মোহাম্মদ সোহেল, নোয়াখালী :
করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় গত ৫ জুন থেকে নোয়াখালী পৌরসভা ও সদর উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নে বিশেষ লকডাউনের চতুর্থ দিনেও মানুষের মধ্যে সচেতনতা দেখা যায়নি। যানজট আর মানবজটে নোয়াখালীর লকডাউন অচল হয়ে পড়েছে।

মঙ্গলবার (০৮ জুন) সকাল সাড়ে ১০টায় নোয়াখালী পৌরসভার সোনাপুর জিরো পয়েন্টে দেখা গেছে গত তিনদিনের তুলনায় মানুষ এবং গাড়ির চাপ বেড়েছে। ৮০ শতাংশ যাত্রী নিয়ে লকডাউনের দোহায় দিয়ে আদায় করা হচ্ছে তিন থেকে চারগুণ বেশি ভাড়া।

জেলা শহর মাইজদী ও শহরের আশপাশের তিনটি ইউনিয়ন ঘুরে দেখা গেছে, বেশির ভাগ মানুষের মুখে মাস্ক নেই। দোকানপাট, কাঁচাবাজারে স্বাস্থ্যবিধি মানছে না কেউ। বাজারে মানুষের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। সড়কগুলোতে যানবাহনের চাপ রয়েছে। কয়েকটি সড়কে যানজটেরও সৃষ্টি হয়েছে।

শহর থেকে দূরপাল্লার কোনো যানবাহন ছেড়ে না গেলেও অভ্যন্তরীণ সড়কে সিএনজিচালিত অটোরিকশা, ট্র্রাকসহ বিভিন্ন যানবাহন চলতে দেখা গেছে। শর্তসাপেক্ষে দুজন যাত্রী নিয়ে সিএনজি ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চলার কথা থাকলেও বিধিনিষেধ মানছে না কেউই। শহরের মূল সড়ক ছাড়া ভিতরের সড়কগুলোতে দেখা গেছে অটোরিকশাগুলো চার-পাঁচজন যাত্রী নিয়ে চলাচল করছে। এতে পৌর এলাকায় সংক্রমণ আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এদিকে মানুষেকে সচেতন করতে জেলা প্রশাসন ও নোয়াখালী পৌরসভার পক্ষ থেকে নিয়মিত সচেতনতামূলক মাইকিং করা হচ্ছে। শহরের বিভিন্ন স্থানে প্রশাসনের তৎপরতা দেখা গেছে। বিভিন্ন স্থানে বসানো হয়েছে পুলিশের চেক পোস্ট।

অন্যদিকে লকডাউনের তৃতীয় দিনে পৌরসভা ও ছয়টি ইউনিয়নে বিভিন্ন বাজারে অভিযান চালিয়ে স্বাস্থ্যবিধি অমান্য করায় ৪০টি মামলায় বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে ৩৩ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। লকডাউন কার্যকর করতে জেলা প্রশাসনের ছয়জন ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে ছয়টি ভ্রাম্যমাণ আদালত কাজ করছে।

গত শুক্রবার বিকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জেলা করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কমিটির জরুরি বৈঠকের মাধ্যমে নোয়াখালী পৌরসভা ও সদরের ছয়টি ইউনিয়ন এক সপ্তাহের জন্য লকডাউন ঘোষণা করা হয়। এ বিশেষ লকডাউন ৫ জুন ভোর ৬টা থেকে ১১জুন রাত ১২টা পর্যন্ত বলবত থাকবে।

  • সংবাদ সংলাপ/এমএস/দু

Sharing is caring!