নোয়াখালী প্রতিনিধি :
নোয়াখালীতে স্বেচ্ছাসেবক লীগের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের আগমন উপলক্ষ্যে জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ, ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এসময় দুবৃর্ত্তদের ছুরিকাঘাতে এক যুবক গুরুতর আহত হয়েছে।
রোববার (৯ জানুয়ারি) বিকালে জেলা সার্কিট হাউজের সামনে এই সংঘর্ষ ও ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনার ঘটে।
নোয়াখালী জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের একাধিক সুত্র জানায়, আসন্ন নোয়াখালী পৌরসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নোয়াখালীতে স্বেচ্ছাসেবক লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা আগমন করেন। সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতাদের আগমনকে কেন্দ্র করে সকাল থেকে স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতাকর্মীরা বিভিন্ন গ্রুপে বিভক্ত হয়ে জেলা সার্কিট হাউজের সামনে আসতে থাকে।
এসময় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্বেচ্ছাসেবক লীগের প্রমিত গ্রুপ ও দিপু গ্রুপের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
জানা গেছে, বিকাল অনুমান সাড়ে ৩টার দিকে প্রমিত গ্রুপের শাহাদাত হোসেন বাপ্পি ও দিপু গ্রুপের নুরুল আমিনের সাথে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে উভয়পক্ষে হাতাহাতি, ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এসময় বিজয় নামের (২৫) এক যুবক চুরিকাঘাতে গুরত্বর আহত হয়। পরে তাকে উদ্ধার করে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আহত বিজয় প্রমিত গ্রুপের কর্মী বলে জানা গেছে।
জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা ফাহাদ ইউসূফ হোসেন প্রমিত জানান, স্বেচ্ছাসেবক লীগ একটি বড় সংগঠন। এখানে কর্মীদের মধ্যে মতামত নিয়ে রাগ-বিরাগের ঘটনা ঘটতেই পাবে। ওইদিন আমরা নেতৃত্ব স্থানীরা দলের কেন্দ্রীয় সভাপতির সাথে সার্কিট হাউজের ভিতরে কথা বলছিলাম। পরে শুনি বাহিরে একটু হট্রগোল হয়েছে। আহত স্বেচ্ছাসেবক লীগ কর্মী বিজয় আমার কর্মী। বিজয় এখনো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন, সে সুস্থ্য হলে তার বক্তব্য এবং সার্কিট হাউজের সিসিটিভির ফুটেজ দেখে আমরা সাংগঠনিকভাবে ব্যবস্থা নিব।
জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের আরেক নেতা আতাউল হাসান দিপু জানান, কেন্দ্রীয় নেতারা সার্কিট হাউজ থেকে দলীয় মিটিং শেষ করে বাহির হওয়ার সময় প্রমিতের লোকজন তার পক্ষে স্লোগান দিতে থাকে। তখন নেতারা সার্কিট হাউজ ভিআইপি এলাকা হিসেবে এখানে স্লোগান দিতে নিষেধ করেন। এসময় প্রমিতের লোকজন উত্তেজিত হয়ে সংঘর্ষ শুরু করে। এতে তাদের নিজেদের হামলায় বিজয় নামের বহিরাগত ওই যুবক আহত হয়। তাদের এমন কর্মকান্ডে সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতারা বিব্রত হয়।
নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) সৈয়দ মহি উদ্দিন আবদুল আজিম জানান, ছুরিকাহত বিজয়কে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে, তার পেটের বাম পাশে কয়েকটি সেলাই দিতে হয়েছে। ওই যুবক এখন আশংকামুক্ত।
সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাহেদ উদ্দিন জানান, ঘটনার বিষয়ে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তবে সংগঠনের নেতাদের হস্তক্ষেপে এরআগেই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে গেছে। এবিষয়ে কেউ লিখিত কোন অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
  • সংবাদ সংলাপ/এসইউ/রা

Sharing is caring!