মোহাম্মদ সোহেল, নোয়াখালী :
আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, আন্দোলনে, নির্বাচনে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের চক্রান্তে লিপ্ত হয়েছে উগ্র সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী। দুটো কাজ তারা করতে চেয়েছে, এ অপকর্মের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের প্রতি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের যে সমর্থন এই সমর্থনের দুর্গে আঘাত হানতে চেয়েছে। আর একটি প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে বিরাজমান সুসম্পর্কে ফাটল ধরানোর জন্য তারা সুগভীর চক্রান্ত করেছে বলে আমি মনে করি।

ওবায়দুল কাদের বলেন, নির্বাচন আসছে, তারা ক্ষমতা দখলের পায়তারা করছে, ১/১১ সৃষ্টির দুঃস্বপ্ন দেখছে। দেশকে অশান্ত করার জন্য এসব ঘটনা ঘটাচ্ছে। এই সম্প্রদায়িক অপশক্তির নির্ভরযোগ্য অপশক্তি হচ্ছে বিএনপি। তাদের পৃষ্টপোষকতায় মাঝে মাঝে সম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের চক্রান্ত হয়।

মঙ্গলবার (০২ নভেম্বর) দুপুরে নোয়াখালীর চৌমুহনী পৌরসভা অডিটোরিয়ামে হিন্দু সম্প্রদায়ের ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে দলের কেন্দ্রীয় কার্য়ালয় থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

এসময় নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের আহবায়ক অধ্যক্ষ খায়রুল আনম সেলিম, যুগ্ম আহবায়ক এডভোকেট শিহাব উদ্দিন শাহীন, শহিদ উল্যাহ খান সোহেল, নোয়াখালী-৩ (বেগমগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য মামুনুর রশিদ কিরন, বেগমগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ডা. এবিএম জাফর উল্যাহ, চৌমুহনী পৌরসভার মেয়র খালেদ সাইফুল্লাহ প্রমূখ চৌমুহনী থেকে ত্রাণ বিতরণ অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হন। অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ উপকমিটি।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের দলের নেতাদের উদ্দেশ্যে প্রশ্ন তুলে বলেছেন, ভোটের সময় হিন্দু সম্প্রদায়ের কাছে গিয়ে দরদ দেখালেও বিপদের সময় তাদের পাশে নেই কেন?

তিনি বলেছেন, ভোট আসলে হিন্দুদের কাছে গিয়ে আমরা যারা মায়াকান্না করি, দরদ দেখাই। হিন্দুদের বিপদের সময় আমরা তাদের পাশে দাঁড়াতে পারিনি কেন? এ প্রশ্ন আপনাদের প্রত্যেকের বিবেকের কাছে আমি রেখে গেলাম। চৌমুহনীতে হিন্দুদের ওপর হামলার সময় সেখানকার স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা নিরব দর্শকের ভূমিকায় ছিল কিনা এমন প্রশ্নও তুলেছেন তিনি। এ ঘটনায় নোয়াখালীর সন্তান হিসেবে নিজে দুঃখ ও লজ্জা পেয়েছেন বলেও জানিয়েছেন ওবায়দুল কাদের।

নোয়াখালীর দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘চৌমুহনীতে গত ১২ বছর এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি। নোয়াখালীতে পূজামন্ডপে কোনো হামলা হয়নি। এবারের তান্ডবটা কেন হলো, কীভাবে হলো, আমি সেখানকার নেতৃবৃন্দকেই সেটা প্রশ্ন রাখতে চাই। কুমিল্লায় যখন এ ঘটনা ঘটেছে, এতগুলো পূজামন্ডবে, চৌমুহনীতে আপনারা কেন সতর্ক হলেন না।

তিনি বলেন, আমাদের এত বড় সংগঠন, এত কর্মী বাহিনী। কুমিল্লার ঘটনার পরদিন, চৌমুহনীর ঘটনা ঘটেছে। যদি কঠোরভাবে সতর্কতা আপনারা অবলম্বন করতেন, আওয়ামী লীগ সতর্ক থাকলে এদের এত দুঃসাহস হতো, এ রকম তান্ডব চৌমুহনীতে তারা করে গেল। সবকিছুতে প্রশাসনের দিকে তাকিয়ে থাকা ঠিক না বলেও উল্লেখ করেন ওবায়দুল কাদের।

দুর্গাপূজায় সারা দেশে উৎসবমুখর পরিবেশের মধ্যে গত ১৩ অক্টোবর ভোরে কুমিল্লার নানুয়ার দিঘির পাড়ের একটি মন্ডপে পবিত্র কোরআন শরীফ পাওয়ার পর ছড়িয়ে পড়ে সহিংসতা।

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার ছয়ানী ইউনিয়নে ১৪ অক্টোবর সন্ধ্যায় এবং পরদিন শুক্রবার দুপুরে একই উপজেলার চৌমুহনী পৌর এলাকায় ১১টি পূজামন্ডপে হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা। লুটপাট করা হয় মন্দিরের আসবাবপত্র, স্বর্ণালংকার, ভাঙচুর করা হয় প্রতিমা।

হামলায় প্রাণ হারান প্রান্ত চন্দ্র দাস নামে এক যুবক, আতঙ্কে হৃদরোগে যতন সাহা নামে আরেকজনের মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে যতনের পরিবারের অভিযোগ, তিনিও হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন।

বেগমগঞ্জের দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে সেতুমন্ত্রী বলেন, সেখানে দুটি প্রাণহানি ঘটল। আমাদের বিবেক কী আলোড়িত হচ্ছে না। আমি বলব, আমাদের দায়িত্বপালনে ব্যর্থতা আছে। সেটা নিজেরা খুঁজে বের করুন। এ ধরনের ঘটনা পুনরাবৃত্তি রোধে আপনাদের সতর্কতার উপায় খুঁজে বের করতে হবে।

এতগুলো মন্ডপ চৌমুহনীতে জ্বালিয়ে-পুড়িয়ে দিলো আপনারা কী নিরব দর্শক হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। একটা প্রতিরোধও তো হলো না, এটা নোয়াখালীর সন্তান হিসেবে আমাকে দুঃখ দিয়েছে। আমি নিজে লজ্জা পেয়েছি। কী জবাব দেব আজকে হিন্দু সম্প্রদায়ের কাছ।

বেগমগঞ্জের হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষদের উদ্দেশ্যে ওবায়দুল কাদের বলেন, শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগ আপনাদের সঙ্গে আছে। আপনাদের যে ক্ষতিগ্রস্থ পূজামন্ডপ, মন্দির ও ঘরবাড়ি যেগুলো পুড়ে গেছে, সেগুলো সরকারিভাবে করে দেয়া হবে। এ ব্যাপারে আমি সরকারের পক্ষ থেকে আপনাদের আস্বস্ত করছি। মন্দিরগুলার কোন কোনটি পুননির্মাণ, যেগুলোর সংস্কার করার দরকার, সংস্কার এবং যারা যেভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে ক্ষতি পূরণের জন্য সবকিছু করা হবে।

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বলেন, শেখ হাসিনা সরকার মুখে নয় অন্তরে সাম্প্রদায়িক সম্প্রতিতে বিশ্বাস করে। শেখ হাসিনা আপনাদের আপনজন। এ ঘটনায় সরকার আপনাদের সঙ্গে আছেন, এ কথা আপনাদের আস্বস্ত করছি।

  • সংবাদ সংলাপ/এমএস/রা

Sharing is caring!