সংলাপ প্রতিবেদক :

করোনারভাইরাসের দ্বিতীয় দফা সংক্রমণরোধে সারা দেশে লকডাউন ঘোষণার পর থেকে শারীরিক উপস্থিতিতে বিচারিক কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। দেড় মাস পর বিচারিক আদালতে শারীরিক উপস্থিতির মাধ্যমে আত্মসমর্পণের সুযোগ দিয়ে বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে সুপ্রিমকোর্ট প্রশাসন।

শনিবার সুপ্রিমকোর্ট প্রশাসন এ বিজ্ঞপ্তি জারি করে। এতে কয়েক দফা নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

সুপ্রিমকোর্ট রেজিস্ট্রার জেনারেল আলী আকবর স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, শারীরিক ও সামাজিক দূরত্ব অনুসরণ করে ফৌজদারি মামলায় অভিযুক্তরা চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বা চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত এবং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল বা মানব পাচার অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল বা সাইবার ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণ করতে পারবেন।

এসব আদালতের বিচারক এজলাস কক্ষে স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালনসহ শারীরিক ও সামাজিক দূরত্ব বজায় নিশ্চিতকরণে প্রয়োজনীয় কার্যপদ্ধতি নির্ধারণ করবেন।

আত্মসমর্পণ আবেদন দাখিল এবং শুনানি কার্যক্রমের পদ্ধতি ও সময়সূচি এমনভাবে সমন্বয় করতে হবে যাতে আদালত প্রাঙ্গণে এবং আদালত ভবনে কোনোরূপ জনসমাগম না ঘটে।

আত্মসমর্পণ দরখাস্ত শারীরিক উপস্থিতিতে শুনানির সময় অভিযুক্ত ব্যক্তি এবং তার পক্ষে নিযুক্ত আইনজীবী ব্যতীত অন্য আইনজীবী এজলাস কক্ষে অবস্থান করবেন না। একটি আত্মসমর্পণ দরখাস্ত শুনানি শেষে সংশ্লিষ্ট আইনজীবী এজলাস কক্ষ ত্যাগ করার পর ম্যাজিস্ট্রেট বা বিচারক পরবর্তী আত্মসমর্পণের দরখাস্ত শুনানির জন্য গ্রহণ করবেন।

এসব আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত বলবৎ থাকবে।

এদিকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে অধস্তন সকল আদালতের স্বাভাবিক কার্যক্রম চালুর দাবি জানিয়েছেন বিভিন্ন জেলা আইনজীবী সমিতি।

ঢাকা আইনজীবী সমিতি, চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতি ও সিলেট জেলা আইনজীবী সমিতির পক্ষ থেকে প্রধান বিচারপতির কাছে এ আবেদন জানিয়েছে।

চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির আবেদনে বলা হয়, বর্তমান বৈশ্বিক করোনাভাইরাসের আপদকালীন পরিস্থিতিতে দ্বিতীয় পর্যায়ে গত ৫ এপ্রিল থেকে সরকার সারাদেশে লকডাউন ঘোষণা করলে দেশের সকল আদালতের শারীরিক উপস্থিতিতে বিচারিক কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায় এবং পূর্বের ন্যায় ভার্চুয়াল কোর্ট চালু করা হয়।

আবেদনে বলা হয়, ভার্চুয়াল কোর্টের কার্যক্রম পরিচালনা পদ্ধতি অনেক ধীর গতির। ইন্টারন্টে সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়া, ধীরগতি, অবকাঠামোগত সুবিধার অভাব, পর্যাপ্ত যন্ত্রপাতির স্বল্পতা, যথাযথভাবে শুনানি করতে সমস্যা হওয়া ও সিস্টেমের কারণে বেশির ভাগ আইনজীবী এ কার্যক্রমের সঙ্গে সংযুক্ত হতে পারেন না।

এ পদ্ধতিতে শুধুমাত্র মামলা শুনানি ভার্চুয়ালি হলেও অন্যান্য কার্যক্রম যেমন: ওকালতনামা প্রদান, মামলার নথিপত্র দেখা, বেইল বন্ড নেয়া ও জেল খানায় জমা দেয়া ইত্যাদি কার্যক্রম সংশ্লিষ্ট দপ্তরে স্বশরীরে গিয়ে সম্পন্ন করতে হয়।

এমন অবস্থায় করোনা পরিস্থিতি বিবেচনায় কঠোরভাবে স্বাস্থ্যবিধি রক্ষা করে আদালতের নিয়মিত কার্যক্রম সীমিত পরিসরে অর্থাৎ ফৌজদারি মামলার ক্ষেত্রে জামিন শুনানি, আত্মসমর্পণ এবং আইনজীবীর মাধ্যমে নিয়মিত মামলাসমূহের হাজিরা প্রদান, নিষেধাজ্ঞা শুনানি চালু করার নির্দেশনা দিতে আবেদন জানায় এই আইনজীবী সমিতি।

  • সংবাদ সংলাপ/এমএস/বি

Sharing is caring!