মোহাম্মদ সোহেল, নোয়াখালী :

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ থানার ফটকের সামনে ছেলে তাশিক মির্জার ওপর হামলার ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তারে আবারও ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়েছেন বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জা।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের ছোট ভাই কাদের মির্জা বুধবার রাত ১২টা ২৫ মিনিটে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে পোস্ট দিয়ে এই দাবি জানান।

তিনি লেখেন, ‘আমার ছেলে তাশিক মির্জাকে তৎকালীন ওসি-তদন্ত রবিউলের উপস্থিতিতে থানার সামনে সন্ত্রাসীরা পাইপগান দিয়ে পিটিয়ে মাথা ফাটিয়ে চৌচির করে রক্তে রঞ্জিত করেছে। ওই সব সন্ত্রাসীরা হলো, কিলার বাদল, রাহাত, আকরাম উদ্দিন সবুজ, রুমেল, রিমন, কচি ও মঞ্জু… ওই দিন একটি ভিডিওতে দেখা যায়, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডাক্তারকে সন্ত্রাসীরা হুমকি দিয়ে বলছে, মির্জার ছেলেসহ তার কোনো লোককে চিকিৎসা দিবে না। সন্ত্রাসীরা ডাক্তারদের অবরুদ্ধ করে রাখে। পরে আমরা অন্য স্থান থেকে ডাক্তার এনে চিকিৎসার ব্যবস্থা করি।’

ফেসবুক পোস্টে তিনি আরও লেখেন, তার ছেলের ওপর হামলাকারীরা অস্ত্র নিয়ে প্রকাশ্যে মহড়া দিচ্ছে। তাদের গ্রেপ্তার করা না হলে বিরূপ পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

তিনি লিখেছেন, ‘আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে যারা আমার ছেলেকে রক্তাক্ত করছে তাদের গ্রেপ্তার করা না হলে, যেকোনো পরিস্থিতির জন্য আমি দায়ী থাকব না। আমি যত জায়গায় বিচার দিয়েছি সবাই বলেন চুপ থাকেন, অপেক্ষা করেন। আপনাদের (দেশবাসী) বলা ছাড়া আমার আর কোনো উপায় নাই।’

এর আগে গত ১৫ এপ্রিল ফেসবুক লাইভে এসে ছেলে ও অনুসারীদের ওপর হামলার ঘটনার বিচার চেয়ে ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়েছিলেন কাদের মির্জা।

কী হয়েছিল পৌরসভা এলাকায়

বসুরহাট পৌরসভা চত্বরে ১৫ এপ্রিল বিকেলে কাদের মির্জা ও কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মিজানুর রহমান বাদলের অনুসারীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হন।

আহত ব্যক্তিদের মধ্যে মির্জা কাদেরের ছেলে তাশিক মির্জাও ছিলেন। তাদের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন ক্লিনিকে চিকিৎসা দেয়া হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কাদের মির্জার অনুসারী শাহাদাত সিফাত সেদিন দুপুরে বসুরহাট পৌরসভা ভবন থেকে ফেসবুক লাইভে এসে উপজেলা আওয়ামী লীগের একাংশের নেতা বাদলের অনুসারী ও যুবলীগ নেতাদের অকথ্য ভাষায় চরিত্রহনন করে বক্তব্য দেন।

তার এই ভিডিও ফেসবুকে দেখে বাদলের অনুসারীদের মাঝে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে তারা বসুরহাট বাজারে থানার সামনে জড়ো হয়ে কাদের মির্জার বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেন।

খবর পেয়ে কাদের মির্জার ছোট ভাই শাহাদাত হোসেন ও ছেলে তাশিক মির্জা পৌরসভা থেকে তাদের অনুসারীদের নিয়ে জিরো পয়েন্টের দিকে এগিয়ে যাওয়ার সময় থানার সামনে মুখোমুখি হলে তাদের লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে বাদলের অনুসারীরা।

একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। ওই সময় কাদের মির্জার ছেলে তাশিক উপজেলা যুবলীগ সভাপতি আজম পাশা চৌধুরী রুমেলকে আটক করে নিয়ে যেতে চাইলে বাদল অনুসারীদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে বসুরহাট পৌরসভা চত্বরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়।

সংঘর্ষের পর আবদুল কাদের মির্জা অভিযোগ করেন, ‘কোনো কারণ ছাড়াই বাদলের লোকজন পৌর ভবনে আমাকে এবং আমার লোকজনকে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা চালিয়েছে। এতে আমার ছেলে তাশিক মির্জাসহ অন্তত ৮ জন অনুসারী আহত হয়েছেন।’

এ বিষয়ে কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর জাহেদুল হক রনি নিউজবাংলাকে জানিয়েছিলেন, একটি ফেসবুক লাইভকে কেন্দ্র করে উপজেলা আওয়ামী লীগের একাংশের নেতা-কর্মীরা পৌরসভা চত্বরে অবস্থান নিলে পুলিশ তাদের সরিয়ে দেয়। পরে উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বাদল সমর্থক ও মেয়র আবদুল কাদের মির্জার সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয় পুলিশ।

ওই সংঘর্ষে আহত ব্যক্তিদের বিষয়ে কিছু জানেন না বলেও জানিয়েছিলেন ওসি।

এ ঘটনার পর রাতে ছেলে তাশিকের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে লাইভ এসে নোয়াখালীর পুলিশ ও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন জেলার বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জা।

একই সঙ্গে উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি খিজির হায়াত খান ও তার অনুসারীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনারও দাবি জানিয়েছেন মেয়র। দাবি না মানলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে রাস্তায় নামার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

  • সংবাদ সংলাপ/এমএস/বি

Sharing is caring!