নিউজ ডেস্ক :

ভারতে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে দুই লাখের বেশি মানুষের।

বুধবার সরকার প্রকাশিত পরিসংখ্যানে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ভারতে মৃত্যু হয়েছে তিন হাজার ২৯৩ জনের। এর মধ্য দিয়ে প্রায় ১৪০ কোটি মানুষের দেশটিতে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ১ হাজার ১৮৭ জনে।

যুক্তরাষ্ট্র, ব্রাজিল ও মেক্সিকোর পর চতুর্থ দেশ হিসেবে করোনায় দুই লক্ষাধিক মৃত্যু দেখল ভারত।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ভারতে রেকর্ড তিন লাখ ৬০ হাজার ৯৬০ জনের দেহে ভাইরাসটি শনাক্ত হয়। এর মধ্য দিয়ে মোট শনাক্ত দাঁড়ায় ১ কোটি ৭৯ লাখ ৯৭ হাজার ২৬৭ জনে।

সবশেষ ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি রোগী শনাক্ত হয়েছে মহারাষ্ট্র (৬৬ হাজার ৩৫৮), উত্তর প্রদেশ (৩২ হাজার ৯২১), কেরালা (৩২ হাজার ৮১৯), কর্ণাটক (৩১ হাজার ৮৩০) ও দিল্লিতে (২৪ হাজার ১৪৯)।

এক দিনে সাড়ে তিন লাখের বেশি শনাক্তের ৫২.১ শতাংশই ওই পাঁচ অঞ্চলের। মোট শনাক্তের ১৮.৩৮ শতাংশই মহারাষ্ট্রে।

অঞ্চলগুলোর মধ্যে ২৪ ঘণ্টায় মহারাষ্ট্রে সর্বোচ্চ ৮৯৫ জনের মৃত্যু হয়। দিল্লিতে মৃত্যু হয় ৩৮১ জনের।

নয়াদিল্লির পার্কে অস্থায়ী চিতা

ভারতে করোনায় মৃতের সংখ্যা অনেক বেশি হওয়ায় তাদের সৎকারে পর্যাপ্ত জায়গা পাওয়া যাচ্ছে না। বেশ কয়েকটি মরদেহ একসঙ্গে সারিবদ্ধভাবে দাহ করার ছবি এরই মধ্যে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে।

চলমান পরিস্থিতিতে মরদেহ দাহের জন্য অস্থায়ী চিতার ব্যবস্থা করতে বাধ্য হয়েছে রাজধানী নয়াদিল্লির প্রশাসন।

নয়াদিল্লির উপকণ্ঠে গাজিপুর শ্মশানে মরদেহ সৎকারের জন্য অপেক্ষা করছেন স্বজনেরা। ছবি: পিটিআই

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, সোমবার এক দিনেই রাজধানী শহরে করোনায় আক্রান্ত ৩৮০ রোগীর মৃত্যু হয়। নয়াদিল্লির বিভিন্ন শ্মশানে করোনায় মৃতদের দেহ একের পর এক আসছে। এমন বাস্তবতায় দাহকাজে হিমশিম খাচ্ছেন শ্মশানের কর্মীরা।

দাহের জন্য শব নিয়ে স্বজনদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে। তাই শ্মশানের পরিসর বাড়িয়ে কাছের পার্কসহ অন্যান্য খালি জায়গায় অস্থায়ী চিতার বন্দোবস্ত করা হয়েছে।

রাজধানীর সরাই কেল খান শ্মশানে কমপক্ষে ২৭টি নতুন চিতা তৈরি করা হয়েছে। শ্মশানটির কাছে একটি পার্কে মৃতদের সৎকারের জন্য বেশ কয়েকটা অস্থায়ী চিতারও ব্যবস্থা করা হয়েছে। এ ছাড়া দাহকাজ সম্পন্ন করতে নয়াদিল্লিতে যমুনা নদীর তীরে বাড়তি জায়গার খোঁজ করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

২২টির মতো শব দাহ করার জায়গা রয়েছে নয়াদিল্লির এমন এক শ্মশানের কর্মী বলেন, ভোর থেকে টানা মধ্যরাত পর্যন্ত দাহকাজে ব্যস্ত সময় পার করতে হয় তাদের।

অনেকে বলছেন, দাহ করার জন্য পার্কের গাছও কাটতে হয়েছে নয়াদিল্লি কর্তৃপক্ষকে। শ্মশানে একের পর এক মরদেহ আসতে থাকায় শ্মশানকর্মীরা সব মরদেহকে দাহকাজে পর্যাপ্ত সময় দিতে পারছেন না।

তারা মৃত ব্যক্তির স্বজনদের চিতায় কাঠ স্তূপ করা থেকে অন্যান্য ধর্মীয় আচারাদি পালনে সহযোগিতা করতে বলছেন। সুত্র- নিউজ বাংলা

  • সংবাদ সংলাপ/এমএস/দু

 

Sharing is caring!