জাতীয় পার্টির নেতা-কর্মীসহ কয়েক হাজার ব্যক্তিকে আসামি করে পুলিশ দুইটি ও ক্ষতিগ্রস্তরা পাঁচটি মামলা করেছে। এর মধ্যে দুটি মামলায় মামুনুল হককে প্রধান আসামি করা হয়েছে।

এরপর গত ১৮ এপ্রিল মোহাম্মদপুরের জামিয়া রহমানিয়া মাদরাসা থেকে মামুনুলকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাৎক্ষণিকভাবে মোহাম্মদপুর থানায় করা একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হলেও পরে অনেক মামলা পাওয়া যায় তার নামে।

নানা ঘটনাপ্রবাহের মধ্যে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯ এর ১ ধারায় করা মামলায় ঝর্ণা বলেন, ‘সে (মামুনুল) আমাকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে আমার সাথে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করে। গত দুই বছর যাবৎ আমাকে বিভিন্ন সময় ঢাকা ও ঢাকার পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন এলাকায় ঘোরাঘুরির নাম করে নিয়ে গিয়ে তার পরিচিত বিভিন্ন হোটেল ও রিসোর্টে রাত্রিযাপন ও বিবাহের আশ্বাস দিয়ে তার যৌন লালসা চরিতার্থ করে। একপর্যায়ে আমি বিবাহের কথা বললে সে আমাকে বিবাহ করব, করছি বলে নানা অজুহাতে কালক্ষেপণ করতে থাকে।’

‘আমার সরলতার সুযোগ নিয়ে উনি (মামুনুল) আমার সঙ্গে অন্যায় করেছেন, প্রতারণা করেছেন। আমি রাষ্ট্রের কাছে বিচার চাই। আমার এইটুকুই বলার, আর কিছুই বলার নেই।’

নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘মামুনুল হক সরলতার সুযোগ নিয়ে আমাকে ধর্ষণ করেছে। বিভিন্ন অজুহাতে আমাকে অনেক জায়গায় নিয়ে গেছে, সেখানে রাত্রিযাপন করেছে। বিয়ের ব্যাপারে কথা বলার অজুহাতে রয়্যাল রিসোর্টের ৫০১ নম্বর রুমে নিয়ে ধর্ষণ করেছে। সে আমার সঙ্গে অন্যায় করেছে, প্রতারণা করেছে। আমি রাষ্ট্রের কাছে তার বিচার চাই।’

  • সংবাদ সংলাপ/এসইউ/দু

Sharing is caring!