মোহাম্মদ সোহেল, নোয়াখালী :
নোয়াখালীর সুবর্ণচরে এক গৃহবধূর স্বামীকে গাছের সাথে বেঁধে রেখে গৃহবধূকে জোরপূর্বক ধর্ষণের অভিযোগে আইয়ু আলী (২৯) নামের এক যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার ভোর রাতে চরজব্বার থানায় ধর্ষণের অভিযোগে ৬জনকে আসামী করে মামলা করেন ভুক্তভোগী গৃহবধূ। এরআগে সোমবার দিবাগত রাতে উপজেলার ৫নম্বর চরজুবিলী ইউনিয়নের চর জিয়া উদ্দিন গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নির্যাতিতা গৃহবধূ চর জিয়া উদ্দিন গ্রামের শাহাদাত হোসেনের স্ত্রী।

ভুক্তভোগী গৃহবধূর বরাত দিয়ে পুলিশ ও এলাকাবাসী জানান, সোমবার রাত ১২টায় চর জিয়া উদ্দিন গ্রামের শাহাদাত হোসেনের বাড়িতে ডাকাতি করার উদ্দেশ্যে তার বসত ঘরের দরজা ভেঙ্গে ভিতরে প্রবেশ করে অভিযুক্ত ধর্ষক চর জিয়া উদ্দিন গ্রামের আবু তাহেরর পুত্র আইয়ু আলী, মৃত শাহ আলমের পুত্র মো. কবির হোসেন, হুকু সারেং এর পুত্র সাইফুল ইসলাম, মফিজ পাটোয়ারীর পুত্র মাকসুদ, অজ্ঞাত সাহাব উদ্দিন ও বাদশা (৩২)।

এসময় ডাকাতরা অস্ত্রের মুখে ঘরের সবাইকে জিম্মি করে পেলে এবং শাহাদাতকে মারধর করে তার সন্তানদেরসহ তাকে ঘরের বাহিরে নিয়ে যায়। পরে শাহাদাতকে গাছের সাথে বেঁধে রেখে আইয়ুব আলী গৃহবধূকে ঘরের একটি রুমে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। ডাকাত দলের অন্য সদস্যরা ঘরের আলমারি ভেঙ্গে নগদ টাকা এবং স্বর্ণালংকার লুট করে পালিয়ে যায়।

পরে সময় শাহাদাত হোসেন ও গৃহবধূর শৌর-চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে শাহাদাত ও তার সন্তানদের উদ্ধার করে থানায় খবর দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আহত শাহাদাতকে উদ্ধার করে সুবর্ণচর উপজেলা স্বাস্ব্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন এবং ভুক্তভোগী গৃহবধূকে থানায় নিয়ে যায়। পরে ওই গৃহবধূর অভিযোগের ভিত্তিতে স্থানীয় চর মিজান গ্রামে অভিযান চালিয়ে আইয়ুব আলীকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

প্রত্যক্ষদর্শী আবুল খায়ের এবং আব্দুল করিম বলেন, আমরা তাদের শৌর-চিৎকার শুনে দৌঁড়ে এসে শাহাদাতকে গাছের সাথে বাঁধা অবস্থায় দেখে পুলিশে খবর দিই। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

চরজব্বার থানার ওসি জিয়াউল হক ঘটনার সতস্যতা নিশ্চিত করে করে বলেন, নির্যাতিতা গৃহবধূর লিখিত অভিযোগের পর আভিযুক্ত প্রধান আসামি আইয়ুব আলীকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। অপর আসামিদের গ্রেফতারের জন্য পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

  • সংবাদ সংলাপ/এমএস/স

Sharing is caring!