নোয়াখালী প্রতিনিধি :
নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার চর জুবলী ইউনিয়নে হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে রাতের আধারে দেশীয় অস্ত্র-সস্ত্র নিয়ে ককটেল বিষ্ফোরণ ঘটিয়ে প্রতিপক্ষের কৃষি জমি দখলের চেষ্টা করেছে সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসীরা। সন্ত্রাসীরা গত এক সপ্তাহ ধরে ওই জমির এলাকায় অস্ত্রের মহড়া দিয়ে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটনানোর কারণে গ্রামবাসীর মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

ভুক্তভোগী নোয়াখালী জেলা সদরের বিনোদপুর ইউনিয়নের শুক্কুরপুর গ্রামের আবদুল মান্নানের ছেলে ফরহাদ হোসাইন বলেন, জেলার সুবর্ণচর উপজেলার উত্তর কচ্ছপিয়া গ্রামের সামছুল হকের ছেলে মো. মফিজ উল্যাহ, হেদায়েত উল্যা ও ছানা উল্যাহদের সাথে আমাদের জায়গা-জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। ওই বিরোধের জের ধরে প্রতিপক্ষের সন্ত্রাসীরা আমিসহ আমার পরিবারের সদস্য ও বর্গা চাষীকে মারধরের হুমকি দিয়ে আসছে।

ফরহাদ হোসাইন বলেন, উপজেলার চর জুবলী মৌজার সাবেক ১৯৬৮ নম্বর খতিয়ানের ২৪১৭৪ নম্বর দাগ হালে ২৬৮ নম্বর চর মহিউদ্দিন মৌজার ডিপি ৯৩২ নম্বর খতিয়ানের ৩৪১ নম্বর দাগে ২.৫০ একর কৃষি জমি খরিদ সূত্রে মালিক হয়ে গত ৪০ বছর যাবৎ নিজে এবং বর্গা চাষীদের মাধ্যমে চাষাবাদ করে ভোগদখলে আছি আমরা।

সম্প্রতি প্রতিপক্ষের লোকজন আমার মালিকীয় ও দখলীয় জমিতে অংশীদার দাবি করলে আমরা আদালতের দারস্থ হলে আদালত আমাদের পক্ষে রায় প্রদান করে। পরবর্তীতে প্রতিপক্ষ আমাদের রায়ের বিরুদ্ধে নিন্ম আদালতে আপিল করলে তাদের পক্ষে ডিগ্রি হয়েছে বলে জানতে পেরে আমরা পুনরায় মহামান্য হাইকোর্টের সিভিল রিভিশন নম্বর-২২৪১/২০২১ইং আনায়ন করলে হাইকোর্ট গত ২১ নভেম্বর বিরোধীয় জমিতে ৬ মাসের স্থগিতাদেশ প্রদান করে। হাইকোর্টের স্থগিতাদেশ অমান্য করে গত ৩০ নভেম্বর ভোর রাতে প্রতিপক্ষের লোকজন ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী এনে দেশীয় অস্ত্র-সস্ত্র নিয়ে ককটেল বিষ্ফোরণ ঘটিয়ে আমার মালিকীয় জমিতে একটি কাঁচা ঘর নির্মাণ করে দখলের চেষ্টা করে। এসময় খবর পেয়ে আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের বাঁধা দিলে সন্ত্রাসীরা আমাকে এবং আমার বর্গা চাষীকে হামলা চালিয়ে হত্যা চেষ্টা করে এবং জমির কাছে গেলে আমাকে এবং আমার বর্গা চাষীকে হত্যা করে লাশ গুমের হুমকি দেয়। এ ঘটনায় চরজব্বর থানায় মামলা দায়ের করেন ভুক্তভোগী ফরহাদ হোসাইন।

স্থানীয় বাসিন্দা আবদুল কাদের, আবদুল করিম ও আজিমা খাতুন বলেন, এই জমিটি দীর্ঘ ৩০-৩৫ বছর ধরে ভোগদখলে থেকে বর্গা চাষীদের দিয়ে চাষাবাদ করিয়ে আসছেন জেলা সদরের বিনোদপুরের ফরহাদ হোসাইন নামের এক ব্যক্তি। হঠাৎ গত এক সপ্তাহ আগে ভোর রাতের দিকে ককটেল পাঠিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে ওই জমিতে জোরপূর্বক ঘর তোলে দখলের চেষ্টা করে উত্তর কচ্ছপিয়া গ্রামের সামছুল হকের ছেলেরা।

স্থানীয় আবদুল মালেক, দেলোয়ার হোসেন ও মো. রাজু বলেন, জায়গা-জমি নিয়ে তাদের দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছে। ওই বিরোধের জের ধরে গত এক সপ্তাহ যাবৎ সন্ধ্যার পর ককটেল বিষ্ফোরণ ঘটিয়ে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করা হচ্ছে। এতে স্থানীয়দের শান্তিশৃঙ্খলা বিনষ্ট হচ্ছে। আমরা বিষয়টি মুখিকভাবে থানায় জানিয়েছি।

ওই জমির বর্গা চাষী নরুল ইসলাম ও আজাদ মাঝি বলেন, আমরা দীর্ঘ ১৪ বছর ধরে ফরহাদ হোসাইনের এই জমিতে চাষ করে আসছি। চলতি মৌসুমেও জমিতে ধান চাষ করেছি এবং ধানের মধ্যে খেসারীর ডাল চাষ করেছি। হঠাৎ গত ৩০ নভেম্বর সামছুল হকের ছেলে মো. মফিজ উল্যাহ, হেদায়েত উল্যা ও ছানা উল্যাহর নেতৃত্বে সন্ত্রাসীরা জমিনের কিছু অংশের ধান কেটে নিয়ে গেছে এবং খেসারীর ডাল নষ্ট করে ফেলেছে। আমরা বাঁধা দিতে গেলে সন্ত্রাসীরা আমাদের ওপর হামলা করে।

প্রতিপক্ষ সামছুল হকের ছেলে মো. মফিজ উল্যাহ বলেন, এটি আমাদের জমি। আদালতের রায়, ডিগ্রি সবই আমাদের। নরুল ইসলাম ও আজাদ মাঝিরা আমাদের জমি লুটেপুটে খাচ্ছে। আমরা এখানে ঘর নির্মাণ করার পরে আদালতের নিষেধাজ্ঞার চিঠি পেয়েছি। আমরা আদালতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল, নিষেধাজ্ঞা অবস্থায় এখানে আর কোন কিছু নির্মাণ করবো না।

চরজব্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জিয়াউল হক জানান, ওই জমিতে আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে দখলের চেষ্টা করায় থানায় একটি মামলা হয়েছে। মামলার একজন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

  • সংবাদ সংলাপ/এমএস/বি

Sharing is caring!