মোহাম্মদ সোহেল, নোয়াখালী :
নোয়াখালীর হাতিয়া ও সুবর্ণচরে ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য ও প্রবাসীকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। দুটি ঘটনাই ঘটেছে বুধবার রাতে। এর মধ্যে হাতিয়ার চরঈশ্বর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডে রাত পৌনে তিনটায় হত্যা করা হয় ইউপি সদস্য রবীন্দ্র চন্দ্র দাসকে। তিনি হাতিয়া উপজেলা আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহসভাপতি ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ছিলেন।

উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মহিউদ্দিন মুহিন বলেন, রাতে ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাংলা বাজার এলাকায় দুর্বৃত্তরা তাকে কুপিয়ে হত্যা করে। হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল খায়ের বলেন, পুলিশ বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।

এরআগে বুধবার বিকেলে সুবর্ণচরের চরওয়াপদা ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডে কুপিয়ে জখম করা হয় প্রবাসী কামাল উদ্দিনকে। রাতে চিকিৎসার জন্য কুমিল্লা নেয়ার সময় পথে তিনি মারা যান। কামালের বাড়ি ৬ নম্বর ওয়ার্ডের চরকাজী মোখলেস গ্রামে।

তার ছোট ভাই বেলাল হোসেন বলেন, কামাল ওমান থাকেন। দুই মাস আগে তিনি দেশে আসেন। আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে কামাল সদস্য পদপ্রার্থী জয়নাল আবেদীনের পক্ষে এলাকায় ভোট চেয়েছিলেন। এ কারণে অন্য দুই সদস্য প্রার্থী তার ওপর ক্ষুব্ধ ছিলেন। নির্বাচনের জেরে এলাকায় মারামারির ঘটনায় প্রতিপক্ষের দেয়া মামলায় ২৪ দিন জেলও খাটেন কামাল।

বেলালের অভিযোগ, গত মঙ্গলবার রাতে স্থানীয় বাজারে গিয়ে কামালকে হত্যার হুমকি দেন সদস্য পদপ্রার্থী আব্দুর রহিম ও তার সমর্থকরা। তারাই কামালকে হত্যা করেছে।

চরজব্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউল হক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, বিকেলে এলাকার একটি চায়ের দোকানে বসে ছিলেন কামাল। সেখানে একদল দুর্বৃত্ত ধারালো অস্ত্র নিয়ে তার ওপর হামলা চালায়। তাকে কুপিয়ে জখম করা হয়, ভাঙচুর করা হয় তার মোটরসাইকেল। বাধা দিতে গেলে আহত হন কালু মিয়া নামের স্থানীয় একজন। পুলিশ গিয়ে আহত দুইজনকে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে পাঠায়। আটক করা হয় দুইজনকে।

ওসি বলেন, অবস্থার অবনতি হলে কালামকে কুমিল্লা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়। সেখানে পৌঁছানোর আগেই তিনি মারা যান।

  • সংবাদ সংলাপ/এমএস/বি

Sharing is caring!