মোহাম্মদ সোহেল, নোয়াখালী :

জলাবদ্ধতা নিরসনসহ পৌরবাসীর সর্বাধিক নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করতে নিঃস্বার্থভাবে কাজ করে যাচ্ছি বলে জানিয়েছেন নোয়াখালীর চৌমুহনী পৌরসভার মেয়র খালেদ সাইফুল্লাহ।

চৌমুহনী পৌরসভার স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্ঠ সহচর, জাতীয় শ্রমিক লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি জননেতা নুরুল হক। ১৯৭৩ সালে তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কাছ থেকে চৌমুহনী পৌরসভার অনুমোদন করান। এ পৌরসভার প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ছিলেন ছেরাজল হক বিএ। ‘গ’ শ্রেণি থেকে পর্যায়ক্রমে ‘খ’ ও ‘ক’ শ্রেণিতে উন্নীত হয় এ পৌরসভা।

‘ক’ শ্রেণির এ পৌরসভায় এখনো শতভাগ নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত হয়নি। রয়েছে জলাবদ্ধতা, যানজট, ড্রেনেজ ব্যবস্থা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও যোগাযোগ ব্যবস্থাসহ নানা সংকট।

২০.৭০ বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে ও ৯টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত চৌমুহনী পৌরসভা। একজন মেয়র, নয়জন পুরুষ কাউন্সিলর ও তিনজন মহিলা কাউন্সিলরের সমন্বয়ে প্রায় ১ লাখ ৬৫ হাজার পৌরবাসীর নাগরিক সেবা পৌঁছে দিচ্ছে পৌর কর্তৃপক্ষ। বর্তমান মেয়র খালেদ সাইফুল্লাহ ২০২১ সালের ৩০ জানুয়ারি স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে মোবাইল প্রতীক নিয়ে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী আক্তার হোসেন ফয়সলকে পরাজিত করে নগর পিতার আসন অলঙ্কৃত করেন। চৌমুহনী পৌরসভার মেয়র খালেদ সাইফুল্লাহ বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক উপ-মহাব্যবস্থাপক ছিলেন। তার ছোট ভাই মামুনুর রশিদ কিরন নোয়াখালী-০৩ (বেগমগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য। তিনি দেশের সুনামধন্য শিল্পপ্রতিষ্ঠান গ্লোব গ্রুপের পরিচালক।

সংবাদ সংলাপ এর সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে পৌর মেয়র খালেদ সাইফুল্লাহ বলেন, আমি একজন ব্যাংকার হিসেবে আমার কর্মজীবন শুরু এবং শেষ করি। ২০১৪ সালের ২৮ আগস্ট কর্মজীবন শেষে বাড়িতে

ফেরার পর এলাকার সাধারণ মানুষ তাদের সেবা করতে নানাভাবে চাপ প্রয়োগ করেন। প্রথমে সামাজিক বিভিন্ন আচার-অনুষ্ঠানে অংশ নেয়া শুরু করি। ওই থেকে মানুষের জন্য কাজ করতে বেশ ভালো লাগে। ২০২১ সালের চৌমুহনী পৌরসভা নির্বাচনে জনগণের চাপের মুখে মেয়র পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের ওই নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠুভাবে শেষ করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশ দেন। ৩০ জানুয়ারির অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনে জনগণ আমাকে ভোট দিয়ে চৌমুহনী পৌরসভার মেয়রের আসনে বসিয়েছেন। এজন্য আমি প্রথমে ধন্যবাদ জানাই রাষ্ট্রের সফল প্রধানমন্ত্রী প্রিয় নেত্রী শেখ হাসিনা এবং জননেতা ওবায়দুল কাদেরকে। তারপর ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি চৌমুহনী পৌরসভার নাগরিকদের প্রতি।

পৌরসভার বিভিন্ন এলাকার জলাবদ্ধতাকে প্রধান সমস্যা বিবেচনা করে মেয়র খালেদ সাইফুল্লাহ বলেন, চৌমুহনী পৌরসভা এলাকাটি অত্যন্ত নিচু। প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে এখানকার রাস্তাঘাট পানির নিচে তলিয়ে যায়। বর্ষার শেষে পুনরায় রাস্তাঘাটের সংস্কার কাজ করতে হয়। আমি মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর দায়িত্ব গ্রহণ করেছি চলতি বছরের ২৩ ফেব্রুয়ারি। দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথমেই আমি জলাবদ্ধতা নিরসনে কাজ শুরু করি। পাশাপাশি জলাশয়, ডোবা-নালা ও ড্রেনগুলো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হচ্ছে। সেই সঙ্গে পুরনো কয়েকটি খাল পরিষ্কার করা হচ্ছে।

স্থানীয় সংসদ সদস্য আলহাজ মামুনুর রশিদ কিরনের দিক-নির্দেশনায় পৌর নগর উন্নয়নের মাস্টার প্ল্যান তৈরি করে পৌর শহরের উন্নয়ন কাজে পুরোদমে অগ্রসর হচ্ছি। উন্নয়নমূলক কাজের মধ্যে রাস্তাঘাট সংস্কার, জলাবদ্ধতা নিরসন, যানজট নিরসন, ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মতো বৃহৎ কাজগুলোকে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে।

তিনি আরো জানান, পৌরসভার ১ লাখ ৬৫ হাজার জনগোষ্ঠীর পৌরসভায় বেশির ভাগ মানুষই দরিদ্র-অসহায়। তাদের জন্য আলাদা কোনো প্রকল্প নেই। আমার পরিকল্পনা হলো এই অসহায় জনগণের সেবা করা। তারা যেভাবে আমাকে কোনো স্বার্থ ছাড়াই ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছেন, আমিও নিঃস্বার্থভাবে তাদের সর্বাধিক নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করতে কাজ করে যাব। বিশেষ করে এখানে উন্নত রাস্তাঘাট নেই, ড্রেনেজের সুব্যবস্থা নেই, পরিবেশের অভাব রয়েছে। এগুলোর সমাধান করাটা আমার চিন্তা-চেতনায় রয়েছে।

পৌর মেয়র খালেদ সাইফুল্লাহ বলেন, আমি মনে করি, এসব কাজ শুধু পৌরসভার রাজস্ব দিয়ে বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়। কারণ চৌমুহনী পৌরসভা একটি প্রথম শ্রেণির পৌরসভা। এখানে দেড় লক্ষাধিক লোকের বসবাস। এছাড়া ভাসমান লোকেরাও কর্মস্থানের জন্য এখানে এসে থাকে। এখানে মানুষের বাড়তি চাপে যে সমস্যা, সেগুলো সমাধান করতে হলে সরকারের সহযোগিতা প্রয়োজন, বিশেষ করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সর্বাধিক সহযোগিতা লাগবে। সরকারের পক্ষ থেকে জনগুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পগুলো দ্রুত পাস করা হলে আমি শতভাগ নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করতে পারব। এতে পৌরসভার নাগরিকরা উপকৃত হবে।

মেয়র সাইফুল্লাহ বলেন, আমি ব্যক্তি জীবনে একজন ব্যাংকার হলেও বঙ্গবন্ধুকে ভালবাসি, আমি বঙ্গবন্ধুর সৈনিক। আমি যদি ভালো কাজ করি, তাহলে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বাস্তবায়ন হবে, আওয়ামী লীগ তথা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হবে।

দুর্নীতিমুক্ত পৌরসভা গঠনের বিষয়ে মেয়র খালেদ সাইফুল্লাহ বলেন- আমি মনে করি, যদি আমি সৎ হই, তাহলে আমার লোকেরাও সৎ হবে এবং তাদের কর্মকাণ্ডও সৎ হবে। তিনি বলেন, আমার কর্মজীবনের যে দক্ষতা আছে, আমি তা এখানে কাজে লাগিয়ে সততার সঙ্গে এ পৌরসভার কর্মকাণ্ড পরিচালনা করব এবং আমার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদেরও সৎভাবে কাজ করার অনুপ্রেরণা জোগাব। সরকারি সব বরাদ্দ কাউন্সিলররাসহ সমন্বয় করে সুষ্ঠু বণ্টনের মধ্য দিয়ে চৌমুহনী পৌরসভাকে একটি দৃষ্টিনন্দন আধুনিক পৌরসভায় রূপান্তর করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

  • সংবাদ সংলাপ/এমএস/বি

Sharing is caring!